শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ , ২২ শাওয়াল ১৪৪৭

ফিচার

ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে

মাঈনুদ্দীন দুলাল এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১৮:৫১:১১

142
  • সংগৃহীত

প্রবাদ আছে “যুদ্ধ এবং ভালোবাসায় যুক্তি এবং নীতি নেই”। কিন্তু এটি কি সভ্য মানুষ সমর্থন করবেন? করা উচিত? ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনের গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭২,০০০ জনের বেশি ছাড়িয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মতে আহত হয়েছেন ১ লক্ষ ৭২ হাজার।

১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট গৃহীত চারটি আন্তর্জাতিক চুক্তির সমষ্টি হল জেনেভা কনভেনশন। যুদ্ধের ভয়াবহতা কমিয়ে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে এই সনদ । যুদ্ধক্ষেত্রে আহত, অসুস্থ সৈনিক, যুদ্ধবন্দী এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার রক্ষায় কাজ করেতে এই সনদ। এই কনভেনশনগুলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং এর মূল লক্ষ্য হলো সংঘাতের সময়েও মানবতা বজায় রাখা। ইসরায়েলের এই নির্মমতার নিন্দা জানাচ্ছে সারা বিশ্ব। সভ্য মানুষের সকল সম্মান হারিয়েছে ইসরায়েল। যেমন- ইসরায়েল গাজা অভিযানে স্কুল, হাসপাতাল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেবা প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে।

১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট গৃহীত চারটি আন্তর্জাতিক চুক্তির সমষ্টি হল জেনেভা কনভেনশন। যুদ্ধের ভয়াবহতা কমিয়ে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে এই সনদ। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত, অসুস্থ সৈনিক, যুদ্ধবন্দী এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করেতে এই সনদ। এই কনভেনশনগুলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং এর মূল লক্ষ্য হলো সংঘাতের সময়েও মানবতা বজায় রাখা।

ইসরায়েল জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হয়েও বারবার এই সনদের শর্ত লঙ্ঘন করছে। সম্প্রতি কোন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের প্রবণতায় বিশ্ব রাজনীতি ও সৌজন্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। চলতি  বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন বাহিনী অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিসোলভ নামের অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কারাকাস থেকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মার্কিন আদালত তাদের বিচার করছে। রাশিয়া, চীন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এই অপহরণ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সম্প্রতি মার্চ মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, উপদেষ্টা আলী লারিজানিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ইরানের আইআরজিসি বাহিনীর প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদেমিকে হত্যা করা হয়েছে। এই সব হত্যাকাণ্ডকে গুপ্ত হত্যাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এইসব হত্যাকাণ্ড ইরানকে একরোখা অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে এবং আলোচনা ও সমঝোতার পথ সংকুচিত হয়ে আসছে।

আমেরিকা নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি তাদের ইতিহাসে মোট চারজন প্রেসিডেন্ট আততায়ীর গুলিতে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন। এরা হচ্ছেন, আব্রাহাম লিংকন (১৮৬৫), জেমস এ. গারফিল্ড (১৮৮১), উইলিয়াম ম্যাককিনলি (১৯০১) এবং জন এফ. কেনেডি (১৯৬৩)। গত নির্বাচনে প্রচার চালানোর সময় আততায়ীর গুলি ট্রাম্পের কানের পাশ দিয়ে গেছে। একটি দেশের শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হত্যা কি জেনেভা কনভেনশন সমর্থন করে? জাতিসংঘ এবং বিশ্ব বিবেক কি প্রত্যাশা করে? এরপর যে কোনো যুদ্ধ বা সংঘর্ষে এই প্রবণতা চলতে থাকবে? আর ভেঙ্গে পড়বে সমস্ত আন্তর্জাতিক নর্ম।

নিউজজি/নাসি 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers