সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ , ১৭ জুমাদাউস সানি ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

যথা পূর্বং তথা পরম্

মাঈনুদ্দীন দুলাল ৩১ জুলাই , ২০২৫, ১২:১৩:১৫

777
  • ছবি: সংগৃহীত

জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচের পরও জলে ভাসছে চট্টগ্রাম নগরবাসী।

এ নিয়ে একটি জাতীয় পত্রিকা শিরোনাম করেছে - " ৯৮০০ কোটি টাকা খরচের পরও চট্টগ্রাম নগরী ডুবছেই"। ঐ সংবাদের একাংশে পরিবেশবিদ ড. ইদ্রিস আলী খেদ প্রকাশ করে বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিয়ে সবাই কেবল বানিজ্যই করেছে।

গত সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আর এতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কের কোথাও কোমর পানি,কোথাও হাঁটু পানি উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে নগর জুড়ে জলাবদ্ধতা। নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাড়ি-ঘর,ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। চরম দূর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

কোন কোন এলাকায় লোকজনকে নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে।

২০১৭ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের মাধ্যমে  ( সিডিএ)  "চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন,সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন " নামে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল জুলাই ২০১৭ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

সিডিএ'র সামনের সড়কটিও পরিষ্কার করে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। আর সেই প্রতিষ্ঠানকেই দেয়া হয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনের এই খরুচে প্রকল্প। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে সিটি করপোরেশনের। সিসিসি'র আওতায় পড়ে প্রকল্পটি।এই সংস্থারই দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ওপরে ম্যানেজ করে বিশাল অংকের কাজটি হাতিয়ে নেন। তাকে চট্টগ্রামে বলা হত ম্যানেজ মাস্টার।তিনি উপর তলায় ম্যানেজ করে পরপর তিনবার সিডিএ'র চেয়ারম্যানও হয়েছেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। এই বিশাল প্রকল্পের গোড়াতেই গলদ হয়েছে।

পরে সিডিএ'র সাথে যুক্ত হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। আগামী বছরের জুনে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। আর বাকি ১১ মাস।

প্রকল্পের আওতায় নানা ধরনের কর্মযজ্ঞ আছে। সাধারণ মানুষ এসব টেকনিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় বুঝতে চায়না বা বোঝে না।

তারা বোঝে সরকারের টাকা জনগণের নানা ধরনের ট্যাক্স থেকে পাওয়া। সুতরাং এই টাকা তাদের। টাকার যথাযথ ব্যবহার না হলে তাদের ক্ষোভ তৈরি হবে। সরকারের কাছে জবাব চাইবে।

পরিবেশবিদ ড.ইদ্রিস আলীর সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, পদ্মা সেতুরমত একটি মেগা প্রকল্প নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।  সেই প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক টাকা বরাদ্দ দেয়া হল চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন,

কিন্তু কাজের কাজ কি হল?

"যথা পূর্বং তথা পরম্।"

অর্থাৎ আগে যা ছিল এখনও তাই।

অবস্থার কোন পরিবর্তন নেই।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন