রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ , ৯ জিলকদ ১৪৪২

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

অনৈতিক কূটনীতি

শহীদুল্লাহ ফরায়জী ৮ এপ্রিল , ২০২১, ১৮:১১:১৪

  • ছবি: নিউজজি২৪

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উপস্থিতি এবং শ্রীলংকার তামিল বিরোধী অভিযানে গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের উত্থাপিত প্রস্তাবের বিরোধিতায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে ভীষণ সমালোচনা হচ্ছে।

কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে শুধু বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে যাননি, সেখানে আটটি দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। মিয়ানমারকে আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তবে এটা (সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ) নিয়ে যাঁরা হইচই করছেন, তাঁরা কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করেননি। সেখানে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা মারা গেল, নির্যাতন হলো, তখন তো তারা মিয়ানমারকে বর্জন করেননি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তো সেখানে ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। তাদের ব্যবসা সেখানে  তিন গুণ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

সামরিক বাহিনীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৭টি দেশের সাথে  মিয়ানমারের আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আর বাংলাদেশের আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক একই রকম নয়। জাতিপুঞ্জের অন্তর্গত মোট দেশের সংখ্যার তুলনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৭টি দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেনা।  

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসা বহুগুণ বৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুপস্থিতি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রদান করেছে। আর বাংলাদেশের উপস্থিতি মিয়ানমারের সামরিক শাসনকে প্রত্যক্ষ সমর্থন যুগিয়েছে।

গণমাধ্যমের সংবাদে জানা যায় মিয়ানমারে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে গত মঙ্গলবার চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, লাওস ও ভিয়েতনামের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধি উপস্থিত হন। ওই দিন সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অন্তত ১১৪ জন নিহত হন। ওই কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে।

 উল্লেখ্য শ্রীলঙ্কায় তামিলবিরোধী অভিযানে গণহত্যার অভিযোগ এনে জাতিসংঘের  মানবাধিকার পরিষদে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে, বাংলাদেশ যার বিরোধিতা করে গণহত্যার পক্ষে ভোট দিয়েছে। গণহত্যা প্রশ্নে শ্রীলঙ্কাকে সমর্থনের কারণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানও সমালোচিত হচ্ছে।

শ্রীলংকার গণহত্যা প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য খুবই ভয়াবহ। তিনি বলেছেন জাতিসংঘে কোন দেশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব আনলে বাংলাদেশ তা সমর্থন করে ভোট দেয় না। এটা বাংলাদেশের অবস্থান। এমনকি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাবেও ভোট দেয়নি। প্রতিবেশীদের প্রতি বাংলাদেশ সব সময় এ অবস্থান বজায় রাখে।

জাতিসংঘে কোন দেশের বিরুদ্ধে প্রস্তাব উত্থাপন করলে, জাতীয় স্বার্থ এবং নৈতিকতার  মানদন্ডে তা বিবেচনায় না এনে শুধু বিরোধীতা করা কূটনৈতিক  দায়িত্ববোধের কোন পরিচয় বহন করেনা।

১৯৭১ সালে আমরা ইতিহাসের নির্মম গণহত্যার শিকার হয়েছি। গণহত্যার ভয়ঙ্করতা ও নিষ্ঠুরতা এখনো আমাদের চেতনায় বিদ্যমান। প্রতিবেশী দেশ সহ পৃথিবীর যেকোন দেশে সংঘটিত কোন গণহত্যায় বাংলাদেশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে তা হবে আমাদের ইতিহাসের সাথে বেইমানি করা। আমাদের প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন না করা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, যা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। 

 উল্লেখ্য  মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গত নভেম্বর মাসে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবে ১৩১ টি দেশের সাথে বাংলাদেশও সমর্থন জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ সরকার আঞ্চলিক কোন শক্তি বা রাষ্ট্রকেই কাছে পায়নি। ভোটদান থেকে বিরত রয়েছে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, জাপান, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে রাশিয়া, চীন, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও লাওস। 

 আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন জাতি হিসেবে  বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি অব্যাহত সমর্থন এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান করাই হবে পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক কর্তব্য।

লেখক :গীতিকার

faraizees@gmail.com

বি দ্রি: (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers