সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ , ৬ শাওয়াল ১৪৪৫

বিনোদন
  >
ব্যান্ড মিউজিক

আজম খান আমাকে অনেক আদর করতেন: তুহীন

নিউজজি প্রতিবেদক ২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯, ১২:৪৬:৩০

9K
  • ছবি: হৃদয় হাসান

বাংলাদেশের পপগুরু আজম খান। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশে পপ ও রক গানের সূচনা করেছিলেন তিনি। সহজ সরল কথা-সুরে তিনি মুগ্ধ করেছেন শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের। তার দেখানো পথ ধরে হেঁটে হেঁটে আজ বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীত এগিয়েছে বহুদূর। তাইতো কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রতি প্রত্যেকটি ব্যান্ড ও ব্যান্ড সদস্যদের মনে রয়েছে আলাদা শ্রদ্ধার জায়গা।

পৃথিবীর চিরায়ত নিয়মের জালে বন্দী হয়ে চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন আজম খান। কিন্তু তার সৃষ্টিকর্ম ও তিনি আজও উজ্জ্বলভাবে বেঁচে আছেন এই বাংলার আলো-বাতাসে। আর তাই ফেব্রুয়ারির শেষ দিনটা এলেই সবার মনে সীমাহীন আবেগ আর ভালোবাসায় উঁকি দেন সরল মনের মানুষটি। হ্যাঁ, আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি আজম খানের জন্মদিন।

আজম খানের জন্মদিনে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। বাদ নেই শোবিজ ভুবনের মানুষজনও। বিশেষ এই দিনে আজম খানের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করলেন হালের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা তানযীর তুহীন। নিউজজি’র সঙ্গে একান্ত আলাপে বিনিময় করলেন মনের গহীনে থাকা কিছু কথা। গান-গল্পের ভিজুয়াল আড্ডাটি সঞ্চালনা করেছেন নিউজজি’র বিনোদন সম্পাদক মনজু আহমেদ

নিউজজি: আজম খানের সঙ্গে আপনার কোনো স্মৃতি বা কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা যদি শেয়ার করেন...

তুহীন: আজম খান আমাদের জন্য একটা অহংকার। অহংকার হওয়ার প্রথম কারণ তিনি ১৯৭১ সালে আমাদের দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তিনি মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সঙ্গীতের যেই ধারা এবং স্বাধীনতার পরবর্তী গানের অবস্থা; নজরুল-রবীন্দ্রনাথের গানের পাশাপাশি আধুনিক ও পপ-রক গানের প্রচলন অনেকখানি তিনি করে গেছেন। উনার গানগুলোর ভাষা খুব সহজ-সরল এবং তার গানের গলাটা ছিলো মানুষের মনকে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। আজম খানের সঙ্গে আমার স্মৃতি হচ্ছে- আমি ১৯৯১ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। তখন আমাদের নবীন বরণ কনসার্টে আজম খান এসেছিলেন। আমি স্টেজের সামনে থেকে তার গানের সঙ্গে লাফিয়েছি, নেচেছি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আজম ভাইকে বিভিন্ন কনসার্টে পেয়েছি। আমাকে অনেক আদর করতেন তিনি।

 

 

নিউজজি: আজম খানের কোনো গান কভার করেন স্টেজে?

তুহীন: আজম খানের গান আমি আগেও কভার করে এসেছি, এখনো আমার নতুন ব্যান্ড ‘আভাস’ থেকে কভার করি এবং সারাজীবন উনার কোনো না কোনো গান করবই। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কভার করি ‘আমি যারে চাইরে, সে থাকে মোরই অন্তরে’। এই গানে আজম ভাইয়ের মূল সুরটাকে ঠিক রেখে আমাদের মতো করে কভার করি আমরা।

নিউজজি: শিল্পীদের তো আসলে মৃত্যু নেই। এই ক্ষেত্রে আজম খানকে নিয়ে কী বলবেন?

তুহীন: আমাদের যত বিখ্যাত শিল্পীরা এসেছেন, তারা বিশ্বব্যাপী কিংবা সারা বাংলাদেশ ব্যাপী অবস্থান করে নিয়েছেন। আসলে তাদের গানের চর্চা করেই আমরা গান শিখছি। যত মৌলিক কিছু তৈরি হোক বা হচ্ছে, যত অহংকারী মানুষই আসুক, সব কিন্তু সেই আগের তৈরি হওয়া ধারার অনুসারে হচ্ছে। আগের শিল্পীরা যদি সেটা করে না যেতেন, তাহলে কিন্তু এখনকার এতো কিছু হতো না। কারণ এটা একটা ধারা। সেই ক্ষেত্রে কোনো শিল্পীর মৃত্যু নেই।

 

 

নিউজজি: মৃত্যুর আট বছর পর আজম খানকে রাষ্ট্রী সম্মাননা একুশে পদক দেয়া হয়েছিলো। এই বিষয়ে কী বলবেন?

তুহীন: আসলে আমাদের দেশে ব্যান্ড সঙ্গীতকে গ্রহণ করার যেই মানসিকতা, সেটা অনেক দেরিতে তৈরি হয়েছে। যার কারণে হয়ত তারা যথাযথ সম্মানটা পাননি। কিন্তু কোনো শিল্পী রাষ্ট্রী সম্মান বা বড় পদকের জন্য কাজ করেন বলে আমার মনে হয় না এবং আমি সেটা বিশ্বাস করি। হ্যাঁ, জীবিত থাকা অবস্থায় যখন কোনো শিল্পী সম্মানিত হন, তখন তার মধ্যে কাজের অনুপ্রেরণা ও আগ্রহটা আরও বেড়ে যায়। তবে সম্মান মৃত্যুর আগে হোক বা পরে, সেটা সম্মানই।

পুরো আড্ডাটি দেখুন এখানে-

 

 

 

নিউজজি/কেআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন