রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিনোদন

সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৫ নভেম্বর

নিউজজি ডেস্ক  সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১৬:৫৮:২২

119
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় নতুন করে আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন বিচারক।

রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম সরকারি বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। 

এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। 

তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরানশাহনিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। 

তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন। 

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান।

তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

এজাহারে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, সালমান শাহের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করেন। এ ঘটনায় ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন করেন। আবেদনে রমনা থানায় দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বোনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করে আসছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।

এজাহারে আরও বলা হয়, মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এতে অভিযোগ করা হয়, এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers