সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৫ জিলহজ ১৪৪২

ফিচার
  >
বিচিত্র

চিংড়ি ধরতে গিয়ে তিমির পেটে মৎস্যজীবী, বাঁচলেন যেভাবে..

নিউজজি প্রতিবেদক ১৩ জুন , ২০২১, ১৫:৪৭:৩৭

  • ছবি: ইন্টারনেট

সমুদ্রে মাছ ধরতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির শিকার হলেন এক মৎস্যজীবী। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি মানে- নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণ ফিরে পেলেন। হ্যাঁ, দৈত্যাকার তিমির একবেলার খাবার হতে হতেও বেঁচে ফিরলেন মাইকেল প্যাকার্ড। সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে একটি হাম্পব্যাক তিমির কবলে পড়েন তিনি।  হাঁ করে তাকে গিলে নেয় তিমিটি। কিন্তু আস্ত মানুষ গিলতে না পেরে কয়েক মুহূর্ত পরই তাকে উগরে দেয়। মৃত্যুর মুখ থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরে এসে ভাগ্যকেও বিশ্বাস করতে পারছেন প্যাকার্ড।

শুক্রবার (১১ জুন) আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসের দ্বীপে এই ঘটনা ঘটেছে। পেশায় মৎস্যজীবী ৫৬ বছরের মাইকেল প্যাকার্ড তার এক সহযোগীকে নিয়ে সমুদ্রে গলদা চিংড়ি ধরতে গিয়েছিলেন। মাইকেল একজন ডুবুরিও। গভীর জলে নেমে গলদা ধরেন। তা করতে গিয়েই জলের নীচে ঝাঁকুনি অনুভব করেন। আচমকা একটা ধাক্কা খেয়ে চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায় তার।

মাইকেল যেখানে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, সেখানে হাঙরের আনাগোনা রয়েছে। তাই হাঙরই তাকে মুখে পুরেছে বলে প্রথমে ভেবেছিলেন মাইকেল। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারেন হাঙর নয়। শরীরে তেমন কোনও যন্ত্রণা অনুভব করেননি বলেও জানান মাইকেল। শুধু তাই নয়, তিমির মুখের ভিতরে তার শ্বাস-প্রশ্বাসও চলছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

এভাবে কয়েক মুহূর্ত যখন কী করবেন ভাবছেন, সেই সময় আচমকাই তাকে উগরে বের করে দেয় তিমিটি। তিমির মুখ থেকে ছিটকে পড়ে কোনও রকমে সাঁতার কেটে সহযোগীর কাছে পৌঁছান তিনি। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। তবে অল্পবিস্তর ব্যথা ছাড়া শরীরে আর কোনও সমস্যাই দেখা দেয়নি তার। হাসপাতাল থেকে নিজেই নেটমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন মাইকেল। এমন ‘আজব’ ঘটনা দেখে সঙ্গে সঙ্গে হামলে পড়েন সকলে।

সংবাদমাধ্যমে মাইকেল জানিয়েছেন, মাছ ধরতে প্রায় ৪৫ ফুট নীচে চলে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাকে মুখের মধ্যে পুরে নেয় তিমিটি। 

মাইকেল প্যাকার্ড বলেন, ‘এক ধাক্কায় চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে যায়। প্রথমে হাঙর ভেবেছিলাম। তারপর বুঝতে পারি তিমি। আমাকে গিলে খাওয়ারর চেষ্টা করছিল। ঈশ্বরকে ডাকতে শুরু করি আমি। ভেবেই নিয়েছিলাম, মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছি। ওইভাবে প্রায় ৩০ সেকেন্ড মতো ছিলাম।’

ঘটনার সময় মাইকেলের সঙ্গে ছিলেন তার সহযোগী জোসিয়া মেয়ো। তিমিটি যখন মাইকেলকে উগরে বার করে দেয়, সেই সময় জলে আলোড়ন দেখতে পান বলে ঘনিষ্ঠদের তিনিও জানিয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসতে রাজি হননি তিনি। মাইকেলের দাবি উড়িয়ে দেওয়ার প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের প্রোভিন্সটাউনের সেন্টার ফর কোস্টাল স্টাডিজের তিমি বিশেষজ্ঞ জুক রবিনস। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। মিথ্যে গল্প বলে মনে করি না। যাদের সঙ্গে এটা ঘটেছে, আমি তাদের চিনি। প্যাকার্ড ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন। ভাগ্য ভালো, তাই বেঁচে গেছেন।’

জুকের যুক্তি, খিদে মেটাতে হাঁ করে মাছের ঝাঁকের দিকে ছুটে যায় তিমি। তাই একসঙ্গে অনেক মাছ ও জল তার মুখে ঢুকে যায়। তার সঙ্গেই মাইকেল ঢুকে গিয়ে থাকবেন। তবে হাঁ বড় হওয়ায় আস্ত মাইকেলকে মুখে পুরে নিলেও, তিমির গলা সরু ছিল। যে কারণে গিলতে পারছিল না। তাই পরে উগরে দেয়। 

জুকের মতে, যে তিমিটি মাইকেলকে মুখে পুরে নেয়, সেটির বয়স কম। তাই আস্ত মানুষ মুখে ঢুকেছে বুঝে ওঠতে সময় লাগে তার।

নিউজজি/ওএফবি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers