সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
মঞ্চ

জিয়া হায়দার : নাটক তথা শিল্পের এক বহুমাত্রিক পথিকৃৎ

ফারুক হোসেন শিহাব ১৮ নভেম্বর , ২০১৯, ১৭:৫২:৩০

  • জিয়া হায়দার : নাটক তথা শিল্পের এক বহুমাত্রিক পথিকৃৎ

‘বিভিন্ন সূতো দিয়ে সময়কে গেঁথে নিলাম/ অবিচ্ছিন্ন আকারে/ এত অভিন্ন, নিজেই বুঝে উঠতে পারিনে/ কতগুলো গিঁট/ অমসৃণ করে দিয়েছে দীর্ঘ প্রবাহকে-/ অথচ অবিচ্ছিন্ন,/ বহুবার হোঁচট পেয়েও ছেঁড়েনি।’

#

‘বিচিত্র সূতোয় বানানো কালো-কালো হয়ে যাওয়া সময়টাকে/ হঠাৎ আজ সকালে আরেক, নতুন সময়ের নদীতে ফেলে দিলাম।/ সন্ধ্যায় টেনে তুলতে গিয়ে বড় ভারী ঠেকলো,/ আমার অগৌরবিত অতীতের চেয়েও ভারী। আমার ধূসর বর্তমানের চেয়েও ভারী-/ একটা নিরাকার জীবন।’

কয়েক দশক আগে জীবদ্দশায় কোনো এক জন্মদিনে লেখা- ‘জন্মদিনের কবিতা’য় এমন অনবদ্য পঙক্তিমালাই গেঁথেছিলেন দেশের থিয়েটারের অনন্য পথিকৃৎ জিয়া হায়দার। আজ ১৮ নভেম্বর কীর্তিমান এই নাট্যজনের জন্মবার্ষিকী। জিয়া হায়দার ১৯৩৬ সালের ১৮ নভেম্বর পাবনার দোহারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 

হাকিমউদ্দিন শেখ ও রহিমা খাতুনের পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তিনি বড়। জিয়া হায়দারদের পরিবার ছিল বিশাল ভূ-সম্পদের অধিকারী। তার বাবা সেই জমি-জমা দেখতেন আর ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। তার মা ছিলেন গৃহিণী। মাত্র ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বিদ্যা নিয়েই তিনি শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথের 'চোখের বালি', এমনকি 'গোরা'র মতো কঠিন উপন্যাসও বানান করে করে পড়ে ফেলেছিলেন। হায়দার পরিবারের ছেলেদের কপালে ‘সাহিত্যিক’ অভিধা জোটার পেছনে এই মাতৃদেবীর ভূমিকা ছিল অনেকখানি।

জিয়া হায়দারের লেখাপড়া শুরু বাবারই প্রতিষ্ঠিত আরিফপুর প্রাথমিক স্কুলে। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে চলে যান পাবনা জেলা স্কুলে। ১৯৫২ সালে গোপালচন্দ্র ইন্সটিটিউশন থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। একই বছর ভর্তি হন পাবনা এডওর্য়াড কলেজে। ভর্তির পরই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনের সাথে।

আগে থেকেই চেনাজানা ছিল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের লোকজনদের সাথে। নিজে যেহেতু গল্প-কবিতা লিখতেন, শহরে শিক্ষিত সমাজে তার একটা পরিচিতি ছিল। ফলে পাকিস্তানি শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে একেবারে যুক্ত হয়ে গেলেন তিনি। এতে করে তার পড়াশোনায় বেগাত ঘটল। পাবনা তখন শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতির সমঝদার শহর। ছোট এই জেলা শহরে তখন উৎসাহী কিছু তরুণ কবিতাকর্মী ছিল। জিয়া হায়দার ভিড়ে গেলেন সেই দলে। 

তার লেখা তখন ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে। বাড়িতে গেলে নিজের ভাইদের এসব কবিতা পড়ে পড়ে শোনান। ছাপা অক্ষরে সোনা ভাইয়ের নাম। ভাইদের বিস্ময় জাগে মনে। গর্ব হয় সোনা ভাইয়ের জন্য। এভাবে তিন বছর নষ্ট হওয়ায় তার বাবা হাকিম উদ্দিন শেখ বেঁকে বসলেন- ছেলেকে আর পড়াবেন না। 

তিনি তাকে বললেন ‘বাড়ি ফিরে আস। জমি-জিরাত দেখা শোনাকর, ব্যবসা-বাণিজ্য কর। আর লেখাপড়া করতে হবে না।’ এমন কথায় জিয়ার মনটা ভেঙ্গে গেল। কারণ তিনি ছিলেন হায়দার বংশের প্রথম মেট্রিকুলেট। কত স্বপ্ন তার। কিন্তু বাবার এই সিদ্ধান্তে আকাশ ভেঙ্গে পড়ল তার মাথায়। 

এমনি পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন তার মা রহিমা খাতুন। স্বামীর অজান্তে নিজের গলার দামিহার বিক্রি করে ছেলেকে দিলেন পড়াশুনা করার জন্য। সেই টাকা বৃথা যায়নি। রহিমা খাতুনের সেই পুত্র নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন কিংবদন্তি করে। এদেশের খ্যাতনামা নাট্যব্যক্তিত্ব, কবি এবং শিক্ষক তিনি। পরে কঠোর অধ্যাবসায়ের মধ্য দিয়ে ১৯৫৬ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট সম্পন্ন করে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। জিয়া হায়দার ১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। 

রাজশাহী অবস্থানকালে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে বেশ ভালভাবেই জড়িয়ে যান। এদিকে পূর্ব পাকিস্তানের উত্তাল-অস্থির রাজনীতি। ধীরে ধীরে দেশ হাঁটছে স্বাধীনতার পথে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তখন সত্যিকার অর্থেই সাহিত্যের তীর্থভূমি। গল্প-কবিতা লেখার কারণে সেখানে সবার খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন জিয়া হায়দার। ১৯৬১ সালে জিয়া হায়দার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

কিছুদিন কাজ করেন তখনকার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘চিত্রালি’-তে। মাস্টার্সের ফল বেরুবার আগেই অধ্যাপনার চাকরি নিয়ে চলে যান তোলারাম কলেজে। যাবার সময় নিজের চাকরিটা দিয়ে যান ছোট ভাই রশীদ হায়দারকে। নিজের লেখালেখির জগত, চাকরি আর পরিবারের ছোট ভাই-বোনদের মানুষ করার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। এর মাঝে কিছুদিন কাজ করেন বাংলা একাডেমিতে। তারপরে পাকিস্তান টেলিভিশনে। 

১৯৬৮ সালে তিনি বৃত্তি নিয়ে চলে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটকবিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য। পরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সার্টিফিকেট ইন শেক্সপিয়ার থিয়েটার’ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে জিয়া হায়দার যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সময় এবং পরে এশিয়া ইউরোপ আমেরিকাসহ সারা পৃথিবী চষে বেরিয়েছেন নাটকের প্রয়োজনে। বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের নামি-দামি নাট্যজনদের সাথে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। 

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে। সেসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা সবাই একযোগে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্যাম্পাস ছেড়ে দেয়। জিয়া হায়দার ফিরে আসেন ঢাকায়। ঢাকা তখন অবরুদ্ধ। অবরুদ্ধ ঢাকাতেই হায়দার পরিবারের ছেলেরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একটি মেয়েকে ভালবাসতেন। সবাই জানত তাদের বিয়ে হবে কিন্তু হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে গেলেন, সেখানেও এক সহপাঠীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার সাথে যোগাযোগ ও গভীর টান থাকলেও এক ছাদের নীচে বাস করা হয়নি। মা, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন সবার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত ১৯৭৫সালের ২৩ জুন এক অধ্যাপিকাকে বিয়ে করেন। অধ্যাপিকা ভাল রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতেন। 

কিন্তু সে বিয়েও টেকেনি। কারণ অধ্যাপিকা ছিলেন সিজনাল মানসিক রোগী। এই বিড়ম্বিত ভাগ্য নিয়েই সারাটা জীবন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি আর সেখানকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়ে জীবনের শেষ সময়টা কাটিয়ে দিলেন জিয়া হায়দার। নিঃসঙ্গ আর বিপুল শূন্যতা নিয়েই সমস্ত জীবন কেটেছে তার।

নাট্য ব্যক্তিত্ব, কবি ও শিক্ষক জিয়া হায়দার নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। নাটককে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে রেখেছেন বিশেষ অবদান। জিয়া হায়দারের বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কবিতা : একতারাতে কান্না (১৯৬৩), কৌটার ইচ্ছেগুলো (১৯৬৪), দূর থেকে দেখা (১৯৭৭), আমার পলাতক ছায়া (১৯৮২), লোকটি ও তার পেছনের মানুষেরা, শ্রেষ্ঠ কবিতা ও ভালোবাসা ভালোবাসা। 

তার রচিত নাটকের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- শুভ্রা সুন্দর কল্যাণী আনন্দ (১৯৭০), এলেবেলে, সাদা গোলাপে আগুন ও পংকজ বিভাস (১৯৮২)। রূপান্তরিত নাটক : প্রজাপতি নির্বন্ধ, তাইরে নাইরে না, উন্মাদ সাক্ষাৎকার ও মুক্তি মুক্তি। অনুদিত নাটক : দ্বার রুদ্ধ, ডক্টর ফস্টাস ও এ্যান্টিগানে। 

নাট্যকারের পাশাপাশি জিয়া হায়দার নাট্যগবেষক ও প্রাবন্ধিক। তিনি নাটক বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন। দীর্ঘকাল নাট্যকলা পড়িয়েছেন। প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে- নাট্য বিষয়ক নিবন্ধ, থিয়েটারের কথা (১ম-৫ম খণ্ড), বাংলাদেশের থিয়েটার ও অন্যান্য রচনা, স্তানিসলাভস্কি ও তার অভিনয় তত্ত্ব, নাট্যকলার বিভিন্ন ইজম ও এপিক থিয়েটার এবং বিশ্বনাটক। তিনি ছিলেন শিল্পের একজন বহুমাত্রিক পথিকৃৎ। তার নাট্যচর্চার পথ বহুদিক বিস্তৃত। তিনি একাধারে নিরীক্ষাপ্রিয় নাট্যকার, দক্ষ নাট্যনির্দেশক, নিষ্ঠাবান নাট্যসংগঠক, বিদগ্ধ নাট্যগবেষক-প্রাবন্ধিক ও নাট্যবিষয়ক সফল শিক্ষক।

জিয়া হায়দারের ভিন্ন পরিচয়- তিনি কবি। তার কাব্যিক সত্তা নিরীক্ষাধর্মী নাট্যরচনায় ও সংলাপ সংযোজনে সহায়ক হয়েছে।জিয়া হায়দারের নাটকের বিষয় ও আঙ্গিক– দুইক্ষেত্রেই স্বাতন্ত্র্য ও সাফল্য পরিলক্ষিত হয়। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তপ্রাণ, শান্তি প্রত্যাশা, ন্যায়বিচার, চিরন্তন প্রেম, বীভৎস হাস্যরস, মানবতা তার নাটকের প্রেক্ষাপট। অ্যাবসার্ডিটি, চেতনা-প্রবাহ, মিউজিক্যাল, কাব্যিক ফর্মে গড়ে ওঠে তার নাটকের আদল। 

নাট্যনির্দেশক হিসেবে তিনি অত্যন্ত সচেতন ও নিষ্ঠাবান ছিলেন। তার রচিত নাটকসমূহে তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মঞ্চ-নির্দেশনা লিপিবদ্ধ করেছেন; নাটকের সেটে, আসবাবপত্রে, আলোতে, শব্দ-প্রক্ষেপণে নতুনত্ব এনেছেন। তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। নাট্যসংগঠক হিসেবে তার কর্মদক্ষতা ছিল ঈর্ষণীয়।

মুনীর চৌধুরী ও মমতাজ উদ্দীন আহমদের মতো জিয়া হায়দারও বিদেশি বিশিষ্ট নাটকসমূহ বাংলাদেশের নাট্যজনদের কাছে পরিচয় করে দেওয়ার জন্য দেশি ভাষায় অনুবাদ-রূপান্তর করেছেন। এ-কাজে তিনি ছিলেন যথেষ্ট স্বাধীন এবং দেশীয়করণে দক্ষ কারিগর। জিয়া হায়দারের সাদা গোলাপে আগুন নাটক বীরাঙ্গনাদের মর্মন্তুদ জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে রচিত হলেও গোটা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাচিত্র বিধৃত হয়েছে। এটি ১৯৭২-এ বেতার নাটক হিসেবে প্রচারিত এবং পরবর্তীকালে মঞ্চ নাট্যরূপ দেওয়া হয়– গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

শেষ জীবনে এসে আক্রান্ত হলেন মরণব্যাধি ক্যান্সারে। অনেক কাজে হাত দিয়েছিলেন। অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য, বাঁচার খুব আকুতি ছিল তার। কিন্তু ডাক্তার খুব অল্প সময়ই বেঁধে দিয়েছিলেন। ২০০৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন নাট্যজন জিয়া হায়দার। তাকে জন্মস্থান পাবনার দোহারপাড়ার আরিফপুর গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জিয়া হায়দারের প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এক তারাতে কান্না’য় তিনি লিখেছেন- 

‘আমার মৃত্যুতে কেউ কাঁদল না, কেউ/মুহূর্তের দীর্ঘশ্বাসে, এমন কি আরও/একটু হাল্কা করল না ঘরের বাতাস।’ আর্তনাদ মাখা এই কবিতা কি উপলব্ধি থেকে লিখেছিলেন সেটি তিনিই জানেন। কিন্তু মৃত্যুর এতোটা বছর পরও এদেশের মানুষ কিংবদন্তীতুল্য এই নাট্যজন ও কবি জিয়া হায়দারকে ভোলেনি। তিনি বাঙালির সংস্কৃতির ভেতর যেই চেতনা বুনে দিয়েছেন তার ফল এবং তার অনবদ্য সকল সৃজন তাকে অনন্য উজ্জ্বল করে রাখবে বহুকাল। 

নিউজজি/এসএফ 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers