বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩২ আষাঢ় ১৪৩৩ , ৩০ মুহররম ১৪৪৮

ফিচার

দর্শক-হৃদয়ে ‘মহানায়ক’ হয়ে বেঁচে আছেন বুলবুল আহমেদ

সুমিত দত্ত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫, ১৩:৪৪:০৪

305
  • দর্শক-হৃদয়ে ‘মহানায়ক’ হয়ে বেঁচে আছেন বুলবুল আহমেদ

তার বিচরণ ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগে। কিন্তু সাদাকালো পর্দার অভিনেতা হয়েও তিনি কালের সীমানা পেরিয়ে একাধিক প্রজন্মের মনে রঙিন আলো ছড়িয়েছেন। সুদর্শন নায়ক বলতে যে’কজন সত্তর-আশির দশকে বাঙালি দর্শকের মন জয় করেছেন, তরুণী-যুবতীদের স্বপ্নের পুরুষ হয়েছেন, তাদের অন্যতম বুলবুল আহমেদ। ঢাকাই চলচ্চিত্রে তাকেই প্রথম ‘মহানায়ক’ বলা হয়। এমনকি ঢালিউডের প্রথম ‘দেবদাস’ও তিনিই।

প্রখ্যাত এই অভিনেতার জন্মদিন আজ। ১৯৪০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন বুলবুল আহমেদ। তার আসল নাম তাবারক আহমেদ। বাবা-মা তাকে আদর করে বুলবুল বলে ডাকতেন। আর এই নামেই তিনি পরিচিত হন দেশজুড়ে।

ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনা করেন। এরপর তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংক টিএসসি শাখার ম্যানেজার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন বুলবুল আহমেদ।

চাকরির পাশাপাশিই অভিনয় শুরু করেন বুলবুল আহমেদ। টেলিভিশন নাটকে অভিনয় দিয়েই শুরু হয় তার অভিনয় জীবন। আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় ‘বরফ গলা নদী’ নাটকে প্রথম অভিনয় করে বুলবুল। এরপর একে একে তিনি প্রায় চার শতাধিক নাটকে অভিনয় করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— মালঞ্চ, ইডিয়েট, মাল্যদান, বড় দিদি, আরেক ফাল্গুন, শেষ বিকেলের মেয়ে।

বুলবুল আহমেদের চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয় ১৯৭৩ সালে আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের (ইউসুফ জহির) ‘ইয়ে করে বিয়ে’ সিনেমার মাধ্যমে। এই সিনেমাতে তার অভিনয় আলোচিত হয়। যার ফলে পরের বছর আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘অঙ্গীকার’ সিনেমাতে অভিনয় করেন। এটিও দারুণ সাফল্য পায়।

ক্যারিয়ারে বুলবুল আহমেদ অনেক সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ‘মহানায়ক’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য্য কন্যা’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘জীবন নিয়ে জুয়া’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘বধূ বিদায়’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দি ফাদার’ উল্লেখযোগ্য। তবে বুলবুল আহমেদ বাংলা চলচ্চিত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন যে’কটা সিনেমার জন্য সেগুলো হলো ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘দেবদাস’ ও ‘মহানায়ক’। এই সিনেমাগুলো তাকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়।

শুধু অভিনয়ই নয়, চলচ্চিত্র পরিচালনা করেও সফল হন বুলবুল আহমেদ। তার পরিচালিত ‘ওয়াদা’, ‘মহানায়ক’, ‘ভালো মানুষ’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘আকর্ষণ’, ‘গরম হাওয়া’, ‘কত যে আপন’ সিনেমাগুলো আলোচিত হয়েছে।

অভিনয়ের জন্য বুলবুল আহমেদ চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৭৭ সালে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ১৯৭৮ সালে ‘বধু বিদায়’, ১৯৮০ সালে ‘শেষ উত্তর’ ও ‘১৯৮৭ সালে ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ সিনেমার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

ব্যক্তিগত জীবনে বুলবুল আহমেদ বিয়ে করেছিলেন ডেইজি আহমেদকে। তাদের তিন সন্তান ঐন্দ্রিলা, তিলোত্তমা ও শুভ। এর মধ্যে ঐন্দ্রিলা আহমেদ অভিনেত্রী ও গায়িকা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।

২০১০ সালের ১৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন বুলবুল আহমেদ। তার চলে যাওয়া ঢাকাই সিনেমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত। তবে তিনি তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দেশের সিনেমায় যে অবদান রেখেছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে বেঁচে থাকবে সিনেমার ইতিহাসে। আর বুলবুল আহমেদও থেকে যাবেন দর্শকদের মনের প্রিয় একটি ভালোবাসাময় অনুভূতি হয়ে।

নিউজজি/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers