বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৭ জিলহজ ১৪৪২

ফিচার

বাংলাদেশের ঝরনা রাণী খ্যাত ‘খৈয়াছড়া ঝরনা’

নিউজজি ডেস্ক জুন ১২, ২০২১, ১৪:৫৭:১৬

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: গহীন প্রকৃতির মাঝে সবার মধ্যমণি হয়ে বাস করেন এক রাণী। সবার থেকে আলাদা, সবার থেকে বড়, সবার থেকে সুন্দরী এই রাণীর নাম খৈয়াছড়া ঝরনা। বাংলাদেশের অন্যান্য ঝরনাগুলো থেকে আলাদা হওয়ায় ভ্রমণপ্রেমীরা আদর করে একে ‘ঝরনা রাণী’ বলে ডাকে। আর ডাকবে না বা-ই কেন? খৈয়াছড়ার রূপ আর আভিজাত্যের ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো ঝরনা।

পরিচিতি

খৈয়াছড়া ঝরনা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। বড় তাকিয়া বাজার থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার ভিতরে গেলে এর দেখা পাওয়া যাবে। বড় তাকিয়া বাজার থেকে খৈয়াছড়া ট্রেইল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার, বাকি আড়াই বা তিন কিলোমিটার পর্যন্ত খৈয়াছড়া ট্রেইল। খৈয়াছড়া ঝরনা মোট নয়টি ক্যাসকেড নিয়ে গঠিত। ট্রেইল ধরে সোজা এগিয়ে গেলে বড় এই ঝরনাটার দেখা পাওয়া যাবে। বাকি আটটি ঝরনা দর্শনে আপনাকে ঝরনাগুলোর পাশের পিচ্ছিল পাহাড় বেয়ে উঠে যেতে হবে উপরে। যার জন্য লাগবে সাহস, প্রবল উদ্যম আর জয় করার অদম্য ইচ্ছা।

কী আছে খৈয়াছড়ায়

খৈয়াছড়া ঝরনা বিখ্যাত এর ক্যাসকেডগুলোর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের কারণে। বড় তাকিয়া বাজার থেকে মূল ঝরনা পর্যন্ত জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটা পথ, যার অর্ধেকের বেশি ঝরনার পানি চলাচলের কারণে পিচ্ছিল এবং কর্দমাক্ত হয়ে থাকে।

 

প্রথম ঝরনা থেকে দ্বিতীয় ঝরনায় যাওয়ার জন্য পাহাড়ে কয়েকটা দড়ি বেঁধে দেওয়া আছে। দড়ি ধরে ধরে উপরে উঠবেন। কিন্তু সাবধান! পাহাড়ের ঢাল কিন্তু প্রচণ্ড পিচ্ছিল। উপরে উঠতে খুবই সাবধান। দ্বিতীয় ঝরনা থেকে উপরে আর কোনো দড়ি নেই। পাহাড়ের খাঁজে পা রেখে বা পাহাড়ি গাছের লতা ধরে উঠে যেতে হবে উপরে। ঝরনার তৃতীয় ধাপটি অন্য ধাপগুলোর চেয়ে স্বতন্ত্র। এই ধাপ থেকে নিচের দুই ধাপের প্রবাহ দেখা যায়। এভাবে উপরে মোট নয়টি ধাপ পাবেন। মোট নয়টি ধাপের কয়েকটি ধাপে পাবেন নয়নাভিরাম ক্যাসকেডের। যেরকম বাংলাদেশের অন্য কোনো ঝরনায় এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। নবম ধাপে পাবেন পানির স্রোতে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক লেকের। একে খৈয়াছড়া লেক বলে অনেকে। এটাই খৈয়াছড়া ঝরনার পানির মূল উৎস।

কীভাবে যাবেন

যদি ঢাকা থেকে আসতে চান তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম অথবা ঢাকা-ফেনীগামী কোনো রাতের বাসে উঠে পড়ুন। ভোরে ফেনী নেমে গেলে নাস্তা সেরে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যায় এমন বাসে উঠুন। হেল্পারকে বললে আপনাকে একেবারে খৈয়াছড়া রাস্তার মাথায় নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে বা হেঁটে হেঁটে চলে যেতে পারেন ট্রেইলের কাছে। চাইলে দুপুরের খাবার নিয়ে নিতে পারেন। কারণ সবগুলো ঝরনা ঘুরে দেখতে চাইলে নামতে নামতে সন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।

কোথায় থাকবেন

বড় তাকিয়া বাজারে থাকার হোটেল নেই। যদি রাত থাকতে চান তাহলে কাছের মিরসরাই পৌরসভায় বা ফেনী চলে যেতে পারেন। আর যদি থাকতে না চান তাহলে লেগুনা করে মিরসরাই চলে যান। সেখান থেকে ঢাকার বাস পেয়ে যাবেন।

সতর্কতা

খৈয়াছড়া ঝরনা খুবই দুর্গম ও বিপজ্জনক। উপরে উঠতে চাইলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। সাপোর্টের জন্য একটি শক্ত মুলি বাঁশ নিয়ে নিন। ট্রেইল শুরু হবার আগেই পেয়ে যাবেন বাঁশের দোকান। পিস ১০ টাকা করে নেবে।

মনে রাখবেন খৈয়াছড়া বাংলাদেশের অনন্য ঝরনাগুলোর মধ্যে একটি। এর রূপ-বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ঝরনার পানিতে কোনো ধরনের প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলবেন না। কোনো বন্য প্রাণীর ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকবেন। একে অপরকে সাহায্য করবেন।

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers