বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ , ১ মুহররম ১৪৪৮

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

সশ্রদ্ধ স্মরণ : আবদুল গাফফার চৌধুরী

মাঈনুদ্দীন দুলাল ১৯ মে , ২০২৬, ১৯:১৪:৩৭

314
  • সশ্রদ্ধ স্মরণ : আবদুল গাফফার চৌধুরী

ঢাকা: আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশীবার গীত হওয়া গান নিশ্চই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। এর পর কোন গানটি? এটি অবশ্যই আমাদের ভাষা শহীদদের স্মরণে লেখা " আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী... " গানটি। আবার যদি এভাবে বলি একটি বিশেষ দিনে সবচেয়ে বেশী গাওয়া গানও এটি। এই গানটি লিখেছেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী। তিনি উপন্যাস, গল্প, বিপুল পরিমাণ কলাম লিখেছেন। এতসব না লিখলেও তাঁকে আমরা শত বছর সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করব এই গানটির জন্যে। অবশ্য তার লেখা রাজনৈতিক ও নানা ঘটনাপ্রবাহ নির্ভর কলামগুলোও ছিল অসম্ভব জনপ্রিয়।

আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে। তারা ছিলেন বরিশালের বেশ নামকরা পরিবার। বাবা ওয়াহেদ রেজা চৌধুরী ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বাংলার আইন সভার সদস্য ছিলেন। স্থানীয় মাদ্রাসায় এবং হাইস্কুলে পড়াশোনা শেষ করে আবদুল গাফফার চৌধুরী ভর্তি হন ঢাকা কলেজে, পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঊনিশশো পঞ্চাশের দশকে তার কর্মজীবন শুরু হয় দৈনিক ইনসাফ পত্রিকায়। এরপর একে একে কাজ করেছেন দৈনিক সংবাদ, মিল্লাত, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক আজাদ, দৈনিক পূর্বদেশসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। তিনি মূলত খ্যাতি অর্জন করেন রাজনৈতিক কলাম লেখক হিসেবে। তার লেখা কলামের  ছিল বহু অনুরাগী পাঠক। আবার কারও কারও কাছে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অনেক প্রশ্নবিদ্ধ তথ্য এবং বিবরণের জন্য  বিতর্কিতও ছিলেন তিনি।

সাংবাদিকতার বাইরে আবদুল গাফফার চৌধুরী যেসব লেখালেখি করেছেন সেখানে তার সৃজনশীলতা ও শক্তিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাকে সেরকম লেখালেখিতে খুব বেশি পাওয়া যায় নি।

তার লেখা গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভয়ংকরের হাতছানি, সম্রাটের ছবি, ডানপিটে শওকত, চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, পলাশী থেকে ধানমন্ডি, শেষ রজনীর চাঁদ এবং কৃষ্ণপক্ষ।

মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন কলম সৈনিক।মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে সপরিবারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলকাতা পৌঁছান। সেখানে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ‘সাপ্তাহিক “জয়বাংলা”য় লেখালেখি করেন। এ সময় তিনি কলকাতায় ‘দৈনিক আনন্দবাজার’ ও ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ‘দৈনিক জনপদ’ বের করেন। ১৯৭৩ সালে তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে লন্ডন যান। এরপর থেকে তার প্রবাস জীবনের শুরু। সেখানে তিনি আমৃত্যু এক সংগ্রামী জীবন যাপন করেন। ২০২২ সালের ১৯ মার্চ তিনি লন্ডনে মারা যান।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers