সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৫ জিলহজ ১৪৪২

ফিচার
  >
প্রাণী ও পরিবেশ

ফ্রিগেটবার্ড: সমুদ্রের “ডাকু পাখি”

নিউজজি ডেস্ক ২১ জুন , ২০২১, ১৬:২০:১২

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: ফ্র্রিগেটবার্ড একটি বৃহদাকার সামুদ্রিক পাখি। এর কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্র্রিগেটবার্ড প্রজাতিটি বৃহত্তম। এদের দেহের পালক তামাটে-কালো এবং পা ধূসর-কালো। মাদি ফ্রিগেটবার্ডের চেয়ে মর্দা ফ্রিগেটবার্ডকে সহজে চেনা যায়। কারণ এদের ঠোঁটের নিচে একটি উজ্জ্বল লাল রঙের থলে থাকে। তারা এটি বলুনের মতো ফুলিয়ে সঙ্গীকে আকর্ষণের চেষ্টা করে থাকে। মাদি ফ্রিগেটবার্ডের গায়ের রঙ কালো। পা গোলাপি। বুক সাদা। পাখায় তামাটে ফুট থাকে। গলার নিচে থলে থাকে না। তবে এরা আকারে মর্দা পাখির চেয়ে বড়ো হয়ে থাকে।

ফরাসি প্রকৃতিবিদ জাঁ-ব্যাপিÍস্ত দু তের্ত্রে ১৬৬৭ সালে এই পাখির নাম রাখেন। তিনি এ পাখিকে জাহাজে ডাকাতি করার জন্য জলদস্যুদের ব্যবহৃত দ্রুতগামী ফ্রিগেট জাহাজের সঙ্গে তুলনা করেন। চার্লস ডারউইন যখন এই পাখিটি প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তিনি মুগ্ধ হয়ে এটিকে ‘সমুদ্রের কনডর’ নাম দিয়েছিলেন। এরও আগে ব্রিটিশ ও স্প্যানিশরা এদের ম্যান-অব-ওয়ার বা ডাকু পখি বলে ডাকতো। নামের সঙ্গে এদের আচরণের বেশ মিল রয়েছে।

এরা বেশ আগ্রাসী ও ডাকু স্বভাবের হয়। এদের জলদস্যুই বলা যায়। যে কারণে তাদের জলদস্যু জাহাজের নামে এদের নামকরণ করা হয়। এরা অন্যান্য পাখি, বিশেষ করে গাংচিলদের হয়রানি করে এবং তাদের খাবার ডাকাতি করে। তারা প্রায়ই তাদের ঠোঁট দিয়ে অন্য পাখির লেজ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে তাদের শিকার ফেলে দিতে বাধ্য করে। অন্য পাখির বাসার ডিম চুরি করে খায়। এছাড়া এরা মাছ ধরার নৌকা থেকে ফেলে দেওয়া উড়–ক্কু মাছ, স্কুইড, জেলিফিশ, কচ্ছপ, কাঁকড়াও খেয়ে থাকে। যেভাবেই হোক, ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্রিগেটবার্ড বিনাশ্রমে খাবার পেলেই খুশি।

এরা দৈর্ঘে ৩৫ থেকে ৪৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর ওজন হয় ২.৪ পাউন্ড থেকে ৩.৫ পাউন্ড বা ১.১ থেকে ১.৫৯ কেজি। এদের পাখার বিস্তার ৭.১ থেকে ৮.০ ফুট (২.১৭ এবং ২.৪৪ মিটার) হয়ে থাকে। ফলে এরা দীর্ঘ সময় ধরে অনায়াসে এবং অবিচ্ছিন্নভাবে বাতাসে ভেসে চলতে পারে। এর শরীর ও পাখার বিস্তারের অনুপাত পৃথিবীর যে কোনো পাখির চেয়ে বেশি। এরা ১৫ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এরা যখন এদের পাখা ও দ্বিধা-বিভক্ত লেজ ছড়িয়ে আকাশে ওড়ে, তখন এদের দেখতে ঠিক উড়ন্ত ঘুড়ির মতো মনে হয়।

এরা সাধারণত দল বেঁধে চলে। এরা গাছের ডালে বা ঝোপঁ-ঝাড়ে বাসা বাঁধে। ফ্রিগেটবার্ড প্রজনন মৌসুমে একটি সঙ্গী নির্বাচন করে তার সঙ্গে জোড় বাঁধে। কোনো পুরুষ ও নারী ফ্রিগেটবার্ড যখন জোড় বাঁধতে চায়, তখন পুরুষ পাখিটি বাসা বাধাঁর জন্য ঘাস, লতা-পাতা, গাছের ডাল-পালা, খড়-পালক ইত্যাদি জোগাড় করে দেয়। কখনো-কখনো অন্য পাখির বাসা থেকেও উপকরণ চুরি করে আনে। নারী পাখিটি বাসা বুনে। এক ফুট প্রস্থের একটি বাসা বাধঁতে ১৩ দিন পর্যযন্ত সময় নেয় নারী পাখিটি।

মাদি ফ্রিগেটবার্ড সাধারণত সাত বছর বয়সে ডিম দেয়। এরা বছরে মাত্র একবারই ডিম দেয়। বাকি সময়টা বাচ্চাদের বড় করে তুলতে ব্যয় করে। আর কোনো পাখি এতো দীর্ঘসময় ধরে বাচ্চা লালন-পাল করে না। এরা এক ঋতুতে একটি বা দুটি ধবধবে সাদা ডিম পাড়ে। ডিমটির দৈর্ঘ ২.৭ ইঞ্চি ও বেড় ১.৯ ইঞ্চি হয়ে থাকে। সাধারণত এই প্রজাতির পুরুষ পাখি বাচ্চা দেওয়ার তিন মাস পর্যন্ত নারী পাখির সাথে যৌথভাবে বাচ্চা দেখাশোনা করে। এরপরে পুরুষ পাখিটি তার সাথীকে ছেড়ে চলে যায়। তবে মা-পাখিটি এক বছর অব্দি তার বাচ্চাদের দেখভাল করে। পুরুষ পাখিটি পরের মৌসুমে অন্য পাখির সঙ্গে জোড় বাঁধে।

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers