মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ , ২২ শাবান ১৪৪৭

শিক্ষা

টেক্সটাইল গ্র্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ার ভাবনা

বুটেক্স প্রতিনিধি ১৩ জানুয়ারি , ২০২৬, ১৬:৩৫:৪৪

150
  • টেক্সটাইল গ্র্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ার ভাবনা

বুটেক্স: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গ্র্যাজুয়েট হন।

তবে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর চাকরি, বিসিএস, উদ্যোক্তা হওয়া কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষা— কোন পথে এগোবেন, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই অনিশ্চয়তা থাকে। অনেকে আবার ভুল লক্ষ্যে ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে হোচট খান। এই প্রেক্ষাপটে টেক্সটাইল গ্র্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে উপদেশ দিয়েছেন বুটেক্সের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম পাঠান।

সাইফুল ইসলাম পাঠান দীর্ঘ ১২বছর ধরে টেক্সটাইল সেক্টরে মার্কেটিং এবং মার্চেন্ডাইজিং বিভাগে কাজ করছেন। পরবর্তীতে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন পাঠান এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে সিইও হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। পাশাপাশি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে তরুণ শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভাবনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। শিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া তার বিশ্লেষণ ও পরামর্শ নতুন গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা

সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন মানুষের জীবনের বড়ো একটা অংশ কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িত। কেউ ২০, কেউ ৩০ বা ৪০ বছর একটি নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করে। লক্ষ্য ভুল হলে পুরো জীবনটাই ভুল পথে চলে যেতে পারে।

লক্ষ্য অনুযায়ী মানুষের জীবনযাপন, কাজের ধরন এবং সামাজিক পরিবেশ বদলে যায়। যেমন— ডাইং বা প্রোডাকশনে কাজ করলে জীবনযাপন একরকম, মার্চেন্ডাইজিং বা মার্কেটিংয়ে গেলে আরেক রকম, আবার ব্যাবসা বা উদ্যোক্তা হলে সেটি ভিন্ন হয়। একইভাবে, আর্থিক অবস্থাও লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরে আয়ের ধরণ ও সম্ভাবনা আলাদা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় রেখে লক্ষ্য ঠিক করা খুব জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্যাশন। যে কাজ মানুষ ভালোবাসে, সেখানেই সে সবচেয়ে ভালো করতে পারে। ভুল লক্ষ্য নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলে পরে সেটি পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে যায় এবং আগ্রহ হারিয়ে যায়।

গ্র্যাজুয়েশনের পর শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য ঠিক করবেন যেভাবে লক্ষ্য নির্ধারণে দুটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, নিজেকে চেনা— নিজের নেচার, স্কিল, আগ্রহ ও প্যাশন বোঝা। কেউ টেকনিক্যাল কাজে আগ্রহী হলে প্রোডাকশন বা ডাইং উপযোগী, কেউ যদি এক্সট্রোভার্ট ও নেটওয়ার্কিংয়ে ভালো হয় তাহলে মার্কেটিং বা উদ্যোক্তা হওয়া ভালো অপশন। যারা গ্লোবাল মার্কেট, বায়ার ও ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করতে চায়, তাদের জন্য মার্চেন্ডাইজিং ভালো ক্ষেত্র।

দ্বিতীয়ত, যেই ফিল্ডে যেতে চায়, সেই ফিল্ডের অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন সিনিয়রের সঙ্গে কথা বলা। এতে বাস্তব চ্যালেঞ্জ, সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় এবং কনফিউশন দূর হয়।

লক্ষ্য নির্ধারণের সঠিক সময়

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষ বা সর্বোচ্চ ৩য় বর্ষ লক্ষ্য নির্ধারণের সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা নিজের সাবজেক্ট, স্কিল এবং ক্যারিয়ার অপশন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পায়। ৪র্থ বর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, ফোর্থ ইয়ার থেকেই লক্ষ্য অনুযায়ী স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং শুরু করা উচিত।

গ্রাজুয়েশনের পর চাকরি করতে চাইলে

ছাত্রজীবন থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি দরকার। কম্পিউটার স্কিল— এক্সেল, ওয়ার্ড, ই-মেইল রাইটিং, ইন্টারনেট ব্রাউজিং— ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। একই সঙ্গে করপোরেট কালচার ও প্রফেশনাল ম্যানার শিখতে হবে। বস ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, রিপোর্টিং এবং অফিসিয়াল আচরণ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

এছাড়া নেটওয়ার্কিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সেক্টরে কাজ করতে চায়, সেই সেক্টরের ১০–২০ জন সিনিয়রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে চাকরির সুযোগ পাওয়া সহজ হয়।

গ্রাজুয়েশনের পর বিসিএস দিতে চাইলে

বিসিএসের প্রস্তুতির পাশাপাশি বিকল্প পরিকল্পনা থাকা খুব জরুরি। বিসিএস না হলে কীভাবে মূল ক্যারিয়ারে ফিরে আসবে, সেটি আগেই ভাবতে হবে। অনেক সময় বিসিএসের কারণে ক্যারিয়ারে গ্যাপ তৈরি হয়, যা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। তবে ধৈর্য ধরে মিড ক্যাটাগরির কোম্পানিতে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়ালে এই গ্যাপ পূরণ করা সম্ভব।

উদ্যোক্তা হতে চাইলে কী করণীয়

উদ্যোক্তা হতে হলে সাহস, বড়ো স্বপ্ন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা দরকার। সরাসরি ক্যাম্পাস থেকে ব্যাবসা শুরু করা কঠিন। অন্তত পাঁচ–ছয় বছরের চাকরি অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে মার্কেটিং বা মার্চেন্ডাইজিংয়ের অভিজ্ঞতা খুব সহায়ক। এই সময় নেটওয়ার্কিং, ব্যাংকিং, এলসি, ট্রেডিং ও বিজনেস ডিলিং শেখা জরুরি।

বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

ভাষাগত যোগ্যতা, বিশেষ করে IELTS স্কোর গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যে দেশে যেতে চায়, সেখানে থাকা সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খরচ, কাজের সুযোগ এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নেয়া দরকার।

ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ করলে

ভুল লক্ষ্য জীবনের শেষ নয়। হতাশ না হয়ে দুই–তিন বছরের একটি পরিকল্পনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে স্যালারি বা পজিশনে সাময়িক ছাড় দিয়ে সঠিক লাইনে ঢুকতে হবে। ধৈর্য, পরিকল্পনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার ট্র্যাক পরিবর্তন করে আবার স্থিতিশীল হওয়া সম্ভব।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন