মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০২৩, ৬ চৈত্র ১৪২৯ , ২৮ শাবান ১৪৪৪

বিনোদন
  >
ব্যান্ড মিউজিক

তালেবান শাসনের শুরুতেই আতঙ্কে আফগান শিল্পীরা

নিউজজি ডেস্ক ২১ আগস্ট , ২০২১, ১৫:১৬:২৮

617
  • তালেবান শাসনের শুরুতেই আতঙ্কে আফগান শিল্পীরা। ছবি: ইন্টারনেট

সপ্তাহ খানেক আগে আফগানিস্তান দখল করে তালেবান। দেশটির ক্ষমতা এখন তাদের হাতে। তালেবান শাসনের শুরু থেকেই দেশটির শিল্পীরা এখন ব্যাপক অস্বস্তিতে। বিশেষ করে নারী শিল্পীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।

জাতির অগ্রযাত্রায় বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে আফগানিস্তানের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক’। সেই যাত্রায় এখন ‘চোখের বালি’  তালেবান শাসন। দেশটির শিল্পীদের সঙ্গীতস্বপ্ন অনেকটাই বিধ্বস্ত। 

আফগান শিল্পীদের আশঙ্কা, ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক’ প্রতিষ্ঠানের দরজায় তালা ঝোলানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দীর্ঘদিনের প্রতিকূল পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সাম্প্রতিককালে বিশ্বমঞ্চে রবাব-সেতার-ক্ল্যারিনেটে সুর তুলেছিলেন এই প্রতিষ্ঠানেরই এক ঝাঁক নারী-শিল্পীরা। কিন্তু তালেবানদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ায় এখন অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে ওই নারী শিল্পীদের ভবিষ্যৎ। না বললেই নয়, সঙ্গীতচর্চার মাধ্যমে আফগান মহিলাদের সার্বিক উন্নতিতে বরাবরই জোর দিয়ে আসছিলো ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক’।

তালিবানদের রাজত্বে প্রায় সব ধরনেরই সঙ্গীতশিক্ষা নিষিদ্ধ। গান-বাজনা চর্চায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তাদের শাসনকালের প্রথম পর্বে। 

সপ্তাহ খানেক আগে কাবুল দখলের পর তালিবান নেতারা বলছেন, দ্বিতীয় পর্বে তারা আরও বেশি মানবিক হয়ে ওঠবেন। মেয়েদের স্কুল-কলেজে পড়তে দেবেন। শরিয়ত আইন মানলে বাধা থাকবে না কর্মক্ষেত্রেও। কিন্তু বাস্তবে কোনও পরিবর্তন হয়নি। আপাতত, গৃহবন্দিই শিল্পীরা, বিশেষ করে নারী শিল্পীরা। 

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল- দীর্ঘ এই সময়ে স্মৃতি ঘেঁটে আফগান শিল্পীরা বলছেন, আবার ফিরে আসছে অন্ধকার যুগ! আফগানিস্তানের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক’র প্রধান আহমেদ নাসির সারমাস্তের কথায়, ‘এটা দুঃস্বপ্ন। তারা আর গান-বাজনা করতে দেবে না।’

কিছুদিন আগেই নিউইয়র্কের প্রসিদ্ধ কার্নেগি হলে পশ্চিমী ধ্রুপদী সঙ্গীতে ঝড় তুলেছিল এই স্কুলেরই নারী শিল্পীদের একটি দল। এই স্কুল থেকেই তৈরি হয়েছে আফগানিস্তানের ‘জোহরা’ ব্যান্ড। সুইটজারল্যান্ডে ‘ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম’র মঞ্চে গান গেয়েছে ‘জোহরা’, সে দেশের প্রথম মহিলা অর্কেস্ট্রা। কিন্তু এই সঙ্গীতচর্চার জন্য বারবারই আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে ব্যান্ড সংশ্লিষ্টদের। 

গান শেখার জন্য ছোট থেকে বেতের আঘাত খেয়ে বড় হয়েছেন আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা র‌্যাপ তারকা সোরৌরি। যার গান ‘আমি ভাবতে চেয়েছিলাম’, ‘ওরা আমায় মেরেছে’- আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষ্যই বহন করে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক’র প্রধান আহমেদ নাসির সারমাস্তের শুকনো কণ্ঠের ভাষ্য, ‘আমাদের ইচ্ছে ছিল, বিশ্বব্যাপী স্বদেশের ভিন্ন এক ছবি তুলে ধরা। কিন্তু হলো না..! অধরাই থেকে যাবে মনে হচ্ছে..!

নিউজজি/ওএফবি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন