মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ , ১১ জিলকদ ১৪৪২

ফিচার
  >
মানচিত্র

সারা পৃথিবীর বিস্ময় আরব আমিরাত

নিউজজি ডেস্ক ৩০ মে , ২০১৮, ১১:৩৫:১১

  • সারা পৃথিবীর বিস্ময় আরব আমিরাত

লোকের টাকা হলেই দুবাই যাবার স্বপ্ন দেখে। বড়লোকের টাকা বেশি হলে আর খুব বেশি উপভোগ্য জীবন কাটাতে ইচ্ছে হলে দুবাই যাবার জন্য মরিয়া হয়। এক দুবাই নিয়ে সারা পৃথিবীতে কম গল্প লেখা হয় নাই। দুবাই মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যখণ্ড। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত আরব উপদ্বীপে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বে এবং ওমান উপসাগরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি দেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত ৭টি আমিরাত দ্বারা গঠিত এবং এটি একটি যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭১ সালের ২রা ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। সাতটি আমিরাতের মধ্যে ছ’টি (আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান, উম্মুল কুয়াইন এবং ফুজিরা) ঐ দিন সংযুক্ত হয়। সপ্তমটি, রাস-আল-খাইমা, ১৯৭২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে যোগদান করে। 

১৯শ শতকে ব্রিটিশদের স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি অনুসারে সাতটি রাষ্ট্র পূর্বে চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র নামে পরিচিত ছিল। আমিরাতে প্রাপ্ত হস্তনির্মিত বস্তু থেকে এই অঞ্চলের মনুষ্য বসতিস্থাপনের ও মেসোপটেমিয়ার মত সভ্যতার সঙ্গে স্থানীয় বাণিজ্য চলাচলের সুপ্রাচীন ইতিহাস পাওয়া যায়। এই অঞ্চলের উপকূলে ও অভ্যন্তরস্থ স্থানে কিছু সংখ্যক উপজাতি প্রথমে বসতি স্থাপন করে এবং তাদের খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে ইসলামীকরণ করা হয়। আলবুকার্কের নেতৃত্বে পর্তুগিজ আক্রমণের সময় এই অঞ্চলের উপকূলবিভাগে বেশ কিছু রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। 

চুক্তিবদ্ধ উপকূলের অধিবাসী এবং ব্রিটিশদের মধ্যে সংঘাতের ফলস্বরূপ ব্রিটিশরা একবার ১৮০৯ সালে এবং আরো একবার ১৮১৯ সালে রাস-আল-খাইমা লুন্ঠন করে; এর ফলে ১৮২০ সালে চুক্তিবদ্ধ শাসকদের সঙ্গে ব্রিটিশদের প্রথম কিছু চুক্তি স্থাপিত হয়। চিরস্থায়ী উপকূলীয় শান্তির চুক্তিসহ, আরো বেশ কিছু চুক্তি ১৮৫৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে ১৯৩০-এর দশক পর্যন্ত উপকূল অঞ্চল বরাবর শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় ছিল; এরপর মুক্তোর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই উপকূল অঞ্চলের অধিবাসীদের অত্যন্ত দুর্দশার মধ্যে পড়তে হয়। 

১৯৬৮ সালে ব্রিটিশরা একটি সিদ্ধান্তে আসে যে তারা চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর ওপর নিজেদের কার্যকলাপ বন্ধ করবে এবং একটি যুক্তরাষ্ট্র গঠন করবে। এই সিদ্ধান্তটি চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্রের সবথেকে প্রভাবশালী দুই নেতা – আবুধাবির শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান এবং দুবাইয়ের শেখ রশিদ বিন সৈয়দ আল মাকতুম সমর্থন করে। এরা দুজন অন্যান্য চুক্তিবদ্ধ শাসকদের এই যুক্তরাষ্ট্রে যোগদান করবার আহ্বান জানায়। একটা সময় মনে হয়েছিল, বাহরাইন এবং কাতার এই ইউনিয়নে যোগদান করবে, কিন্তু তারা স্বাধীন থাকবারই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। 

বর্তমান সময়ে আমিরাত হল একটি আধুনিক তেল রপ্তানীকারক রাষ্ট্র, যার অর্থনীতি খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ; বিশেষত দুবাই হল পর্যটন, খুচরা বিক্রয় এবং আর্থিক যোগানের একটি বিশ্বকেন্দ্র ও এখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ইমারত এবং সর্ববৃহৎ মনুষ্য-নির্মিত সমুদ্রবন্দর রয়েছে।

আরব আমিরাত সম্পর্কে মানুষের কৌতূহলের শেষ নাই। তাই কিছুটা কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়া যাক। 

১. সাতটি আমিরাতকে সংযুক্ত করে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে আরব দুনিয়ার এই দেশ। দেশের রাজধানী আবু ধাবি হল বৃহত্তম আমিরাত। গোটা দেশের আয়তনের ৮৭ শতাংশ রাজধানীর দখলে। ক্ষুদ্রতম হল আজমান, মাত্র ২৫৯ কিমি যার আয়তন। 

২. যদিও আবু ধাবি বৃহত্তম তবুও জনসংখ্যায় এগিয়ে দুবাই আমিরাত। আর কে না জানে জনপ্রিয়তায় দুবাই-ই হল বিশ্বের অগ্রণী ভ্রমণস্থান। 

৩. দেশে ভিনদেশিদেরই আধিক্য বেশি। আরব দুনিয়ার বাসিন্দা এখানে সংখ্যায় নগন্য। পশ্চিম এশিয়ার ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগর ঘেরা এই দেশের দেশের জনসংখ্যার ২৭.১৫ শতাংশই ভারতীয় প্রবাসী। 

৪. আমিরাতে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালানো বেশ মেহনতের কাজ। এমনটা ভেবে থাকলে বিপদ। কারণ, দুবাই পুলিশের ভাঁড়ারে রয়েছে ল্যামবর্ঘিনি, বেন্টলি এবং ফেরারির মতো ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস গাড়ি। 

৫. গৃহিণীর জন্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের উপহার কিনতে হবে? হাতে সময়ও নেই বেশি? কুছ পরোয়া নেহি। এই দেশে আছে গোল্ড এটিএম। হ্যাঁ, ঠিক পড়েছেন- সোনা। সেই এটিএম-এ টাকা ঢোকালেই মিলবে দামি গয়না ও সোনার ঘড়ির মতো জিনিস। 

৬. আরব দুনিয়ার এই দেশের এক শীর্ষ মৌলবির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের উচ্চতম বিল্ডিং বুর্জ খলিফার ৮০ তলার উপরে যাঁরা বাস করেন তাঁদের রমজানের সময় অতিরক্তি ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় ইফতারের জন্য। কারণ, উঁচুতে সূর্যকে বেশ কিছুক্ষণ দেখতে পান তাঁরা। 

৭. আবু ধাবির মাসদার শহর পুরোপুরি সৌরশক্তি ও অন্যান্য বিকল্প শক্তিতে নির্ভরশীল। প্রাইভেট গাড়ি এ শহরে নিষিদ্ধ। পরিবহণ ব্যবস্থা এখানে ইলেকট্রিক গাড়ি, পরিশুদ্ধশক্তির গাড়ি এবং ব্যক্তিগত পড কারের উপরই টিকে রয়েছে। ভাবুন, দূষণের কোনও নামগন্ধ নেই।

৮. বুর্জ খলিফার আদতে নাম রাখা হয়েছিল বুর্জ দুবাই। কিন্তু রিসেশনের সময় এই বিল্ডিং নির্মাণে আবুধাবি সাহায্য করেছিল বলে শেখ খলিফার নামে এর নামকরণ হয়। 

৯. আবুধাবিতেই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর বিনোদন পার্ক ফেরারি ওয়ার্ল্ড। 

১০. বিশ্বের কর্মরত ক্রেনের ২৫ শতাংশই দেখা যাবে দুবাইয়ে। এই দেশ অনবরত নির্মীয়মাণ। উন্নতির যেন কোনও বিরাম নেই!

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers