বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ৩ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২২ এপ্রিল , ২০২৬, ১৯:৩৬:২৪

271
  • বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

দেশের একসময়ের প্রধান রপ্তানি পণ্য পাটকে পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিবেশ বান্ধব একটি সিদ্ধান্তের জন্যে ধন্যবাদ জানাই বর্তমান সরকারকে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন আজ বুধবার জানিয়েছেন, জুলাই মাস থেকে স্কুল ড্রেস ও পাটের তৈরি ব্যাগ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি জানান,পাইলট আকারে কার্যক্রমটি শুরু হচ্ছে। প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাথমিকভাবে শুরু হচ্ছে। প্রতি উপজেলায় ২টি করে স্কুলে এই শিক্ষা সামগ্রী দেয়া হবে। প্রথম মাসে অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীর কাছে ব্যাগ ও পোশাক পৌঁছে দেয়া হবে। প্রান্তিক এলাকা পর্যন্ত দেশীয় উৎপাদিত পণ্য পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা হবে। সব প্রাথমিক স্কুলে একই রকম পোশাক হবে। তবে ছেলে এবং মেয়েদের পোশাক ও ব্যাগ আলাদা হবে।

যদি বাস্তবায়ন করা যায় তবে এই সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা অত্যন্ত সৃজনশীল এবং সুদূর প্রসারী। প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারত্মক হুমকি। এটি মাটিতে মিশে উর্বরতা নষ্ট করে এবং প্রায় ৪০০ বছর পর্যন্ত পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। প্লাস্টিক জলজ ও বন্যপ্রাণীর জীবনের জন্য চরম হুমকি।এটি সমুদ্রের ইকোসিস্টেম ধ্বংস করে এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক হিসেবে মানুষের রক্ত ও শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসার, হরমোনজনিত সমস্যা ও জন্মগত নান নানা ত্রুটি সৃষ্টি করে। প্লাস্টিক পচনশীল নয়, তাই এটি মাটি ও পানি দূষিত করে। এটি মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয় এবং ফসল উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক এখন এই গ্রহের জন্য বড় আতংক। পরিবেশবিদরা মনে করছেন প্লাস্টিকের অপব্যবহার পারমাণবিক দূষণের চেয়ে কম ভয়ংকর নয়।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ টন বা প্রায় ৮৪ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হয়। যা বিশ্বে পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়। বিগত ১০ বছরে পাটের উৎপাদন ৩৩ লাখ বেল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাটের ব্যবহার পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা ও রপ্তানি বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানির পরিমাণ ৪২ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন। এছাড়া, একই সময়ে পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৫ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার।

দেশীয় শিল্প ও পরিবেশ রক্ষায় একটি ভালো উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৯-২০০১ এর অটল বিহারী বাজপায়ী সরকারের সময় মমতা ছিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ভারতের রেলের ক্যাটারিংয়ে (খাবার পরিবেশন) প্লাস্টিক পণ্য বাদ দিয়ে মাটির তৈরি বিভিন্ন খাবার পাত্র ব্যবহার করতে হবে। তার উদ্দেশ্য ছিল ভারতের মৃৎ-শিল্পের উন্নয়ন। যে শিল্পের সাথে কয়েক কোটি মানুষ জড়িত এবং পরিবেশ রক্ষা। এখনো ভারতের রেল ক্যটারিংয়ে মমতার সিদ্ধান্ত বহাল আছে।

আমাদের দেশে আমরা নানাভাবে প্লাস্টিক পরিবেষ্টিত। অক্টোপাসের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে প্লাস্টিক শেকলে বাঁধা আমাদের জীবন। খুব পরিকল্পিতভাবে প্লাস্টিকের সীমিত ব্যবহার ও পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে আমরা বাঁচাতে পারব আমাদের ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ।

শিক্ষাঙ্গনে শিশুদের হাতে পাটের ব্যাগ তুলে দেয়ায় পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি আমরা আগামী প্রজন্মকে সচেতন করতে পারব। এই উদ্যোগের পাশাপাশি বাজারের ও যে কোন ফ্যাশনেবল হ্যান্ডব্যাগ এবং নানা প্রয়োজনে যদি পাটের ব্যবহার করি তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ভুমিকা থাকবে।

লেখক: সাংবাদিক।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers