রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিনোদন

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জন্মদিন আজ

নিউজজি ডেস্ক  সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১৩:২৩:২২

107
  • সংগৃহীত

ঢাকা: উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জন্মদিন আজ। ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের সঙ্গে পুনে থেকে কোলহাপুর এবং পরে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান।

১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে সংগীতজগতে তার যাত্রা শুরু হয়। মারাঠি সিনেমা ‘মাঝা বাল’-এর ‘চালা চালা নভ বালা’ গানটি ছিল তার কণ্ঠে শোনা প্রথম চলচ্চিত্রের গান। এরপর ১৯৪৮ সালে হংসরাজ বেহলের ‘চুনারিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। পরের বছর ‘রাত কি রানি’ সিনেমায় শোনা যায় হিন্দি চলচ্চিত্রে তার প্রথম একক গান।

১৯৫০-এর দশক থেকে হিন্দি সিনেমার সংগীতজগতে ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন আশা ভোঁসলে। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে গান গেয়ে চলেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় গান গাওয়ার পাশাপাশি সংগীতের নানা ধারায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তার কণ্ঠের গান আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার স্বীকৃতি হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দীর্ঘ সংগীতজীবনে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।

এক জীবনে কত গান, কত বিচিত্র সুরেই না গেয়েছেন আশা। যে কণ্ঠে তিনি গেয়েছেন ‘ছোটাসা বালমা’, ‘মেরা মন দর্পণ’-এর মতো রাগপ্রধান গান; তেমনি সেই কণ্ঠে তুলেছেন ‘ভোমরা বড়া নাদান’, ‘ঝুমকা গিরা রে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’-এর মতো আসর জমানো গান। আজও এসব গানে কনসার্ট তুঙ্গে ওঠে। এখনো এসব গানের রিমিক্স হয়। শুধু কি হিন্দি সিনেমার গান? সেই সময়ের সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় শাসিত ভারতীয় বাংলা সিনেমায় ঢুকতে খুব বেশি সময় লাগেনি আশার। চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি নানা ধরনের নিরীক্ষামূলক গানেও পারঙ্গমতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। গুলাম আলির সুরে ‘মিরাজ-ইয়ে-গজল’ সংকলন, হরিহরণের সুরে গজল সংকলন ‘অবসর-ইয়ে-গজল’, জয়দেবের সুরে ‘সুরাঞ্জলি’ তারই উদাহরণ।

কোনো কোনো বিরূপ সমালোচনাকে ছাপিয়ে আশার গাওয়া রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবামও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে শ্রোতামহলে। আবার নজরুলের গান কণ্ঠে নিয়েও সংগীতপ্রিয় শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।

সঙ্গীতজীবনে দীর্ঘ ৫ দশক সেরা শিল্পীর দৌড়ে ছিলেন এই দুই বোন। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে নয়া দৌড়, আশা, নবরঙ্গ, মাদার ইন্ডিয়া, দিল দেকে দেখো, পেয়িং গেস্ট প্রমুখ চলচ্চিত্রে একেরপর এক হিট গান গেয়ে লতাকে হটিয়ে রাতারাতি বলিউডের শীর্ষস্থান পেয়ে যান আশা, যার পুরোটাই ওপি নায়ারের বদৌলতে। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে হাওড়া ব্রিজ, কাগজ কে ফুল, ফাগুন প্রমুখ ছবির মাধ্যমে জয়যাত্রা অব্যাহত রাখেন।

তবে বেশিদিন শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কারণ, ওপি নায়ার ছাড়া বাকি সব প্রথমসারির সুরকারদের প্রথম পছন্দ ছিল লতা। তাই, ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দেই পূর্বের ছন্দ ফিরে পান লতা। তবে, ১৯৭০- এর দশকে লতাকে একেবারে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর দেন আশা। কারণ, লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল যেমন লতাকে সব ছবিতেই প্রাধান্য দিতেন তেমনি আর ডি বর্মন আর কল্যাণজি আনন্দজী প্রাধান্য দিতেন আশাকে। এছাড়া লতা যেমন হেমা মালিনী, রাখী, মুমতাজ, মৌসুমী চ্যাটার্জির জন্য চিরস্থায়ী কণ্ঠ ছিলেন তেমনি আশার কণ্ঠ আরোপ করা হত জীনাত আমান, পারভীন ববি, রেখা ও শর্মিলা ঠাকুরের প্রতিটি ছবিতে।

আশা ভোঁসলে আজ আমাদের মাঝে নেই, তবে রয়ে গেছে তার সেই চিরপরিচিত কণ্ঠ। তার সুরেলা গান ও অনন্য কণ্ঠস্বরই তাকে সংগীতের জগতে চিরকাল স্মরণীয় করে রাখবে।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers