সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

বিনোদন
  >
ব্যান্ড মিউজিক

সারেগামাপা’তে আবারো সমালোচিত নোবেল!

মোরসালিন আলিফ জিয়ন ১৪ জুলাই , ২০১৯, ১৩:৪০:৫৯

  • সারেগামাপা’তে আবারো সমালোচিত নোবেল!

চারিদিকে উৎসব, পরিপূর্ণ নিয়ন আলোয়

আমার এ পৃথিবী,

ঘিরে আসছে আঁধার কালোয়

সানাইয়ের সুর নিয়ে যাবে দুর

একটু একটু করে

আজকে রাতে তুমি অন্যের হবে

ভাবতেই জলে চোখ ভিজে যায়

এত কষ্ট কেন ভালবাসায়...

৯০ দশকের জনপ্রিয় এই গানটি শোনেনি এমন কেউ বোধহয় নেই। ভালোবাসার মানুষকে অন্যের হতে দেখার কষ্ট, আবেগে পরিপূর্ণ এ গান শুধু সেই সময় নয় এখনও সবাইকে কাঁদায়, আক্ষেপে পুড়তে থাকা রাত জেগে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গী এই গান। কিন্তু অবিনশ্বর এই গানটির পেছনের কারিগরকে যদি এখনো বলে দিতে হয় এই গানটি আসলে কার তাহলে বুঝতে হবে আমরা জাতিগতভাবে কতটা পেছনের দিকে চলে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে এর দায়ভার নিতে হবে আমাদেরই।

গতকাল রাতে কলকাতার জনপ্রিয় গানের অনুষ্ঠান ‘সারেগামাপা’-তে নোবেল ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসা’ গানটি পারফর্ম করেন। গানটি শুরু করার আগে তিনি গানটি আর্ক ব্যান্ডের গান বলে জানান। অথচ এই গানটি প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত "শেষ দেখা" নামে সুপারহিট মিক্সড অ্যালবামে প্রথমবার প্রকাশ পেয়েছিল। পরে ২০০২ সালে ‘ছুটি’ নামে মিক্সড অ্যালবামে আনপ্লাগড ভার্সনে আবার রিলিজ দেয়া হয় গানটি। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নোবেল প্রিন্স মাহমুদের কথা না বলে ভুলক্রমে গানটিকে আর্কের বলে জানায়। এরপর গতকাল রাতে প্রিন্স মাহমুদ নিজেই একটি স্ট্যাটাস দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেন বিভ্রান্তি দূর করেন গানটি নিয়ে।

একজন শ্রোতা যখন গান শোনেন তখন এর সুরকার, গীতিকারের ব্যাপারে নাই জানতে পারেন। কিন্তু আপনি যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে আপনার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন তখন অবশ্যই আপনাকে গান এবং গানের সংশ্লিষ্ট মানুষজনের ব্যাপারে পরিপূর্ণ ধারণা থাকতেই হবে এবং যথার্থ মর্যাদা দিতেই হবে।

গতকালের ভুলের জন্য বেশ সমালোচিত হচ্ছেন নোবেল। নেটিজেনরাও ক্ষুদ্ধ নোবেলের এই ভুলের জন্য। কারণ এই ভুলতো প্রথম নয়!

এর আগেও একই মঞ্চে এমন ভুল করেছেন তিনি। ‘বাবা’ এবং ‘মা’ গানের সময়ও এমন ভুল করেছিলেন নোবেল। তখন এ ভুলকে ক্ষমাশূন্য দৃষ্টিতে দেখা হলেও তিনবার একই ভুল করাতে এখন প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা, আসলেই কি এটা ভুল নাকি মূল তথ্য জানতে চাইতে অনাগ্রহ?

যেখানে সারেগামাপা’র বিচারকদের তিনি ‘স্যার স্যার’ বলে সম্বোধন করেন সেখানে প্রিন্স মাহমুদকে স্যার বলতে যেনো তার যথেষ্ট অনীহা! কমেন্টসে এসব জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অনেকে।

খুব যত্ন নিয়ে, ভালোবেসে একজন সুরকার, গীতিকার তার গানগুলো তৈরি করেন। যখন সেই গানগুলোর জন্য তার প্রাপ্য সম্মান তাকে দেয়া না হয় তখন সেটি পুরো জাতির জন্য লজ্জার। তাই নোবেলের প্রতিবারই এমন ভুল করা কি অজ্ঞতা, অনীহা নাকি অবহেলা?

 

নিউজজি/এক্স

পাঠকের মন্তব্য

নাম: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
২০১৯-০৭-১৬ ০৫:৫০:২৫
মন্তব্য: (collected) প্রিন্স মাহমুদ, নোবেল এবং উভয়ের ভক্তদের উদ্দেশ্যে একটা খোলা চিঠি -- সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট : সাম্প্রতিক কালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা ব্যাপার নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। Zee Bangla সারেগামাপা নামক একটি reality show তে নোবেল প্রিন্স মাহমুদের সুরে এবং আর্কের হাসানের গাওয়া “এত কষ্ট কেনো ভালোবাসায়” গানটি পরিবেশন করেন। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নোবেলের গায়কী বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছে, কিন্তু গোলোযোগটা বেধেছে যখন তিনি প্রিন্স মাহমুদের নাম উল্লেখ না করে বলেছেন “আর্কের গান”। এতে প্রিন্স মাহমুদ মনঃক্ষুন্ন হয়েছেন এবং একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তা জানিয়েছেন। মিডিয়াতে এই তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয়ের ভক্তকুলের মধ্যে একটা ফিতনা ফাসাদ তৈরী হয়ে যায়। ব্যাপারটা আপাতঃদৃষ্টিতে যতটা সহজ বলে মনে হয়, বাস্তবে তা অতটা সহজ নয়। অনেকগুলো factor আছে এখানে। যেহেতু আলোচনাটা আকাদেমিক না, তাই সেগুলোর বিন্যস্তকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাব না, শুধু পয়েন্ট আকারে লিখছি। ১। নোবেল কী ভুল করেছে? :> হ্যা, অবশ্যই করেছে। এতে কোনো সন্দেহ রাখার কোনোই অবকাশ নাই। বাংলাদেশে সুরকার এবং গীতিকারের মর্যাদা সঠিকভাবে দেয়া হয়না বলেই মিয়জিক scene এর আজ এই দুরবস্থা। মেধাকে ছাপিয়ে ব্যবসায়িক দিকটা প্রাধান্য পাচ্ছে। আর তাই ভাইরাল টাইরাল হবার যুগে তস্য মেধাহীন, মিডিওকার সমস্ত অটোটিউন করা গায়ক এবং সুরকাররা প্রিন্স মাহমুদের মত গুনী মানুষের পাশে হেই হেই করে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছে। এটাকে শুধরানো উচিত বলে আমি মনে করি এবং যারা গায়ক তাদের অবশ্যই সুরকার এবং লিরিক রাইটারের ব্যাপারে রিসার্চ করে আসা উচিত। অন্য দেশের উদাহরণ টানাটা এখানে অযৌক্তিক, কারণ সেসব দেশে গানের স্রষ্টার মান-মর্যাদা রক্ষা নিশ্চিত করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশে প্র্যাকটিস টা নাই, তাই এটাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য musician দেরকেই চাপটা প্রয়োগ করতে হবে। ২। ভুল হয়েছে। তো এখন নোবেলের করনীয় কী? :> জরুরী ভিত্তিতে প্রিন্স মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা। কথাতেই সম্পর্ক ভাঙ্গা, কথাতেই সম্পর্ক গড়া। ৩। ভুলটা কি ক্ষমার অযোগ্য? :> কারো প্রতি অন্যায় হলে সেটা যার প্রতি হয়েছে ক্ষমাটা তার উপর নির্ভর করে। তবে আমার দিক থেকে ব্যাপারটা বিবেচনার জন্য প্রিন্স মাহমুদকে অনুরোধ করব। আমি নিজে “এত কষ্ট কেনো ভালোবাসায়” লিখে ইউটিউবে সার্চ দিয়ে যা পেলাম তাতে মনটা খারাপ হয়ে গেল। প্রায় কোথাও প্রিন্স মাহমুদের নাম উল্লেখ নাই। কোনো লাইভ শো তেও নাই। এমনকি অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও তে কোথাও প্রিন্স এর নাম আসেনি। শুধু “performer Hasan” লেখা। যে চ্যানেল থেকে ছাড়া হয়েছে তাতে শুধু description এ দেয়া আছে, কিন্তু চ্যানেলটা অফিশিয়াল কিনা তা জানার উপায় নাই (https://www.youtube.com/watch?v=phu7YtUma9w)। SATV তে বাংলাদেশ আইডলে দেখলাম একটা মেয়ে এই গানটা গেয়েছে। এখন বাংলাদেশ আইডল থেকে প্রচারিত তথ্যকে আনঅফিসিয়াল ভাবার কোনো কারণ নাই। ইউটিউব চ্যানেল ডেস্ক্রিপশন তো দূরে থাক, সরাসরি ভিডিওতে দেয়া ক্যাপশন থেকে দেখবেন, সেখানে লেখা সুরকার আশিকুজ্জামান টুলু (https://www.youtube.com/watch?v=rpBem85hrTY&t=58s)। এটা দেখলে প্রফেশনালরাও ভুল বুঝবে। আপনারা যারা এসব দেখে দেখে এবং ঠেকে ঠেকে অভ্যস্ত তারাই শুধু জানেন যে অফিসিয়াল টিভি চ্যানেল থেকেও ভুলভাল তথ্য দেয়া হয় প্রায়সই। তাই আমি নোবেলকে হয়ত benifit of doubt দেবার জন্য অনুরোধ করতে পারি, কারণ ও নতুন। অনেক কিছু শেখা বাকি। ছোটরা যেহেতু বড়দের থেকেই শেখে, তাই অহরহ এভাবে ঘটে যাওয়া বড়দের করা অন্যায়গুলোর বিরুদ্ধে প্রথমে কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করা উচিত বলে মনে করি। মাঝখানে হঠাৎ নোবেল মিডিয়া-রোষের স্বীকার হলে ওর ঘাড়ে পা দিয়ে আসল কালপ্রিটরা দিব্যি আস্ফালন করে বেড়াবে। মোদ্দা কথা বৌ কে মেরে ঝি কে শেখানোর থেকে ঝি কে মেরে বৌ কে শেখানো অধিকতর উপযোগী। কারণ আপনার সুভোগ্য সন্তানকে বৌটিই পৃথিবীতে আনতে পারবে, ঝি পারবে না। ৪। তো নোবেল ফ্যানরা যে গালাগালি দিচ্ছে? সেটা কীভাবে নেয়া উচিত? :> যেসব নোবেল ফ্যান প্রিন্স এর দোষ ধরছে, তারা সংগীত নিয়ে কিছুই জানে না। তাদেরকে বিবেচনাতেই আনা উচিত না, no one should waste their valuable time for insignificant scumbags. ৫। প্রিন্স মাহমুদের ফ্যানরা যারা নোবেলকে গালি দিচ্ছে, তাদের কিভাবে নিব? :> এর উত্তর প্রিন্স মাহমুদ নিজেই তার স্ট্যাটাস এ সুন্দর করে বলেছেন। মুখ খারাপ যেই করুক, সেই পতিত। গালি কখনোই কোনো সমাধান না। ৬। আচ্ছা, স্যার না বলে ভাই কিংবা শুধু নাম ধরে ডাকাটা কী বেয়াদবি না? :> মোটেও না। সিনিয়র মিউজিশিয়ান যেমন প্রিন্স মাহমুদ, জেমস, পার্থ, প্রমুখ বাংলাদেশের অত্যন্ত গুনীজন, তাঁদের সম্মান বজায় থাকবে তাঁদেরকে proper credit দিলে, প্রাপ্য রয়ালটি নিশ্চিত করা গেলে এবং জাতীয়ভাবে সম্মাননা দিলে। কিন্তু ব্রিটেনের রানী যদি উনাদের knighthood দিয়ে ভূষিত করতেন, তাহলে hypothetically উনাদের যে উপাধি হতো, সেটা ধরে ডাকতে বাধ্য করাটা হাস্যকর এবং উনাদের জন্যেও বিব্রতকর। -- একজন প্রিন্সভক্ত

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers