মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ , ৪ জিলকদ ১৪৪২

ফিচার
  >
ফেসবুক কর্ণার

সরবে মুক্তি, নীরবে বন্দী

মোস্তফা ফিরোজ ৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৯, ১৮:৫০:৫৩

  • ছবি : মোস্তফা ফিরোজের ফেসবুক থেকে

ঢাকা : মঙ্গলবার একই দিনে দু'টি আলোচিত কারা বন্দী ও কারা মুক্তির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে হত্যা মামলার আসামীর জামিন হয়েছে। আর মানহানি মামলার আসামীর জামিন বাতিল হওয়ায় কারাগারে ঠাঁই হয়েছে। মাসুদা ভাট্টির দায়ের করা মানহানির মামলায় বিচারিক আদালত ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, নানা নাটকীয়তা পর বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামী আয়শা মিন্নীর জামিন বহাল থাকায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। একই দিনে দু'টি কারামুক্তি ও কারাবন্দীর খবর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মিডিয়াতে মিন্নীর কারামুক্তির খবরটি সবচেয়ে গুরুত্ব সহকারে প্রচার হয়েছে। খবরের পাশাপাশি টিভি মিডিয়াতে এটা নিয়ে আলোচনাও বেশি হয়েছে। 

মিন্নীর কারামুক্তি খবর ও আলোচনা মিডিয়াতে যতোটা প্রধান্য পেয়েছে, মইনুল হোসেনের পুনরায় কারাবন্দীর বিষয়টি কেবল খবরে এসেছে, আলোচনায় তেমন আসেনি বললেই চলে।

বরগুনার বহুল আলোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রথমে সাক্ষী হয়ে পরে আসামী হবার কারনে মিন্নী সাধারণ একজন নারী হবার পরও ঘটনার গুরুত্বের কারণে তিনি রাতারাতি 'ভিআইপি' বনে গিয়েছেন। এই কারনেই মিন্নীর মুক্তির প্রতি সবার নজর ছিলো। তার মুক্তি নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আগ্রহের মাত্রাটাও বেশিই ছিলো। এই কারনে মিন্নীর মুক্তির খবর ও আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। মিন্নী নারী হবার কারনেও তার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের সামাজিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত ছিলো।

অন্যদিকে, ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পুত্র হবার কারনে প্রটোকল অনুযায়ী তিনি ভিআইপি বা একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু তারপরও পুনরায় তার কারাবন্দী হবার খবরটি তেমন গুরুত্ব পায়নি মিডিয়াতে। তার মামলার বিষয়বস্তু ছিলো মানহানি সংক্রান্ত। যদিও তিনি বিরোধী ঐক্যফ্রন্ট গঠন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকায় তার একটি রাজনৈতিক পরিচিতিও আছে। যার কারনে মইনুল হোসেনকে নিয়ে রাজনৈতিক বিভক্তিও আছে।

একটি টেলিভিশন টকশো'তে মইনুল হোসেন 'চরিত্রহীন' শব্দ উচ্চারণ করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এই মানহানির মামলায় গত বছর ২২ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় পুলিশ প্রহরায় কুষ্টিয়ার আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। তিন মাস জেল খেটে তিনি জানুয়ারি মাসে উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়ে মুক্তি পান। মুক্তি পাবার পর ব্যারিষ্টার মইনুল মিডিয়ার সামনে আর আসেননি। এরপর জানা গেলে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্র পক্ষ তার জামিন বাতিলের আবেদন করলে উচ্চ আদালত তাকে নিম্ন আদালতে জামিন প্রার্থনার জন্য হাজিরা দিতে বলেন। কিন্তু মামলাটি 'গুরুত্বপূর্ণ ' বিবেচনা করে মইনুল হোসেনের জামিন বাতিল করা হয়। 

ব্যারিষ্টার মইনুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো ঘটনাটি এক সময়ে যতোটা আলোচিত ছিলো সময়ে ব্যবধানে সেই আলোচনা স্তিমিত হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বরগুনার হত্যাকান্ডের ঘটনাটি দলমত নির্বিশেষে এখনো সবার মনে তরতাজা থাকায় মিন্নীর কারামুক্তির খবরটি মইনুল হোসেনের কারাবন্দীর খবরটিকে ছাড়িয়ে গেছে।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers