বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৬ সফর ১৪৪৮

অর্থ ও বাণিজ্য

অর্থবছরের শেষে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৮ শতাংশ

নিউজজি ডেস্ক ৭ অক্টোবর , ২০২৫, ১৩:৩৯:২৬

186
  • ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: অর্থবছরের প্রথমার্ধে নানা ধাক্কা সত্ত্বেও বছরের শেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। রপ্তানির বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় রেকর্ড এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতি আবারও গতি পেয়েছে, এমন তথ্য জানানো হয়েছে বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৮ শতাংশ, আর ২০২৬-২৭ সালে তা ৬.৩ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে এই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে সাহসী ও সময়োপযোগী সংস্কার গ্রহণ অপরিহার্য।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২৫ অর্থবছরে বাজারভিত্তিক বিনিময়হার চালু হওয়ায় বৈদেশিক চাপ কিছুটা কমেছে। রপ্তানি বেড়ে এবং আমদানি কমে চলতি হিসাবের ঘাটতি সংকুচিত হয়েছে, ফলে রিজার্ভও স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে এসেছে।

কঠোর মুদ্রানীতি, ভালো ফসল এবং জরুরি খাদ্যপণ্যে শুল্ক হ্রাসের কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে দুর্বল রাজস্ব আয় এবং বাড়তি ভর্তুকি ও সুদের ব্যয়ে বাজেট ঘাটতি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

অন্যদিকে, দারিদ্র্যের হার ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বেড়েছে। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৬০.৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৬.৯ শতাংশে নেমেছে, যেখানে নারীর অংশগ্রহণে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা দিয়েছে।

নতুন তিন মিলিয়ন কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে ২৪ লাখই নারী যারা শ্রমবাজারে যুক্ত হতে পারেননি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে, কিন্তু এটি স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যাবে না। প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে কর আদায় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস, নগর পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের সংস্কার জরুরি।’

প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত দুই দশকে কর্মসংস্থান ও জনসংখ্যার ঘনত্ব ক্রমেই ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী হয়েছে। আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে এবং দেশের সর্বত্র কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুনভাবে স্থানিক উন্নয়ন পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রকাশিত দক্ষিণ এশিয়া উন্নয়ন প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি এ বছর ৬ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাবে, তবে সামনে বড় ঝুঁকি রয়েছে। 

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাণিজ্য উন্মুক্ততার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে নতুন গতি আনতে পারবে।

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers