রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফিচার

বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক ও উদ্ভাবক জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ

নিউজজি ডেস্ক সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫, ১৩:৫০:৪০

314
  • বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক ও উদ্ভাবক জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ

ঢাকা: জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ একজন বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক ও উদ্ভাবক।তিনি ভারতবর্ষে জ্ঞান ঘোষ আর ইউরোপে স্যার জি সি ঘোষ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি তার অমূল্য গবেষণা কর্ম, শিল্প ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভারতে প্রযুক্তি শিক্ষার বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের জন্ম বৃটিশ ভারতের বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা সেপ্টেম্বর। পিতার নাম রামচন্দ্র ঘোষ। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে গিরিডি থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ স্থান অধিকার করে আই.এসসি ও কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে বি.এসসি এবং ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়হতে এম.এসসি.পাশ করেন ।

তিনি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ছাত্র ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও মেঘনাদ সাহার সতীর্থ ছিলেন। তিনি গাঢ় দ্রবণের মধ্যে লবণের অণুগুলি কীভাবে আয়নিত হয়ে বিদ্যুৎ পরিবহণ করে—এই বিষয়ে মৌলিক গবেষণা করে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে ডি.এসসি উপাধি লাভ করেন ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি ও স্যার তারকনাথ পালিত স্কলারশিপ পান। তার এই গবেষণালব্ধ তত্ত্ব “ঘোষের আয়নবাদ” নামে বিখ্যাত । বৃত্তি পেয়ে লন্ডনে যান এবং সেখান থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন । তার গবেষণা স্বনামধন্য বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাংক, উইলিয়াম হেনরি ব্র্যাগ, ভালগার নের্নষ্ট প্রমুখ দ্বারা উচ্চ প্রসংশিত হয়।

এম.এসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁকে অধ্যাপকের পদ গ্রহণে আমন্ত্রণ জানান । ফল প্রকাশের পর নবনির্মিত রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন । ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে নবগঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং দীর্ঘ কুড়ি বৎসর অধ্যাপনার সাথে নানা ধরনের গবেষণায় ব্যাপৃত ছিলেন। তার মধ্যে আলোক রসায়ন বা ফোটো কেমিস্ট্রি উল্লেখযোগ্য। সাধারণ গ্যাস হতে ফিসার-ট্রপস পদ্ধতিতে অনুঘটকের উপস্থিতিতে তরল জ্বালানির উৎপাদন-বিষয়ে তার গবেষণা দেশেবিদেশে সমাদৃত হয়েছে । এই গবেষণা বিষয়ে তার রচিত গ্রন্থ হল— ‘সাম ক্যাটালাইটিক রিয়্যাকশন অফ ইন্ডাস্ট্রিয়ার ইমপরট্যান্স’।

১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামনের পর বাঙ্গালোরেস্থিততথা ইণ্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সর অধিকর্তাসহ ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি হন। ইণ্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি । ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে থেকে দেশে নানা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার বহন করেছেন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের প্রথম আই.আই.টি. খড়্গপুরের (ইণ্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, খড়্গপুর) প্রথম ডিরেক্টর হন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন । ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসাবে শিক্ষা, বিজ্ঞান গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শক ছিলেন তিনি ।

ড. জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ দেশবিদেশের বহু সম্মান লাভ করেন । ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি “নাইট” উপাধিতে ভূষিত হন। ভারত সরকার তাকে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে 'পদ্মভূষণ' সম্মানে সম্মানিত করে।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers