সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

বিনোদন
  >
ব্যান্ড মিউজিক

কোথায় তাদের নতুন গান

লুৎফর হাসান ৮ অক্টোবর , ২০১৮, ১৩:৫০:২১

  • কোথায় তাদের নতুন গান

এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় এক কণ্ঠশিল্পীর সাথে দেখা, তিনি খুব ব্যস্ত। তবে গানে না। ব্যক্তিগত বিজনেসে। জিজ্ঞেস করলাম ‘গান কি ছেড়েই দিলেন?’ তিনি হেসেই উত্তর দিলেন ‘গান আর টানে না’। তিনি তবু স্বীকার করলেন। বর্তমান সময়ের কয়েকশ কণ্ঠশিল্পী সারাদিন ফেসবুকে সরব। কেউ পুকুরে মাছ ধরছেন। কেউ মিমিক্রি করছেন। কেউ উদ্ভট ফানি সব ভিডিও নিয়ে অনলাইনে হা হা হো হো করছেন। আর লেজেন্ডদের কেউ কেউ ঝগড়া করছেন। কেউ খুব গম্ভীর হয়ে বলছেন ‘গান তো হচ্ছে না।’ গান যে কমে গেছে, তা আমরা জানি। আসলে সমস্যাটা কোথায়? আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, হাসান, পার্থ বড়ুয়ার নতুন গান শেষ কবে কে শুনেছেন? কেবল জেমসের একটা দুইটা বিচ্ছিন্ন গান ছাড়া এই মহারথী শিল্পীদের কারোই নতুন গান নেই। 

পৃথক জায়গা থেকে কখনো ব্যান্ড, কখনো ফোক, কখনো একক, কখনো মিক্সড, কখনো ডুয়েট, কত রকমের অ্যালবাম যে বিক্রি হতো আর অ্যালবাম রিলিজের পর জনপ্রিয় হতো, সেসবের দীর্ঘ তালিকা করা যায়। এখনো আমাদের মনে আছে সেই সময়ের কার কোন অ্যালবামের সাত নম্বর গান কোনটা ছিল, আট নম্বর গানের ইন্টারলিউড, প্রিলিউড কেমন ছিল, বারো নম্বার গানের কোনো লাইনটা বেশি প্রিয় ছিল আমাদের, সব মনে আছে, সব মনে পড়ে। আমাদের মনে আছে ঠিকঠাক কোন অ্যালবামের প্রচ্ছদে কার মুখ কেমন কোন ভঙ্গিতে ছিল, কার গায়ে ছিল কোন রঙের শার্ট, কে দাঁড়িয়ে ছিল অথবা কার হাঁটু ভাঁজ করা ছবি ছিল ক্যাসেটের কভারে। কিন্তু আজ আমাদের চোখের সামনেই চোখের প্রিয় মুখগুলো নেই, কান ও মনের প্রশান্তির সেইসব গানও নেই। আচ্ছা, কণ্ঠগুলো আছে, নতুন গান কেন নেই?

একটু খোলাসা করেই বলা যাক। আমাদের বাণিজ্যিক জায়গা থেকে বলতে গেলে, মানে যাদের গানের ক্যাসেট বা সিডি বিক্রি হয়েছে ট্রাক বোঝাই করে, যাদের নতুন গানের অ্যালবাম কেনার জন্য দোকানের সামনে লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়াতে হতো, আজও তো তারা আছেন। আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফেসবুকেও অনেক কিংবদন্তিকে সরব দেখতে পাই। কিন্তু যেটার মাধ্যমে তারা আমাদের এত আপন, সেই ‘গান’ কোথায় তাদের কণ্ঠে?  

তপন চৌধুরী, কুমার বিশ্বজিৎ, আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, হাসান, খালিদ, পার্থ বড়ুয়া, বিপ্লব, এস আই টুটুল, বাপ্পা মজুমদার, এসডি রুবেল, মনির খান, পলাশ, পথিক নবী, আসিফ আকবর, আতিক হাসান, হাবিব ওয়াহিদ, অর্ণব, রিংকু, মাহাদি, রুমি, আরফিন রুমি, কাজী শুভ, এফ এ সুমন, বেলাল খান, ইমরান, মিনার, প্রীতম হাসান এবং আরো কেউ কেউ। যারা অডিও ইন্ডাস্ট্রির সাফল্যের মিছিলে জ্বলজ্বলে নাম। 

তেমনই নারী কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে সামিনা চৌধুরী, শাকিলা জাফর, ফাহমিদা নবী, বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, রুক্সি, আঁখি আলমগীর, মেহরীন, কানিজ সুবর্ণা, তিশমা, এলিটা, কণা, সালমা, বিউটি, নির্ঝর, ন্যান্সি, পূজা, পড়শি আরো কেউ কেউ। এছাড়া ব্যান্ডের ক্ষেত্রে সেই শুরুর সেরা ব্যান্ডগুলো থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড ও নতুন নতুন বিভিন্ন ব্যান্ড। যারা অডিও শিল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচুর গান উপহার দিয়েছেন।

এই যে ‘শেষ পর্যন্ত’ কথাটা এসে গেছে, এটা ফেলে দেয়া যায় না। তার মানে অডিও শিল্প শেষ? আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

উপরের তালিকার সবাই প্রিয় এদেশের শ্রোতাদের কাছে। কিন্তু কেউই নতুন গানে নেই। আসিফ আকবর, হাবিব ওয়াহিদ, ইমরান, মিনার, কাজী শুভ, এফ এ সুমন, তানজীব সারোয়ার, প্রীতম হাসান, আঁখি আলমগীর, ন্যান্সি, কণা, সালমা ছাড়া আর কাউকেই সেভাবে নিয়মিত নতুন নতুন গানে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝেমাঝে নতুন গান নিয়ে আসেন কুমার বিশ্বজিৎ এবং তাহসান। এই কয়েকজন শিল্পী নিয়মিত গান নিয়ে আসছেন। শ্রোতারাও কারো কারো গান নিজের করে নিচ্ছেন। নিয়মিত গান করলে কিছু গান জনপ্রিয় হবেই। মানুষ অবশ্যই শুনবে কিছু গান। কিন্তু নতুন কোনোগানই যদি না হয়, তাহলে কী শুনবে জাতি? 

খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সব ভুলভাল অভিমান। নতুন গানের কথা জিজ্ঞেস করতেই তাদের বিচিত্র উত্তর। গান হচ্ছে না। কে করবে গান। কে শুনবে গান। গান করে লাভ নেই। এখন সেরকম গান হচ্ছে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে কি তাই? পার্শ্ববর্তী দেশসহ বহির্বিশ্বের অধিকাংশ জনপ্রিয় শিল্পীই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত একই রকম আগ্রহের বিষয় থাকেন শ্রোতাদের। কিন্তু অল্প কজন শিল্পী বাদে আর কাউকে নিয়েই কেন জানি আর আগ্রহ দেখায় না সাধারণ শ্রোতারা। এটা খুবই নির্মম সত্য। কেন? উত্তর হয়তো কেবল নিজেদের গুটিয়ে রাখা শিল্পীরাই জানেন। 

এদেশের শ্রোতারা রেডিওতে অনুরোধের আসর শুনে অভ্যস্ত। টেলিভিশনে ছায়াছন্দ দেখতে অভ্যস্ত। এক অ্যালবামে দশ থেকে বারোটা গান শুনে অভ্যস্ত। তারা সিঙ্গেল গান পাচ্ছেন অল্প কজনের কাছে। আর একটা বিশাল শ্রেণির কাছে নতুন কোনো গানই পাচ্ছেন না। দিন বদলের হাওয়ায় হাওয়ায় এভাবে যদি গান ভেসে যেতে থাকে অভিমান বা গোস্বায় ভর করে, সেটা ঠেকাবার সাধ্য কার? তারচেয়ে খুব ভালো হয়, শিল্পী নিজেই নতুন নতুন গানে নিজেকে যদি ডুবিয়ে রাখেন। কেউ না কেউ তো শুনবেই।   

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers