সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ , ১১ সফর ১৪৪৩

ফিচার
  >
বিচিত্র

করোনাকালে রাস্তার কুকুরদের অধিকারে ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

নিউজজি প্রতিবেদক ২ জুলাই , ২০২১, ১৭:৩৯:৩৫

  • ছবি: ইন্টারনেট

করোনাকালীন লকডাইনে রাস্তার কুকুরদের অধিকারে ঐতিহাসিক রায় দিলো দিল্লি হাইকোর্ট। হ্যাঁ, রাস্তার কুকুরদের খাওয়ানোর অধিকার আছে দিল্লির সাধারণ মানুষের। এ বিষয়ে এক মামলার রায়ে এমনটাই জানালো দিল্লি হাইকোর্ট। 

দেশজুড়ে পথ কুকুরপ্রেমী এবং তাদের সমালোচকদের মধ্যে সংঘাতের প্রেক্ষিতে এই রায় বেশ তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। তাই এ বায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পশু প্রেমীরা।

গত ২৪ জুন এক মামলায় এই রায় দেন বিচারপতি জে আর মিধার বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) এ বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও তা আপলোড করা হয়। জানা গেছে, দিল্লির এক কুকুরপ্রেমী ও এক স্থানীয়ের মধ্যে বিরোধের মামলার ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়।

লকডাউন তথা করোনাকালীন কঠোর বিধি-নিষেধের সময়েও পথ কুকুরদের খাওয়ানো যাবে। সেই অধিকার পশুপ্রেমীদের আছে। জানাল- দিল্লি হাইকোর্ট। শুধু রায়ই নয়, এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন বিচারক জে আর মিধা। 

বিচারক এ বিষয়ে যে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক…

প্রথমত, পথ কুকুরদের (‘কমিউনিটি ডগ’ টার্মটা ব্যবহার করেছে হাইকোর্ট) খাওয়ানো যাবে। তার অধিকার পশুপ্রেমীদের আছে। তারা নিজেদের উঠোনে বা নির্দিষ্ট স্থানে তা করতে পারেন। এ বিষয়ে স্থানীয় আধিকারিক বা রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েসনের সঙ্গে প্রয়োজনে আলোচনা করা যেতে পারে। আর অবশ্যই এই স্থান কুকুরটির অথবা কুকুরগুলোর এলাকার মধ্যে হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, টিকা দেওয়া এবং স্টেরিলাইজ করা কুকুরদের ধরার অধিকার মিউনিসিপালিটির নেই।

তৃতীয়ত, রাস্তার কুকুরদের টিকাকরণ ও স্টেরিলাইজেশনের দায়িত্ব মিউনিসিপাল কর্পোরেশন, রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় ডগ লাভার্স গ্রুপের। হাইকোর্ট জানায়, পথের কুকুরদের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে নির্বীজকরণ করা আবশ্যিক।

চতূর্থত, রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনগুলির সঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে, অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড (AWB) অব ইন্ডিয়াকে। টিকা ও নির্বীজকরণের কাজে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‘এডব্লিউবি’কে। সেই সঙ্গে প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি আইন মানা হচ্ছে কিনা, তাও নজর রাখতে হবে।

পঞ্চমত, কুকুরপ্রেমী এবং অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য স্থানীয় পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পথ কুকুরদের খাবার অধিকার আছে এবং পশুপ্রেমীদেরও তাদের খেতে দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর থেকে যেন কারও ক্ষতি বা সমস্যা না হয়।

বিচারপতি জে আর মিধা বলেন, ‘প্রতিটি জীবিত প্রাণীর প্রতি আমাদের সহমর্মিতা দেখানো উচিত। পশুরা কথা বলতে পারে না। কিন্তু আমাদের সামাজিক হিসাবে দায়িত্ব- ওদের হয়ে কথা বলা। পশুদের প্রতি যেন কোনও যন্ত্রণাদায়ক ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পশুদেরও আবেগ আছে। ওদেরও খাদ্য, বাসস্থান, স্বাভাবিক ব্যবহার এবং চিকিৎসার সুবিধা প্রয়োজন।’

নিউজজি/ওএফবি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers