বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৬ সফর ১৪৪৮

শিক্ষা

নোবিপ্রবির পরীক্ষা নীতি সংশোধনে ছাত্রদল নেতার আইনি নোটিশ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: ১৭ অক্টোবর , ২০২৫, ১৭:৪৯:১২

306
  • নোবিপ্রবির পরীক্ষা নীতি সংশোধনে ছাত্রদল নেতার আইনি নোটিশ

নোবিপ্রবি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইম্প্রুভমেন্ট ও ব্যাকলগের পরীক্ষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি নোটিশ দিয়েছে নোবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী মোহাম্মদ আলী।

১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) মোহাম্মদ আলীর পক্ষে নোয়াখালী জজ কোর্টের আইনজীবী মো. আজগর আলী আরজু নোবিপ্রবির রেজিস্টারের প্রতি এ আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে বর্ণিত ‘ইমপ্রুভমেন্ট ও ব্যাকলগ নীতি’ সংশোধন এবং জিপিএ ৩.০০ পর্যন্ত ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান ইমপ্রুভমেন্ট ও ব্যাকলগ নীতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি সমতা ও প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এতে বলা হয়, অযথা সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা ন্যায্যভাবে ফলাফল উন্নত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে জিপিএ ৩.০০ বা এর নিচে প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ না দেয়া অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক। এর ফলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও কর্মসংস্থানে প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ইমপ্রুভমেন্ট ও ব্যাকলগ সংক্রান্ত নতুন নিয়ম অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করে পূর্বের নীতির আলোকে সংশোধন করতে হবে এবং জিপিএ ৩.০০ পর্যন্ত প্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি বা আইনগত পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, উল্লিখিত দাবিগুলো দ্রুত কার্যকর না হলে নোটিশদাতা বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের আওতায় সব ধরনের আইনি প্রতিকার গ্রহণ করবেন, যার মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করাও অন্তর্ভুক্ত।

লিগ্যাল নোটিশ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২.৭৫ পেলেই শিক্ষার্থীরা ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, অথচ নোবিপ্রবিতে ২.৫০-এর নিচে প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকেই কেবল সুযোগ দেয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের ভালো ফল অর্জনের পথে বাধা। এছাড়া নতুন নিয়মে বলা হয়েছে শুধুমাত্র ইমিডিয়েট জুনিয়রদের সঙ্গে ব্যাকলগ পরীক্ষা দিতে হবে, যা পূর্বের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

তিনি আরও জানান, “হঠাৎ এই আইন কার্যকর করায় শিক্ষর্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এই দাবিকে কোন আমলে নেয়নি, তাই শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহণের জন্য  লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করি। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার(ভারপ্রাপ্ত) জনাব তামজিদ হোসাইন চৌধুরী জানান, লিগ্যাল নোটিশ  এখনো আমার কাছে আসেনি। না দেখে বলতে পারবো না। আসার পর আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করব।”

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষার্থীরা ইম্প্রুভমেন্ট ও ব্যাকলগ পরীক্ষা নীতির ব্যাপারে দাবি জানালেও আমলে নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করলে ইম্প্রুভমেন্ট ও ব্যাকলগ পরীক্ষা নীতি সংক্রান্ত একটি কমিটি করা হয়।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers