বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিক্ষা

কমিটির অবহেলায় এক বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি পরীক্ষায় ‘কোডিং সিস্টেম’

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি ১০ নভেম্বর , ২০২৫, ১২:৩০:১২

186
  • ছবি : নিউজজি

নোবিপ্রবি: পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ‘কোডিং সিস্টেম’ এখন প্রশাসনিক অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতার শিকার। এক বছর আগে ৩টি বিভাগে সফলভাবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়সারাভাব ও গঠিত কমিটির নিষ্ক্রিয়তায় এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

এক বছর আগে নোবিপ্রবি প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিল, পরীক্ষামূলকভাবে সফল প্রমাণিত হলে দ্রুত অন্যান্য বিভাগেও কোডিং সিস্টেম চালু করা হবে। এই লক্ষ্যে গত বছরের ২৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হানিফ মুরাদকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সময় গড়ালেও কমিটির কার্যক্রমের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

‘কোডিং সিস্টেম’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষার্থীর নাম বা রোল নম্বরের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা, যাতে পরীক্ষক খাতাধারীর পরিচয় জানতে না পারেন। এতে পক্ষপাতহীন ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের পরিবেশ তৈরি হবে বলে নোবিপ্রবি প্রশাসন জানিয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে মার্ক টেম্পারিং, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতদুষ্ট মূল্যায়নের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা প্রায়ই সঠিক মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হন। এসব অনিয়ম রোধে কোডিং সিস্টেম চালুর প্রতিশ্রুতি আশার আলো দেখালেও বাস্তবে তা আর এগোয়নি।

বিষয়টি নিয়ে ‘NSTU Result Creator’ সফটওয়্যারে মার্কস ইনপুট মডিউল কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হানিফ মুরাদ বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত কোডিং সিস্টেমটি এখনো পরিপূর্ণ নয়। বিদ্যমান সফটওয়্যার ও নতুন কোডিং সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে আশা করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সব বিভাগে কোডিং সিস্টেম চালু করা যাবে।

তবে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এই ‘কয়েক সপ্তাহ’ প্রতিশ্রুতিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, আগের মতোই এই সময়সীমা আবারও বছরজুড়ে দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ACCE) বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, প্রশাসন বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে দ্রুত কোডিং সিস্টেম চালু করা জরুরি।

আইন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, কোডিং সিস্টেম চালু হলে শিক্ষার্থীরা মার্ক টেম্পারিং ও শিক্ষকদের রোষানল থেকে মুক্তি পাবে।

প্রশাসনিক গাফিলতি অব্যাহত থাকলে এবং দ্রুত এই ব্যবস্থা চালু না হলে মার্ক টেম্পারিং ও স্বজনপ্রীতির শিকার হয়ে প্রকৃত মেধাবীরা আবারও বঞ্চিত হবেন সঠিক মূল্যায়ন থেকে। দেখার বিষয়, নোবিপ্রবি প্রশাসন কি সত্যিই কোডিং সিস্টেম বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, নাকি এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি আগের মতোই প্রতিশ্রুতি ও ফাইলের স্তূপে আটকে থাকবে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers