মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ , ১৬ মুহররম ১৪৪৬

ফিচার
  >
ফেসবুক কর্ণার

সুশিক্ষিত : স্বশিক্ষিত না উচ্চশিক্ষিত!

নিশক তারেক আজিজ ৯ মে , ২০২৪, ১৪:৫৮:০৯

81
  • সুশিক্ষিত : স্বশিক্ষিত না উচ্চশিক্ষিত!

কলম্ব থেকে দেশে ফেরার সময় একটা এয়ার ক্রাফটের ৬ জন ক্রু ছাড়া সর্বমোট ৭৪ জন যাত্রীর মধ্যে এক গ্রুপেরই ৬৮ জন। বাকি ৬ জনের মধ্যে মনে হয় আমিই একমাত্র অভাগা বাংলাদেশি, যে তাদের সব কথা বুঝেও না বোঝার ভান ধরে মুখ ঢেকে বসে ছিলাম। গ্রুপের সবার গায়েই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টি-শার্ট। বয়স আর কথাবার্তায় বোঝা যাচ্ছে সবাই সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো পোস্টে কর্মরত। তাদের মধ্যে যদি ২০ জন যাত্রীও একসাথে কথা বলেন, সেটাও কিন্তু বিকট আকার ধারণ করার কথা।

অথচ এনারা কথা বলছেন প্লেনের এমাথা থেকে ওমাথা, যেমন 9A এর যাত্রী চিৎকার করে কথা বলছেন 42D এর যাত্রীর সাথে।  সবাই মোটামুটি নার্সারীর বাচ্চাদের মত চিৎকার চেঁচামেচি করছেন। আর তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে প্রত্যেকের হাতেই স্মার্ট ফোন থাকায়, অনেকেই ভিডিও বা ছবি তোলায় ব্যস্ত।

ফ্লাইটের কেবিন ক্রু'রা তাদেরকে শান্ত হতে বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। টাকা দিয়ে টিকেট কেটেই তো প্লেনে উঠেছেন। এর মধ্যে প্লেন ছাড়ার ঘোষণা। কেবিন ক্রু'রা সেফটি কিটের ব্যবহার দেখানোর জন্য আইলে দাঁড়িয়ে গেছেন। আর সাথে সাথেই সকলের মোবাইল ক্যামেরা বিমান বালাদের দিকে। যতবারই অনুরোধ করছেন ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য। একজন বন্ধ করলে অন্যজন ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। তাকে ইশারা করে বসালে, পাশের জন শুরু করছেন।

যেহেতু বাজেট এয়ার, তাই স্বভাবতই ফ্রি খাবার না দিয়ে বিক্রি করার কথা। কিন্তু কেবিন ক্রু'রা ট্রলি নিয়ে বের হওয়ার পর থেকেই তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে টিজ করা শুরু হলো। কেউ কেউ নিজের কাছে থাকা বাদাম-চানাচুরের প্যাকেট নিয়ে লোকাল বাসের মত হকারী করা শুরু করলেন। একজন তো নিজেদের মধ্যে দুই ডলারে এক প্যাকেট বিক্রি করতে পেরে সে কি বিজয়ের উল্লাস! ঠিক যেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জয়।

এরমধ্যে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ভিতর থেকে সিট বেল্ট বাঁধার সংকেত জ্বালিয়ে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে সিটে বসার জন্য। একজনকে দেখলাম, সিটের উপর পা তুলে জানালার দিকে (হয়তো গায়েবী) কেবলা মুখ করে বসে নামাজ আদায় করছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা।  মনে হচ্ছে, পাগলকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে নৌকা না দোলানোর জন্য! 

অবশেষে টানা তিন ঘন্টার কমেডি-এডভেঞ্চার মুভি উপভোগ করতে করতেই  ল্যান্ড করার ঘোষণা আসলো। এবার শুরু হলো, এয়ারক্রাফট থেকে নামার কমন প্রতিযোগিতা। প্লেন বাংলার মাটি ছোঁয়ার সাথে সাথে রানিং অবস্থায়ই সবাই হুড়মুড় করে উঠে কেবিন থেকে লাগেজ বের করে আইলে দাঁড়িয়ে গেছেন, যেন বাঁশি বাজলেই দৌড় দিতে পারেন।

এরপর স্বভাবতই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে গেট খুলতে যে ২০-৩০ মিনিট সময় লাগলো, ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই তালগাছের মত ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলেন অস্থির হয়ে। তবে, বাসের মত জানালা দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ থাকলে এই জাতিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব হতো না। অবশেষে গার্মেন্টস্ বা স্কুলের ছুটির ঘন্টা পড়ার মতোই, সিগন্যাল পেয়ে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বাংলার বুকে। আমিও স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলে গর্বিত ফুরফুরা মনে বাংলার মাটিতে পদার্পণ করলাম।

নিশক 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

ঢাকা, বাংলাদেশ।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন