বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮ , ১২ জিলকদ ১৪৪২

বিনোদন
  >
ব্যান্ড মিউজিক

স্বপ্নবাজ জন লেননের গল্প...

আশির কবীর ৯ অক্টোবর , ২০১৮, ১২:১৩:২২

  • স্বপ্নবাজ জন লেননের গল্প...

“আমার যখন পাঁচ বছর বয়স তখন থেকেই আমার মা আমাকে শিখিয়েছে সুখী থাকাই জীবনের আসল রহস্য। যখন আমি স্কুলে যাই তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে, বড় হয়ে কী হতে চাও? আমি লিখলাম সুখী থাকতে চাই। তারা আমাকে তখন বলে আমি প্রশ্নটি বুঝি নাই এবং আমি তাদের বলি তোমরা জীবনকে বুঝো নাই।” -জন লেনন।

‘ইম্যাজিন’, ‘গিভ পিস আ চান্স’ গানগুলো শুনলেই আপনার মস্তিষ্ক যার অবয়বটি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় তিনি হলেন জন লেনন। বিখ্যাত ব্যান্ড বিটলস্-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং গায়ক ও গীতিকার। এ ছাড়াও সুরকার, চিত্রশিল্পী, লেখক এবং শান্তিকর্মী।

 

গানের জগতে লেননের অবদান এতটাই অসামান্য যে, গত বছর বিজ্ঞানীরা বিশেষ জাতের এক মাকড়সার নাম রেখেছেন লেননের নামে। মাকড়সাটির কেতাবি নাম দেয়া হয়েছে বামবা লেননি।

বিটলস্-এ থাকাকালীন লেননের সাফল্য ছিল আকাশচুম্বী। বিটলস্ ভেঙ্গে যাওয়ার পরও সে সাফল্য কমেনি বরং বেড়েছে। ‘ইম্যাজিন’ গান দিয়ে পুরো পৃথিবীকে এক করার ইচ্ছার কথা সবাইকে জানিয়ে শ্রোতাদের মানসপটে এক বিশেষ জায়গা করে নেন জন লেনন।

সবাই যেখানে প্রতিভার খোঁজে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে, প্রতিভার নামে নিজেদের বিক্রি করে দিচ্ছে সেখানেই যেন ভিন্ন ছিলেন লেনন। প্রতিভার ব্যাপারে তিনি বলেন, “প্রতিভা কী তা আমি জানি না। প্রতিভা নিয়ে লোক জন্মায় নাকি সেটা পরে টের পাওয়া যায় তাও জানি না। আমার মতে, প্রতিভা হলো এই বিশ্বাস যে ‘আমি পারি’। আমার কোনো প্রতিভা নেই। প্রতিভার এ মিথটা আসলে ফুটো করে দেয়া দরকার।”

ছোটকাল থেকে গানের সঙ্গে ছিলেন লেনন। পনেরো বছর বয়স থেকে গান লেখা শুরু করেন। তার প্রথম ব্যান্ড ছিল ‘দ্য কোয়ারিমেন’। এরপর ১৯৬০ সালে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন বিটলস্। লেননকে বিটলস্ দলের নেতা হিসেবে ধরে নেয়া হতো। কেননা তিনিই মূল দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ম্যাককার্টনি বলেন, “আমরা সবাই লেননের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। তিনি ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ এবং অনেকটা নেতাসুলভ– তার বুদ্ধি ছিল সবচেয়ে তীক্ষ্ণ এবং তিনি সবার চেয়ে স্মার্ট।”

১৯৬৯ সালে ইয়োকো ওনোকে বিয়ে করেন। তারপর নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন জন ওনো লেনন।

মানুষদের আনন্দ দেয়ার পাশাপাশি গানের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা এবং সচেতনতা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে জন লেননের অবদান অসামান্য।

ষাটের দশকেই প্রথমে জড়িয়ে গেলেন প্রগতিশীল ধারার সঙ্গে। তিনি গাইলেন ‘গিভ পিস আ চান্স’ এবং ‘ওয়ার্কিং ক্লাস হিরো’র মতো বিখ্যাত গান। পরে আয়ারল্যান্ডের ব্রিটিশ আধিপত্যের বিরুদ্ধেও তিনি জোরালো ভূমিকা রাখেন। ষাটের দশকের প্রগতিশীলতার চিন্তা তার মধ্যে বজায় ছিল সত্তরের দশকেও। কিন্তু জন লেননও ষাটের দশকের অনেকের মতোই দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়লেন। পরবর্তীকালে তিনি তার বাম প্রগতিশীল চিন্তা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ভেবেছেন এবং একপর্যায়ে এ ব্যাপারে চুপচাপই হয়ে গেলেন।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমাদের সমাজ কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের দ্বারা পরিচালিত। কিছু পাগলের নেতৃত্বে আমরা চলছি। আমি মনে করি আমার এই মন্তব্যের জন্য সমাজ আমাকেই উদ্ভট বলবে।”

পৃথিবীর মানুষদের এক সুতোয় গাঁথার চেষ্টা, মানুষদের স্বপ্ন দেখার আহ্বান করা, নিজের স্বপ্ন দেখাই লেননের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৮০ সালের ৮ ডিসেম্বর মার্ক ডেভিড চ্যাপম্যান নামে মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ এক ব্যক্তির গুলিতে প্রাণ হারান৷ নিউ ইয়র্কে লেননের এপার্টমেন্টের বাইরে সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্ট-এ লেননকে পরপর চারবার গুলি করা হয়।

কিন্তু মৃত্যু নয়; আমরা জন লেননকে স্মরণ করবো ভালোবাসা দিয়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শান্তির কথাই বলেছিলেন তিনি। মানুষদের শিখিয়েছিলেন সুখে থাকাই জীবনের মূল। যা লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজের ভেতরেই।

আজ ৯ অক্টোবর সেই স্বপ্নবাজ মানুষটির ৭৭তম জন্মদিন। ভালোবেসে সবাই এক হয়ে পৃথিবীকে সুন্দর করার যে ইচ্ছা আপনি দেখেছিলেন তা এখনো পূরণ না হলেও, এ আদর্শকে মনের ভেতর পোষণ করে লাখ লাখ মানুষ। ভালো থাকবেন জন উইনস্টন ওনো লেনন।

নিউজজি/এক্স

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers