রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

ইসরায়েল বিশ্বরাজনীতিকে কোন্ দিকে নিচ্ছে?

শোয়েব নাঈম ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১৫:২৫:১২

324
  • ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন এক প্রতিবাদী মঞ্চে পরিণত হয়। বাংলাদেশসহ মোট ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিরা বেদনাহত হয়েই তার ভাষণ বর্জন করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। তবে এ সময় বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা অন্তর্ঘাতময় ও ভাবলেশহীন ভাবে অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত থাকেন। চীন, আফ্রিকার দুই ডজনেরও বেশি দেশ এবং আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের এই বর্জন যেন চলমান বিশ্বসংকটের এক সম্মিলিত প্রতিবাদী অবস্থানের এক তীব্র স্রোতস্বিনী নদী হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো সাম্রাজ্যবাদীরা সভাকক্ষে উপস্থিত থাকলেও তাদের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রদূত কিংবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠানো হয়নি। তাদের সেই আসনগুলোতে উপস্থিত থাকে তুলনামূলক নিম্নপদস্থ কূটনীতিকেরা। বিপরীতে, নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠী এবং ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গ্যালারিতে অবস্থান করে তার বক্তব্যের প্রতি মুগ্ধ সমর্থন এবং করতালির মাধ্যমে নিজেদের সংহতি প্রকাশ করে।

এই অধিবেশনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি এটাই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এতদিন সম্পর্কের আলাপচারিতা আসলে একটা বাচাল কূটনৈতিক সম্পর্ক। দুই দেশ এতদিন বন্ধুত্বের যে ফানুস উড়িয়েছে তা আসলে কূটনৈতিক চাকচিক্যে স্কিটজোফ্রেনিক মনোভাব তুলে ধরেছে। নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান—এই চার দেশের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষে অবস্থান করেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অবশিষ্ট চার দেশ—বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান— ভাষণটি সম্পূর্ণ বর্জন করেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে যে আন্তর্জাতিক কূটনীতিক সম্পর্ক উন্মোচিত হয়েছে তা সম্পর্কের হিমাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক মিলে তৈরি করা বিশ্বের অন্য এক উপস্থাপনা, বৈশ্বিক রাজনীতির এক তীব্র বৈপরীত্য। কূটনৈতিক সম্পর্কের রক্তের ক্লোরোফিলে জমা হওয়া হলুদ বর্ণ। একই ভূরাজনৈতিক অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে যতটুকু অন্তরঙ্গতা এরচেয়েও অধিক বৈপরীত্য। কূটনৈতিক অবস্থানের বিভাজন, সুবিধাবাদিতার হিসাব-নিকাশ, প্রতিবাদ ও সংহতির ভিন্ন ভিন্ন দ্বন্দ্বসূত্র। জাতিসংঘের অধিবেশনকক্ষ সেই মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে কেবল বক্তৃতার মঞ্চে নয়, আবর্তনশীল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দ্বিচারিতা, স্বার্থনির্ভর কূটনীতি, মানবিক অবস্থানের পরীক্ষা এবং ভন্ডামির প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনের এক অভিজাত ক্ষেত্র। সেখানে প্রতিটি উপস্থিতি, প্রতিটি বর্জন, প্রতিটি প্রতিবাদ কিংবা সমর্থন বহন করছে ক্রমাগত ভুল পথে চলার কূটনৈতিক বার্তা। মানবতা ও স্বার্থবাদিতার মধ্যবর্তীতে দাঁড়িয়ে অধিবেশনকক্ষে ইসরাইল বিশ্বরাজনীতিকে কোন্ দিকে নিয়ে যাচ্ছে? যার প্রতিধ্বনি এবারের অধিবেশনকক্ষেও ছাড়িয়ে পড়েছে!!

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers