মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৫ সফর ১৪৪৮

ফিচার

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস আজ

নিউজজি ডেস্ক জুন ৭, ২০২৬, ১২:৩১:১৭

175
  • ৬ দফা দিবস

ঢাকা: আজ ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। ১৯৬৬ সালের এই দিনে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত ৬ দফা দাবির সমর্থনে আওয়ামী লীগের আহ্বানে হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র মানুষের ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, সফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন।

শহীদদের রক্তের বিনিময়ে ৬ দফা আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা স্ফুলিঙ্গের মতো বিস্তার লাভ করে। এর ফলে রাজপথে নেমে আসে বাংলার মুক্তিকামী জনগণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী শক্তিশালী গণআন্দোলনের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে ৬ দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীসহ আরো অনেকে। তবে সে লড়াই গতি পায় ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। 

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন বঙ্গবন্ধু। এই দাবির মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য অধিকতর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।

ছয় দফার মূল বক্তব্য ছিল—প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ছাড়া সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকবে। পাশাপাশি পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে পৃথক ও সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি মুদ্রা ব্যবস্থা চালু, কর ব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রাদেশিক সরকারের কাছে রাখা এবং দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আলাদা হিসাব সংরক্ষণ করা। এছাড়া পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা জোরদারে এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপনের কথাও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এসব দাবির সমর্থনে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকে হরতাল চলাকালে টঙ্গী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই আপসহীন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, গণআন্দোলন এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে অগ্রসর হয় পরাধীন বাঙালি জাতি। ছয় দফা ধীরে ধীরে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ছয় দফা আন্দোলন দমনের জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাবন্দি করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়। এরপরও আন্দোলন থামানো না গেলে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে চিরতরে তার কণ্ঠ রোধ করার উদ্দেশ্যে আইয়ুব খান “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য” নামে আগরতলা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও লেখেন, সে সময় ছয় দফা ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চারটি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এরপর ছয় দফাকে ১১ দফা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে তা গ্রাম-গঞ্জ, শহর, বন্দর, কল-কারখানা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ছয় দশক পরও বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় ছয় দফা। সে সময়ের ছয়টি দাবি ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠনের দীর্ঘ যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers