বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ৩ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

অতল শ্রদ্ধাঃ আমাদের গানের বুলবুল

মাঈনুদ্দীন দুলাল ১ জানুয়ারি , ২০২৬, ১৬:৩৩:৪৫

420
  • অতল শ্রদ্ধাঃ আমাদের গানের বুলবুল

"আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, গান ভালোবাসেন এমন কে না জানে তাকে। তিনি আমাদের গানের মেলোডি'র বরপুত্র। এসব ছাপিয়ে তার বড় পরিচয় তিনি জীবন বাজী রাখা কিশোর মুক্তিযোদ্ধা। ১ জানুয়ারী তার জন্মদিন। ১৯৫৬ সালে জন্ম নেন তিনি। মৃত্যু বরণ করেন ২২ জানুয়ারী ২০১৯। তার জন্মদিনে অতল শ্রদ্ধা"।

একাধারে গীতিকার, সুরকার, সুরস্রষ্টা,গায়ক এবং মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনে এত বর্ণাঢ্য পরিচয় ও কাজ পাওয়া দুষ্কর।

বিটিভি'র স্টার্টআপ ও ফিনিসিং সং " সব কটা জানালা খুলে দাও না"। বুলবুলের সুর, নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা ও সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া এ গাানটি কানে ও বুকে নিয়ে মানুষেরা ঘুমুতে গেছেন। প্রতিদিন বুকে হাহাকার আর আর্তি তৈরী করেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জীবনদায়ীদের জন্য। করেছে কেন করছে। আরো অনেক কাল অনুরণিত করবে।

আমাদের ৫২ এবং ৭১ এর আবেগ অনুপ্রেরণা দিয়েছে বিপুল সংখ্যক দেশাত্মবোধক গান সৃষ্টির। এত বিপুল, এত শ্রুতিমধুর দেশাত্মবোধক গান আর কোন ভাষায় আছে? এই বিপুল সম্ভার সমৃদ্ধ হতে বিশেষ অবদান রেখেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলও। তার অনেক গুলো গান থেকে সামান্য কয়েকটা উল্লেখ করলে বোঝা যায় তার সৃজন ক্ষমতা। যেমন-

"সব কটা জানালা খুলে দাও না"

"মাগো, আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবো না"

"এই দেশটা নাকি ভাই"

"ও মাঝি নাও ছাইড়া দে" ।

তার এই সৃজন প্রেরণার নেপথ্য কারিগর নিঃসন্দেহে মুক্তিযুদ্ধ। যে জনযুদ্ধ তার ভেতর উস্কে দিয়েছে দেশপ্রেম। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল।ছাত্রজীবনে মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন তিনি।২ নাম্বার সেক্টরে মেজর আবু তাহের মোহাম্মদ হায়দারের অধীনে যুদ্ধ করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের পরপর বুলবুল ও তার কয়েক বন্ধু মিলে ছোট একটি মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন করেন যাদের ঘাঁটি ছিল ঢাকার জিঞ্জিরায়। জুলাইয়ে বুলবুল ও তার বন্ধু সরোয়ারসহ নিউ মার্কেটের ১ নাম্বার প্রবেশমুখের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লরিতে গ্রেনেড হামলা করেন। আগস্টে ভারতের আগরতলায় কিছুদিন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ঢাকায় ফিরে ইয়াং প্লাটুন নামে একটি গেরিলা দল গঠন করেন।

অক্টোবরে ভারত যাওয়ার সময় বুলবুলসহ চারজন কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাঝামাঝি একটি চেকপোস্টে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন। আটক হওয়ার পর নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। বয়সে ছোট হওয়ায় তিনি মুক্তি পান। ঢাকায় তার নিজ বাসা থেকে আবার গ্রেফতার হন এবারও নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর  বিজয়ের পর মুক্তিবাহিনী রমনা থানা থেকে মারাত্মক আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। দু'দুবার প্রচন্ড নির্যাতনের শারীরিক পার্শপ্রতিক্রিয়া তিনি আজীবন বহন করেছেন।

বাংলাদেশের দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানের পাশাপাশি তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক চলচ্চিত্রে সুর করেছেন। এখানেও তিনি সোনা ফলিয়েছেন। তার সুর করা গানগুলো বাংলার আবহমান লোকসুর, গায়কী, মেলোডি, রক ঘরনার মিশ্রণে হৃদয়ে ঠাঁই নিয়েছে শ্রোতার। তার সুর করা গানের জন্যে অনেক ছবি বক্স অফিসে হিট হয়েছে। এখানে তার কয়েকটা গান উল্লেখ করলে একথার বাস্তবতা পাওয়া যাবে। যেমন-" আমার বুকের মধ্যি খানে"। "আমার সারা দেহ খাইওগো মাটি"। আরো আরো অনেক।

বাংলাদেশের গানের চিরকালীন যে মেলোডি, তা তিনি যথাযথ প্রয়োগ করেছেন। দেশের খ্যাতিমান সব শিল্পী গেয়েছেন তার গান। আমাদের গানের মেলোডির বর পুত্র বুলবুল।

 

 

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers