বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ , ২৯ রমজান ১৪৪২

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

মহান মে দিবস

শ্যামা সরকার ১ মে , ২০২১, ০০:০৫:৫১

  • মহান মে দিবস

চলছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রবল আকার ধারণ করলে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম লক ডাউনের ঘোষণা করা হয় এবং জীবন রক্ষার জন্য জনসাধারণের চলাচলে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর পাশাপাশি অর্থনীতি, জীবন-জীবিকা যাতে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে না পড়ে সেদিকেও সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে দ্বিতীয়বারের মতো আবারও এক সপ্তাহের লক ডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়। ভয়াবহ এ করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যবিধি মানা, ঘর থেকে বের না হওয়া, মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং কিছুক্ষণ পর পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া- এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  

আজ মহান মে দিবস। করোনাভাইরাসের এ ঝুঁকির মধ্যেই ‘মালিক-শ্রমিক নির্বিশেষ মুজিববর্ষে গড়বো দেশ’- এ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষ কাজ হারিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ঠিক এমন একটি সংকটময় মুহূর্তে বিশ্ববাসী পালন করেছে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক দিন ‘মহান মে দিবস’। শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস এই দিবসটি মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও দিন। মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা মনে হলে ফ্রেডারিখ এঙ্গেলসের উক্তিটি মনে আসে সবার আগে :

‘৮ ঘণ্টা কাজের দিনের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সময়

আমরা কখনও ভুলব না যে, আমাদের চ‚ড়ান্ত লক্ষ্য হলো

বুর্জোয়া মজুরি দাসত্ব ব্যবস্থার উচ্ছেদ সাধন’।

কার্ল মার্কসের অন্তরঙ্গ বন্ধু ও সহকর্মী ফ্রেডারিখ এঙ্গেলসের নেতৃত্বে ১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের ১শ’ বছর পূর্তিতে ১৪ জুলাই দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। ২০টি দেশের কমিউনিস্ট প্রতিনিধিরা এ কংগ্রেসে যোগদান করেন। এখানেই পহেলা মে’কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস বা মে দিবস হিসেবে পালনের জন্য সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেন জার্মান কমিউনিস্ট নেত্রী ক্লারা জেটকিন। ঘোষণাটি ছিল : ১৮৯০ সালের ১ মে থেকে প্রতি বছর পহেলা মে’কে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। সেই থেকে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিনটিকে বিভিন্নভাবে পালন করা হয়। ‘মে ট্রি’ হলো কাঁটাযুক্ত ফুল গাছ। আর এ গাছের ফুল ‘মে ফ্লাওয়ার’ নামে পরিচিত। ‘মে’ হলো ইংরেজি বছরের পঞ্চম মাস, প্রাচীন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তৃতীয় মাস। ইউরোপে পহেলা মে পালন করা হয় বসন্ত উৎসব। এ উৎসবে যে তরুণীকে ফুলের মুকুট পরিয়ে রানী সাজানো হয়, তাকে বলা হয় ‘মে কুইন’। আর ‘মে পো’' হলো ইউরোপীয়দের বসন্ত উৎসবে ফুলে সজ্জিত খুঁটি, যার চারপাশ ঘিরে নাচ করা হয়। এছাড়া ‘মে’ অর্থ হলো আনন্দ-উল্লাস, শুভ কামনা ও আবেগঘন মুহূর্তের আহ্বান। অন্যদিকে, ‘মে’ডে' বা ‘মে দিবস’ হলো ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’। 

সভ্যতা বিকাশে দাস প্রথা উচ্ছেদ হলেও শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের শুরু থেকেই শোষিত-নিপীড়িত ছিলেন শ্রমিকরা। ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিবাদ একপর্যায়ে পরিণত হয় সমষ্টিগত আন্দোলনে। যার ফলশ্রুতিতে ১৮০৬ সালে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ায় জুতাশিল্পের শ্রমিকরা কর্মঘণ্টা কমানোর দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন। দীর্ঘ ২১ বছর আন্দোলনের পর ১৮২৭ সালে ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে গঠিত হয় প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন।

৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার দাবিতে আন্দোলনের সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেয় ইংল্যান্ডের ‘গ্র্যান্ড ন্যাশনাল কনসোলিডেটেড ট্রেডস ইউনিয়ন’। এরপর লন্ডনের বিভিন্ন সংগঠন সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টার দাবিতে একটানা ৬ মাস সফল ধর্মঘট চালিয়েছিল।

১৮৪৫ সালে তুলাশিল্পে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ, স্যানিটেশন ও কর্মসময় নিয়ে ম্যাসাচুয়েটস-এ ‘দ্য ফিমেল লেবার রিফর্ম অ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করা হয়। এরপর ১৮৫৭ সালে ৮ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুচ কারখানায় নারী শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য মজুরির বৈষম্য ও দৈনিক ১২ ঘণ্টা কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন।

১৮৬০ সালে নিউ ইংল্যান্ডে ২০ সহস্রাধিক জুতা তৈরির শ্রমিক দাবি আদায়ের জন্য ধর্মঘট করেন। দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে বিশ্বের প্রথম শ্রমিক ধর্মঘট হয়েছিল ১৮৬২ সালের মে মাসে। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সালে আমেরিকার  প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ক্রীতদাসদের মুক্তিদানের সিদ্ধান্ত শ্রমিক আন্দোলনে নতুন মাত্রা এনে দেয়। ১৮৬৬ সালে বাল্টিমোড়ে ৬০টি ট্র্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের প্রতিবাদ ও পর্যায়ক্রমে ১৮৮৪ সালে শিকাগো শহরে শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা করেন এবং দাবি আদায়ের জন্য ১৮৮৬ সালের ১ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৬ সালের ৪ মে শিকাগোর হে-মার্কেটে মিছিলে বোমা বিস্ফোরণে একজন পুলিশসহ ৯ জন এবং পুলিশের গুলিতে আরও চার শ্রমিক নিহত হন। ১৮৮৭ সালে আমেরিকার শ্রমিক সংগঠনগুলো ১ মে শ্রমিক মুক্তি দিবস পালন করে। ১৮৯১ সাল থেকে দিবসটি বিভিন্ন দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো পালন করতে শুরু করে। ১৯০৪ সালে জাতিসংঘ আইএলও কনভেনশনের মাধ্যমে এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘মহান মে দিবস’ পালিত হচ্ছে শোষিত শ্রমিকের অধিকার আদায় ও বিজয়ের প্রতীক হিসেবে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ পৃথিবীর ৮০টি দেশ এ সনদে স্বাক্ষর করে। কিন্তু আমেরিকা আজও এ সনদে স্বাক্ষর করেনি। এমনকি আমেরিকা ও কানাডা এ দিবসটি পালনও করে না। বরং এ দেশ দুটি সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবার জাতীয় শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।

আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনসভায় সরকারি শ্রমিকদের কর্মসময় ৮ ঘণ্টা নির্ধারণের আইন পাস করা হলেও বেসরকারি শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি আজও।

স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম ‘মে দিবস’কে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন দুঃখী ও মেহনতি মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা। তাদের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর একমাত্র ব্রত। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা দাবিতে আহূত প্রথম হরতালে আদমজী, টঙ্গী ও তেজগাঁওয়ের শ্রমিকরাই সংগঠিত হয়ে প্রথম লাল পতাকা হাতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন। এ সময় অকাতরে প্রাণ দিয়েছিলেন অনেক শ্রমিক। বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তির জন্য প্রথম আত্মদান করেছিলেন মনু মিয়াসহ অন্তত ১০ শ্রমিক। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রদের পাশাপাশি শ্রমজীবীরাই পালন করেছিলেন অগ্রণী ভ‚মিকা। এ কারণেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু কেবল স্বাধীনতার ডাক দেননি, মেহনতি মানুষের মুক্তির আহ্বানও জানিয়েছিলেন। এ আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাংলাদেশের শ্রমিক-শ্রেণি অসহযোগ আন্দোলনে দেশের সব কলকারখানা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাঁর ডাকেই হাজার হাজার শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে মালিকপক্ষকে তা মানতে বাধ্য করেন। এ ছাড়া শিশুশ্রম বন্ধ, নারী শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ভূমিহীনদের বিনা জামানতে কৃষিঋণ দেয়ার ব্যবস্থা, মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, শ্রমজীবী ও গরিব-দুঃখী মানুষের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে সোশ্যাল সেফটি নেট জোরদার করা, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা প্রভৃতি অব্যাহত রাখা, গরিব মানুষের ঘরে ঘরে বিনামূল্যে সোলার বিদ্যুৎ ল্যাম্প সরবরাহ, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি হাসপাতালগুলোয় বিনাখরচায় চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা করা এবং বিনামূল্যে বই সরবরাহ করে গরিব, শ্রমজীবীর সন্তানদের জন্য অন্তত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ করে দেন। তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তাই বিশ্ব নেতৃত্বের এক অনন্য উচ্চতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্র্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতাসহ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। মহান মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াল থাবা পড়েছে। এর ফলে গভীর সংকটে পড়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ দেশের শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষ। এ পরিস্থিতিতে সরকার জনগণের পাশে থেকে ত্রাণকাজ পরিচালনাসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।’ সরকারের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও শ্রমজীবী মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও কল্যণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়াল পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সরকার শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ বিতরণসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকার সংকট মোকাবেলায় শ্রমিকদেও বেতনের জন্য ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

তিনি আরো বলেন, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পে কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২০ বাস্তবায়নের জন্য শ্রম অধিদপ্তরের অনুক‚লে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কল-কারখানা চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে। দিবসটি উপলক্ষে  রেডিও, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র করেছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ পোশাকশিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দুই অংশ, শ্রমিক লীগ, শ্রমিক দল, জাতীয় শ্রমিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করে থাকে। কিন্তু এবারও করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম, সভা, সেমিনার এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনগুলো। এ কারণে সংগঠনগুলো আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি পালন করেনি।

বাংলাদেশ সরকার শুধু দিবসটি পালনই নয়, শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় আইনেও অনেক পরিবর্তন এনেছে। গঠন করা হয়েছে শ্রম আদালত। শ্রমিক মামলা চালাতে অসামর্থ্য হলে বিনামূল্যে আইনি সহায়তাও দেয়া হয়। 

বৈশ্বিক এ মহামারীতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিকের অধিকার ও  শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিভিন্ন সংগঠনগুলোকে শ্রমিকের স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যাতে তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। তাহলেই ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতি। দূর হবে সকল বৈষম্য। সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের স্বপ্নপূরণে ‘মে দিবস’-এর চেতনা আজও অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। শ্রমজীবী মানুষের জয় সুনিশ্চিত।

শ্যামা সরকার

অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ও প্রধান 

কমিউনিকেশন, পাবলিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ

প্রধান কার্যালয়, উদ্দীপন।

E-mail : shyamasarker@yahoo.com

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers