সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

ফিচার
  >
ফেসবুক কর্ণার

ক্ষেতমজুরের শ্রমের মূল্য অতি সামান্যই রয়ে গেল

অর্নব সরকার ২৮ এপ্রিল , ২০২০, ১১:২৯:১৬

  • ক্ষেতমজুরের শ্রমের মূল্য অতি সামান্যই রয়ে গেল

কর্মহীন হয়ে দিন আর চলে না। তা্ই হাওরে ধান কাটতে এই করোনা মহামারির মধ্যেও ক্ষেতমজুররা দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন। কিন্তু এখানে প্রায় ১২-১৩ ঘন্টা কাজ করেও মিলছে না ন্যায্য মজুরি।

আজ কথা হয় নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নে ধান কাটতে আসা এক ক্ষেতমজুরের সাথে। সিরাজগঞ্জের চোয়ালি থেকে ৩৪জনের একদল ক্ষেতমজুর এসেছেন হাওরে ধান কাটতে। তাদের বয়স বিশ থেকে ষাট পর্যন্ত। নৌকা ভাড়া করে নিজেরাই চালিয়ে পনের দিন আগে আসেন এই অঞ্চলে। একটু ভাল রোজগারের আশায় এতদূর থেকে যুদ্ধ করে এসে তারা রাতদিন ধান কেটে চলেছেন।

প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তারা ধান কাটেন।

রাতে তারা সবা্ই একসাথে ঐ নৌকাতেই ঘুমান। ঘুম থেকে উঠেন ভোরের আযানের পূর্বেই। তারপর আস্তে আস্তে ক্ষেতের দিকে কাস্তে হাতে নিয়ে ধান কাটতে যান। সকাল ও দুপুরের খাবার খান ধান ক্ষেতে বসেই।

একজন রান্না করে ধান ক্ষেতে খাবার নিয়ে আসেন। আজ তারা সকালে খেয়েছেন ভাত আর আলু ভর্তা, দুপুরে অবশ্য মাছ ছিল। রাতে খেয়েছেন মুসুরির ডাল দিয়ে। ক্ষেতে খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় নদী বা খালের পানি খেয়ে থাকেন তারা। পঞ্চাশ কেজির ষোল বস্তা চাল নৌকায় করে সিরাজগঞ্জ থেকে দুই হাজার পঞ্চাশ টাকা দরে কিনে এনেছেন। স্থানীয় বাজার থেকে ডাল, আলু, তেল, মাছ ইত্যাদি কেনাকাটা করেন তারা। প্রতিদিনি গড়ে চৌত্রিশজন মানুষের প্রায় দুই হাজার টাকার বাজার করতে হয়।

এখানে তারা কাঠা হিসাবে ধান কাটেন। প্রতি কাঠায় প্রায় সাত মণ ধান হয়। সাত মণ ধানের ছয় মণ কৃষক আর এক মণ পায় তারা। প্রতিদিন বত্রিশজন ক্ষেতমজুর ত্রিশ থেকে বত্রিশ কাঠা জমির ধান কাটতে পারে। সেই হিসাবে তারা দৈনিক চৌত্রিশ জনে মিলে ত্রিশ থেকে বত্রিশ মণ ধান উপার্জন করে। বাকি দুজনের একজন বাজার ও রান্না করে ও খাবার পৌছে দেয়। অন্যজন পরের দিন কোথায় ধান কাটা আছে তার চুক্তি করতে বেরিয়ে পরেন।

তারা ত্রিশ দিনের কাজ করার চিন্তা করে হাওরে এসেছেন ধান কাটতে। পানি না ওঠলে আরও পনের দিন তারা ধান কাটতে পারবেন। পনের দিন বা ত্রিশ দিন যে কদিন লাগুক, নৌকার মালিককে ভাড়া বাবদ দিতে হবে সত্তর মণ ধান। নৌকায় আসা যাওয়ার তেল খরচ ত্রিশ হাজার টাকা।

বর্তমানে হাওরে ধানের দাম ছয়শত থেকে সাড়ে ছয়শত টাকার মধ্যে। যদি ত্রিশদিন ধান কাটতে পারে তবে খাবার ও যাতায়াত খরচ বাদ দিয়ে তাদের দৈনিক মজুরি দাঁড়ায় সাড়ে চারশত টাকা। যদি এর আগেই কাজ শেষ করে চলে যেতে হয় তাহলে মজুরি গড়ে আরো কমে যাবে।

তবে তাদের টাগেট হলো সারা বছরের চালের নিশ্চয়তা যেন তারা করতে পারে। কাজ শেষে যা ধান হবে সমান ভাগ করে তারা ঘরে নিয়ে যাবে। পরিবার-পরিজন বাড়িতে রেখে রোদ, বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত উপেক্ষা করে ধান কাটতে আসা ক্ষেতমজুরের শ্রমের মূল্য অতি সামান্যই রয়ে গেল।।

অর্নব সরকার

সহ সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers