সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
মঞ্চ

৬টি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে ‘রাজার চিঠি’

নিউজজি প্রতিবেদক ৫ নভেম্বর , ২০১৯, ১২:৫১:২৮

  • ৬টি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে ‘রাজার চিঠি’

আজ ৫ নভেম্বর থেকে ৬টি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে দলের সাড়াজাগানো নাটক ‘রাজার চিঠি’ মঞ্চায়ন শুরু করতে যাচ্ছে নাট্য-সংগঠন জাগরণী থিয়েটার। উৎসবগুলোতে আমন্ত্রিত হয়ে থিয়েটার দলটির ১৩ সদস্যের একটি নাট্যদল এখন ভারতে অবস্থান করছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার শাহজাদপুরের কাহিনি নিয়ে ‘রাজার চিঠি’ নাটকটি রচনা করেছেন মাহফুজা হিলালী আর নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ। রামিজ রাজুর সঙ্গীতে নাটকটিতে কোরিওগ্রাফ করেছেন অনিকেত পাল বাবু। ঠান্ডু রায়হানের আলোকায়নে নাটকের পোশাক করেছেন এনাম তারা সাকী।

 আজ ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে প্যাসোনেট পারফর্মাস আয়োজিত উৎসবে মঞ্চস্থ হবে ‘রাজার চিঠি’। ৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় আসামের বরপেটা জেলা লাইব্রেরী মিলনায়তনে রংঘর আয়োজিত নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হবে নাটকটি। পরদিন ৯ নভেম্বর একই সময়ে গুয়াহাটির শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্র মিলনায়তনে রেপ্লিকা আয়োজিত উৎসবে মঞ্চস্থ হবে ‘রাজার চিঠি’। 

একইভাবে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় আসাম-যোরহাটের যোরহাট থিয়েটার মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে নাটকটি। পরদিন ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় আসামের ডিব্রুগড় জেলা লাইব্রেরী মিলনায়তনে আখরা ঘর আয়োজিত উৎসবে এবং ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ত্রিপুরা-আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে রাঙ্গামাটি নাট্যক্ষেত্র আয়োজিত উৎসবে মঞ্চস্থ হবে ‘রাজার চিঠি’।

সফরকারী দলে রয়েছেন- দেবাশীষ ঘোষ, স্মরণ সাহা, শাহানা জাহান সিদ্দিকা, মো: বাহারুল ইসলাম, মোহানী মানিক, শাহানাজ শারমিন খান সিমু, রুকুনুজ্জামান আপেল, জুলিয়েট সুপ্রিয়া সরকার,  মো: রফিকুল ইসলাম, রিপা হালদার, পল্লব সরকার, আবেদা আক্তার তৃপ্তি, এবং ইমন হোসেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে নাটকটির ৬টি প্রদর্শনী শেষে আগামী ১৫ নভেম্বর জাগরণী থিয়েটার দেশে ফিরবে বলে দলসূত্রে জানা গেছে। 

১৯৩৯ সালে শাহজাদপুরের শ্রী হরিদাস বসাকের একটি চিঠির উত্তরে চিঠি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই চিঠি এবং রবীন্দ্রসাহিত্যের প্রভাবে হরিদাস বসাকের জীবন রবীন্দ্রনাথের ‘ঠাকুরদা’ চরিত্রের মতো হয়ে ওঠে। এই কাহিনি নিয়েই আবৃত হয়েছে নাটক ‘রাজার চিঠি’। 

নাটকের গল্পে দেখা যাবে, যুবক হরিদাস একটা সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। এ নিয়ে তার পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুবান্ধব হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু দেখা যায়, একদিন রবীন্দ্রনাথ সে চিঠির উত্তর দিয়েছেন। এ সময় হরিদাস বসাককে সবাই সমীহ করতে শুরু করে।

অন্যদিকে, হরিদাস বসাকও সাহিত্য-সংস্কৃতির কাজে নিজেকে সঁপে দেন। সময়ের প্রবাহে আসে ১৯৪৭ সাল। এ সময় অনেকেই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। কিন্তু যে ঠিকানায় রবীন্দ্রনাথ তাকে চিঠি লিখেছেন, সে ঠিকানা হরিদাস বসাক বদল করতে চান না। নাটকে ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের চিত্র এবং হরিদাস বসাকের মাতৃভূমি আঁকড়ে থাকা দেখা যায়।

এরপর আসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতায় হরিদাস বসাকের স্বপ্নভঙ্গ হয়। পুড়িয়ে ফেলা বাড়ি ঘর দুয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে হরিদাস বসাক সে দিন তার আত্মজনের খোঁজ নেন না, শুধু শিশুর মতো হাহাকার করেন চিঠিটির জন্য। এ অবস্থায় পাকিস্তানি আর্মি এসে দাঁড়ায় হরিদাস বসাকের সামনে। তার মুখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম শুনে আর্মিরা তাকে বেয়োনেট দিয়ে মারতে থাকে। এমনি মর্মস্পর্শী গল্পে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘রাজার চিঠি’।

নিউজজি/এসএফ 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers