রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

অর্থ ও বাণিজ্য

নাগালের বাইরে ডিম-মুরগির দাম, চড়া মাছ ও সবজির বাজার

নিউজজি ডেস্ক ৭ আগস্ট , ২০২৬, ১৩:৫২:৫৭

476
  • সংগৃহীত

ঢাকা: আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। নাগালের বাইরে যাওয়ার উপক্রম ডিম-মুরগির দাম। সেইসঙ্গে আগের মতোই চড়া মাছ ও সবজির বাজার। সাপ্তাহিক বাজার করতে গিয়ে নাভিশ্বাস ক্রেতা সাধারণের।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে চোখে পড়েছে এমনই চিত্র। মাত্রাতিরিক্ত দাম শুনে বিক্রেতাদের সঙ্গে ঝাঁঝালো তর্কেও জড়াতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাকে। বাজার মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানাচ্ছেন প্রায় সব ক্রেতা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সবজির বাজারেও কিছু পণ্যের দামে সামান্য কমতির আভাস মিলছে। লম্বা বেগুন, যা গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল, এখন মান ও বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গোল বেগুনের দাম এখনো কেজিপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা।

শসার দামও কিছুটা কমে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। কাঁচা পেঁপে আগের মতোই ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙা বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি পিস চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি লাউ ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, পেঁয়াজের বাজার উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তবে আলুর দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। তবে  গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ টাকায় উঠেছিল। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মাছে ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বেড়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়, আর ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজন। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে পরিবর্তন নেই। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল, পোয়ায় কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।

বাজারে কথা হয় বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তাদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লে তার প্রভাব নিম্ন আয়ের মানুষের উপরে সরাসরি পড়ে। আমরা তো দেশি মুরগি বা পাকিস্তানি সোনালি মুরগি কিনে খেতে পারবো না। ব্রয়লার, পাঙাশ ও তেলাপিয়া আমাদের ভরসা। সেখানে দাম বাড়লে পকেটে টান পড়ে। 

নিউজজি/এসডি

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers