বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ৩ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

এত আগুন আসে কোত্থেকে?

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২০ অক্টোবর , ২০২৫, ১৮:০২:৫৩

514
  • ছবি : সংগৃহীত

দেশে পরপর তিনটি আগুন। সবগুলো অর্থনৈতিক খাত সংশ্লিষ্ট। এ মাসের ১৪ তারিখ মিরপুরের একটি গার্মেন্টস কারখানায়। এখানে ১৬ জন শ্রমিক-কর্মচারী মারা গেলেন। পুড়ে গেল কারখানাটি। এরপর চট্টগ্রাম ইপিজেডে একটি টেক্সটাইল কারখানা পুড়ে কংকাল হল। তারপর ঢাকা শাহজালাল বিমান বন্দরের কার্গো ভিলেজে স্মরণকালের ভয়াবহ আগুন। এইসব আগুনের লেলিহান শিখা ১৬টি প্রাণ ও গিলে খেল হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ( ইএবি) দাবী শাহজালালের আগুনে ক্ষতি ১ বিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকা। মিরপুর ও সিইপিজের আগুনেও হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে।

সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ ঘটনায় শুধু বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত সংকটের কারণে ইতোমধ্যেই একাধিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ঢাকায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।

মোহাম্মদ হাতেম জানান, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা- সব মিলিয়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বিদেশি ক্রেতারা এই অগ্নিকাণ্ডের খবরে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হতে পারেন। ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

অগ্নিকাণ্ডে পোশাক তৈরির মূল্যবান কাঁচামাল, রপ্তানির জন্য প্রস্তুত পোশাক ও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা পণ্য (স্যাম্পল) ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান। ইনামুল হক খান বলেন, ধ্বংস হওয়া মালামালের মধ্যে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা পোশাক, পোশাক তৈরির মূল্যবান কাঁচামাল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনেক স্যাম্পল ছিল। এই স্যাম্পলগুলো সরাসরি নতুন ব্যবসার পথ উন্মোচন করে এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্টের জন্য অপরিহার্য। এই স্যাম্পলগুলো হারানো মানে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগুনের ঘটনা  রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি, গলফ নিউজ, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। বিশ্ববাসী জানতে পেরেছেন। 

কেউ কেউ সন্দেহ করছেন দেশের অর্থনৈতিক খাতকে ধ্বংস করার জন্য এসব ঘটনা অন্তর্ঘাত বা স্যাবোটাজ হতে পারে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, কার্গো ভিলেজের ৮ নম্বর গেইটের আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএল এর রাখা পণ্য  স্তুপ থেকে আগুনের সূত্রপাত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান পারসেপশন নিয়ে কথা বলছেন অনেকে। চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কন্টেইনার ইয়ার্ড বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া হল। এবার কি দেশের প্রধাণ বিমানবন্দরটি হ্যান্ডলিংয়ের কোন ছুতো তৈরি হচ্ছে?

আমরা এসব ধারনাকে আমলে না নিয়ে বলতে চাই,আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করা হোক। আমাদের প্রধান উপদেষ্টার রয়েছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ। তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইতে পারেন। এমনিতেই আমাদের অর্থনীতি মারাত্মক চাপে আছে। কিছুদিন আগে উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, কিছু কিছু মানুষের নাক বরাবর পানি চলে এসেছে। আর একটু ওপরে উঠলে দমবন্ধ হয়ে যাবে।

এখন আশংকা এবং আতংক লকলকে জিভ বের করে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা ভীতসন্ত্রস্ত যে, এরপর দূর্ঘটনার শিকার কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান?

সরকার সব ম্যাকানিজমকে সক্রিয় করে বড় দূর্ঘটনা প্রতিরোধে সজাগ হোক। আর কোন দুঃসংবাদ আমরা শুনতে বা দেখতে চাইনা।

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers