বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮ , ১২ জিলকদ ১৪৪২

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
মঞ্চ

আজ দৃষ্টিপাতের ‘রাজা হিমাদ্রি’

নিউজজি প্রতিবেদক ১০ অক্টোবর , ২০১৯, ১৭:০৮:৩৯

  • আজ দৃষ্টিপাতের ‘রাজা হিমাদ্রি’

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে আজ ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় দৃষ্টিপাত নাট্য সংসদের সাড়া জাগানো নাটক ‘রাজা হিমাদ্রি’। গ্রীক ট্র্যাজিক নাট্যকার সফোক্লিসের অসামান্য নাট্যকর্ম ‘ইডিপাস’ অবলম্বনে শম্ভু মিত্র অনূদিত ‘রাজা হিমাদ্রি’ নাটকটি রূপান্তর এবং নির্দেশনা দিয়েছেন ড. খন্দকার তাজমি নূর।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন- অধরা প্রিয়া, আবদুল হালিম আজিজ, জাহাঙ্গীর কবির বকুল, রাাকিব হাসান ইভান, শ্রেয়া খন্দকার, রফিকুল ইসলাম, আবদুল হালিম আজিজ, সুজন খান, নাজমুস সাধন, সুপ্তি হালদার, রাজ আহমেদ, রুনা আঁখি, সাদিয়া এবং ড. খন্দকার তাজমি নূর।

তিন প্রখ্যাত গ্রীক ট্র্যাজিক নাট্যকারের মধ্যে অন্যতম প্রধান সফোক্লিস, বিশ্ব নাট্যাঙ্গনে কীর্তিময় তাৎপর্য রাখার মধ্য দিয়ে বর্তমান শতকেও সমানভাবে প্রযোজ্য। তার অসামান্য নাট্যকর্ম ‘ইডিপাস’ নিয়ে নাট্যদল দৃষ্টিপাত ২০১২ সালে মঞ্চে আনে  ‘রাজা হিমাদ্রি’। আত্মানুসন্ধান আর পরিচয় সংকটের যে সংগ্রাম হাজার বছর আগেও মানব অন্তরে ক্ষত সৃষ্টি করেছে, সময়ের ব্যবধানে আজও তা সমভাবে আবেদন রাখছে। 

‘রাজা হিমাদ্রি’ নাটকের গল্পে- প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস! রাজ্যের সব প্রজা এ অশুভ ঝড়ের আগমনে ভিড় করেছে রাজপ্রাসাদের সামনে। ভীষণ এক সংকটের সম্মুখীন হিমালয় পুত্র রাজা হিমাদ্রি। পৃথিবীর কোনো কিছুকেই যে কখনও ভয় করেনি আজ হঠাৎ কি এক দৈব ভীতিতে আক্রান্ত হয়ে পরে এ অসীম ক্ষমতাধর মহাপুরুষটা। কেন, কী সেই কারণ? সেই কারণ জানতে পরিচিত এক গল্পের সামনেও নাট্যশিল্পীদের অভিনয় নৈপুণ্যে মুগ্ধ হতে পারেন আজকের সন্ধ্যায়।

নাটকে দেখা যাবে কার জন্য রাজ্যে এই অশুভ ইঙ্গিত! নির্ভয়-মানব ‘রাজা হিমাদ্রি’ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জন্ম হয় আরও নতুন কিছু প্রশ্নের। হিমাদ্রির চিন্তার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তাঁর ‘জন্মসূত্র’। এই চিন্তার সূত্রধরে সে ছুটে চলে সমস্ত হিমালয়ের ইতিহাস জুড়ে। 

সৃষ্টির উৎসমুখ থেকেই পদ্মা মেঘনার স্রোতধারা ভিন্ন গতিপথে নির্ধারণ করে দিয়েছেন স্বয়ং বিধাতা; যেমনি আলো এবং অন্ধকারকে! তাই রাজা হিমাদ্রিও চায় তার জন্মের নেপথ্য ইতিহাসকে অন্ধকার থেকে আলোতে উদ্ভাসিত করতে..! যত নিচ জন্মই সে হোক না কেন, তার সেই বৃত্তান্ত সে জানবেই। তার ধারণা রানী ইন্দ্রানী। 

হয়তো বংশের অভিমানে তার এই হীন জন্মকথার আশঙ্কায় লজ্জিত! কিন্তু হিমাদ্রি জানে যে, সে হিমগিরির ঐর্শ্বয্যে লালিত, হিমালয় নন্দিনী পার্বতীর সন্তান এবং কালের দেবী তারই ভিন্ন রূপ মাত্র। কখনও তিনি তাকে তুলেছেন উচ্চে, কখনও নামিয়েছেন নিচে, তাঁর বিশ্বাস, স্বয়ং দুর্গতিনাশিনী যার প্রতীকী মাতা অসম্মানে কখনও তার সমাপ্ত হতে পারে না। 

মহাভারতে মহাবীর কর্ণের জন্মসূত্রও প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল তার সকল আধুনিক অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা তার নিষ্ঠা এবং সততাকে! গুরু পরশুরামের কাছে পরিচয় গোপন করার অপরাধে নির্মম শাস্তি পেয়েছিলেন; যুদ্ধের চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে তার দেয়া দিব্যাস্ত্রের মন্ত্র ভুলে গিয়ে।

তাই আজ এই সঙ্কটময় পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে আলোর দিশারী রাজা হিমাদ্রির প্রত্যাশা, এই যদি হয় মানব জীবনের আদি ইতিহাস তবে কেন সে তার নিজের জন্মবৃত্তান্তের গূঢ় কাহিনীকে অন্ধকার থেকে আলোতে এনে উদ্ভাসিত করবে না? 

ব্রহ্মার নির্দেশে ব্রহ্মপুত্রের পবিত্র জলে হাতের মাতৃরক্ত ধুয়ে পবিত্র হয়েছিলেন পর্শুরাম! তাই হিমালয়ের এই মহাসঙ্কটের মাঝে দাঁড়িয়েও হিমাদ্রির বিশ্বাস এবং প্রত্যাশা নিয়তি, হায় নিয়তি আমার বিধিলিপি পূর্ণ করার পথে তুমি আমাকে চালনা কর, আমাকে আমার সম্পূর্ণতার পথে, সত্যের পথে, আলোর পথে নিয়ে চলো! হে দেব আলো চাই আমার! 

‘রাজা হিমাদ্রি’ চরিত্রের মাধ্যমে নানা মানব প্রকৃতির নানা রহস্য ফুটে উঠেছে। সত্যানুসন্ধানে রাজা হিমাদ্রির নানা অভিযানের গল্পও বলা হয়েছে এ নাটকে। ২০১২ সালে ১৫ জুন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে উদ্বোধনী প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দৃষ্টিপাতের ২১তম প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে আসে নাটক ‘রাজা হিমাদ্রি’। 

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers