রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ , ২৯ রজব ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

ড্যাসিং ওয়েস্টার্ন হিরো 'ট্রাম্প'

মাঈনুদ্দীন দুলাল ৪ জানুয়ারি , ২০২৬, ১৬:২৮:৩৮

1
  • ড্যাসিং ওয়েস্টার্ন হিরো 'ট্রাম্প'

কৈশোরে বি টিভিতে আমাদের প্রিয় সিরিয়াল ছিল ' ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট '। যা ছিল গৃহযুদ্ধের আগে আমেরিকার মানুষের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বুনো স্বভাবের আচার আচরণ। এরপর যৌবনে প্রবল আগ্রহ আর উদ্দীপনা নিয়ে দেখতে থাকলাম জনপ্রিয় ওয়েস্টার্ন ফিল্মের অভিনেতা জন ওয়েন, ক্লিন্ট ইস্টউড, জেমস স্টুয়ার্ট, গ্যারি কুপার, হেনরি ফন্ডা, স্টিভ ম্যাকুইন, চার্লস ব্রনসন, পল নিউম্যান, স্যাম এলিয়ট এবং কার্ট রাসেলের মুভি। ব্যাংক রোবারী, কথায় কথায় ডুয়েল ফাইট, দুর্ধর্ষ অপরাধী শিকার, রোমান্টিজম এসব দেখতাম আর কল্পনায় কতবার ভেবেছি নিজেকে দ্রুত একজন ড্যাসিং গান ফাইটার।

দু'দিন আগে ওয়েস্টার্ন একটি বাস্তব সিনেমা দেখালেন আমেরিকার ডেম কেয়ার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেসিং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই বলেছেন,ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেন্স অপহরণের ঘটনাটি ছিল চমকপ্রদ টিভিশো।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্র প্রধানকে ওয়েস্টার্ন ফিল্মি স্টাইলে তুলে আনাটা তোলপাড় ফেলেছে বিশ্বে। জাতিসংঘ, রাশিয়া, চীন, ইরান, ইউরোপিয়ো ইউনিয়ন, ন্যাটোর বিভিন্ন সদস্য দেশ এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশ্ব এটিকে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বেআইনি বলে মনে করছে। কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপ ডেসিং প্রেসিডেন্টের। খোদ আমেরিকার অনেকেই বিষয়টি সমর্থন করছেন না। নিউইয়র্কের মেয়র সরাসরি নিন্দা জানিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলায় হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বকে নিরাপদ করবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে স্যান্ডার্স লিখেছেন, “আন্তর্জাতিক আইনের এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন বিশ্বের যেকোনো দেশকে অন্য দেশের ওপর হামলা চালানো, তাদের সম্পদ দখল করা বা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করার সবুজ সংকেত দেবে।”

তিনি ট্রাম্পের পদক্ষেপকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্যান্ডার্স বলেন, “ইউক্রেনে পুতিনের নৃশংস হামলাকে জাস্টিফাই করতে যে ভয়ংকর যুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, এটিও ঠিক সেই একই যুক্তি।”

তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, এই সম্পর্কে আমরা কোনো ভুল না করি। এটি র‍্যাঙ্ক ইম্পেরিয়ালিজম। লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর কথা এটি মনে করিয়ে দেয়, যা ভয়াবহ এক উত্তরাধিকার রেখে গেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে এর নিন্দা হওয়াই উচিত এবং হবেই।’

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বে মোট মজুদের ১৭ শতাংশ জ্বালানী তেল রয়েছে। এই সম্পদের ওপর আমেরিকার লোভ দীর্ঘদিনের। ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন ভেনেজুয়েলার তেলে আমেরিকার অধিকার আছে। এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পেলে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প বিপুল টাকা আয় করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তেল কোম্পানিকে  ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হবে। তারা বিপুল বিনিয়োগ করবে। এই তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার হয়ে আয় করবে।

আমেরিকা একক ভাবে সবচেয়ে বেশী তেল উৎপাদন করলেও তা বেশ পাতলা ও বেশী তরল। কিন্তু তার যানবাহনের জন্য ভারী তেল প্রয়োজন। তাই তার ভেনেজুয়েলার তেল প্রয়োজন।

মাদক পাচার, অগণতন্ত্র অজুহাত মাত্র।

এই ঘটনা বিশ্বের সার্বভৌম দেশগুলোকে শংকায় ফেলেছে। কখন কার ওপর নেমে আসে আমেরিকান ঈগল। পাশাপাশি অস্থির বিশ্ব রাজনীতি আরো অস্থির হল।

 

 

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন