মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৬ জিলহজ ১৪৪২

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
সঙ্গীত

বিচ্ছেদী গানের প্রথিতযশা বাউল সাধক উকিল মুন্সী

ফারুক হোসেন শিহাব ১২ ডিসেম্বর , ২০২০, ১৩:৩৪:৪৩

  • বিচ্ছেদী গানের প্রথিতযশা বাউল সাধক উকিল মুন্সী

জগৎ-সংসার আর জীবনের মিশ্র গান লিখে এবং নিজের সুরে নিজেই কণ্ঠে ধারণ করে মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন তিনি। ক্রমেই তার গান জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। খুব অল্প সময়ে অপার জলরাশির হাওরাঞ্চলে তার সুর, বাণী ও গায়কী সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়কেড়ে নেয়। জাদুকরী গায়কী সবাইকে ব্যাকুল করে তোলে। তিনি হয়ে উঠেন বিখ্যাত বাউল গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক।

বলছি, বিচ্ছেদী গানের প্রথিতযশা বাউল সাধক উকিল মুন্সীর কথা। তার গানে যাপিত জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনার কথা চিত্রিত হলেও প্রতিটা গানের পরিণতি মানব মুক্তির ইঙ্গিত করে। কখনো ফেলে আসা জীবনে ভুলের মাসুল, কখনো ইহজাগতিক প্রেম যা ধর্ম বিচ্যুত নয়, কখনো বা পরলোকিক প্রেম যা লৌকিতাবর্জিত নয়।

সঙ্গীত সাধনার এই মিথস্ক্রিয়া তার সমকালের মানুষের কাছে দুর্ভেদ্য মনে হয়নি এবং নিজ নিজ বিশ্বাসে আঘাত করেনি। একারণেই উকিলের স্বাতন্ত্রিক দর্শন সমকালীন সঙ্কটে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক।  শৈশব-কৈশোরে ঘেঁটুগানে যুক্ত ছিলেন, পরে গজল (ইসলামিক গান) অতঃপর পরিণত বয়স থেকে আমৃত্যু বাউল সাধনায় মগ্ন ছিলেন। 

আজ ১২ ডিসেম্বর কীর্তিমান এই বাউল সাধকের ৪২তম প্রয়াণদিবস। ১৯৭৮ সালের এইদিনে অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৮৫ সালের ১১ জুন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার হাওর বেষ্টিত খালিয়াজুরি উপজেলার নুরপুর বোয়ালী গ্রামের একটি ধনাঢ্য মুসলিম পরিবারে উকিল মুন্সির জন্ম।

তার পুরো নাম আব্দুল হক আকন্দ এবং ডাক নাম ‘উকিল’। পরবর্তীতে ইমামতি পেশার কারণে মুন্সি যুক্ত হয়ে পিতৃমাতৃদত্ত প্রকৃত নামটিই চাপা পড়ে যায়। উকিল নিতান্ত বাল্যে পিতৃহারা হন। তখন তার বয়েস ছিল ১০। আব্দুল মজিদ নামে উকিলের এক ছোট ভাই ছিল। আব্দুল মজিদ উকিলের চেয়ে বছর তিনেকের ছোট ছিলেন। ধনাঢ্য তালুকদার মওলানা গোলাম রসুল আকন্দ গৃহশিক্ষক দিয়ে দুই শিশুসন্তানের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন।

উকিল মুন্সি শৈশবেই বাংলার পাশাপাশি আরবি, ফারসি ও কোরান শিক্ষা নেন। হঠাৎ বাবার মৃত্যুতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায় তাদের। মা উকিলেন্নেসা মদন থানার হাসনপুর গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। উকিলেন্নেসা দুই শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন স্বামীর ঘরে যান। হাসনপুরে দরবেশ গাজী নামে উকিলের এক পেট ভাই জন্ম নেয়। হাসনপুরে কয়েক বছর থাকার পর উকিল ও তার ভাই বাবার বাড়ি ফিরে আসেন। তারপর দুই ভাই চলে যান কিশোরগঞ্জের ইটনার ঠাকুরবাড়িতে- তাদের ফুফুর কাছে। পিতৃছায়াহীন অবস্থায় এখানে-সেখানে থাকতে থাকতে কৈশোর থেকেই উকিলকে ঘরহীন বন্ধনহীন বাহিরপনা পেয়ে বসে। সেই সময়ে নেত্রকোনায় ঘাঁটুগানের ব্যাপক প্রচলন। ঘাঁটুগান নেত্রকোনার লোকসংস্কৃতির প্রাচীন এক ঐতিহ্য। 

এ ঘাঁটুগান বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে এসে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। উকিল মুন্সি ১৭/১৮ বছর বয়সে ঘাঁটুগানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ঘাঁটুগানের দল নিয়ে তিনি এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াতেন। এই ঘাঁটুগানের মাধ্যমে তার বাউলগানের জগতে প্রবেশ। উকিল সঙ্গীতচর্চায় বুঁদ হন ঠিকই- কিন্তু বাবার রেখে যাওয়া জমিজমা বিক্রি করে দিচ্ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের মাঝামাঝি থেকে উকিল গায়ক বাউলকবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠতে থাকেন।

ওই সময় মদন ও খালিয়াজুরির পার্শ্ববর্তী থানা মোহনগঞ্জের জালালপুর গ্রামের সাধারণ এক কৃষকের মেয়ের প্রেমে পড়েন। এর মধ্যে আকস্মিকভাবে মারা যান ছোট ভাই আবদুল মজিদ। কুলিয়াটি গ্রাম সেই সময় উকিলকে ঘিরেই ওই অঞ্চলের বাউলশিল্পীদের কেন্দ্র বা ঠিকানা হয়ে উঠে।

বিভিন্ন স্থানের বাউলসাধক ও শিল্পীর যাতায়াত ছিল কুলিয়াটি গ্রামে। এই কুলিয়াটি গ্রামে অনেক বাউলের জন্ম। উকিল মুন্সির অগ্রজ কুলিয়াটির সন্তান হৃদয় সরকার নামে এক বাউলসাধক ছিলেন। তার গান বাউলশিল্পীদের মুখে মুখে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। হৃদয় সরকারের মৃত্যুর পর বাউল মতাদর্শের কারণে সমাজ তার লাশ দাহ করেনি। তার লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। কুলিয়াটির সন্তান বাউলশিল্পী ধনাই খা, আবু চান, আব্দুল জলিল প্রমুখ উকিল মুন্সির সরাসরি শিষ্য ছিলেন। 

এদের কেউ আজ আর বেঁচে নেই। উকিলের প্রশিষ্যদের মধ্যে বাউলশিল্পী নুরুল ইসলাম ফকির কুলিয়াটির সঙ্গীত ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন আজো। কুলিয়াটি থাকা অবস্থায় উকিল মুন্সি হবিগঞ্জের রিচি (তরফ) দরবার শরিফের পীর সৈয়দ মোজাফফর আহম্মদের (রা.) মুরিদ হন। তখন থেকে তিনি পিরের নির্দেশে বাকি জীবনে গান পরিবেশনে একতারা ও চটিয়া ব্যতীত অন্য কোনও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেননি। শরিয়তপন্থী বলে তিনি নিজের ছবি পর্যন্ত তোলেননি। 

যৌবনকালে একতারা আর চটিয়া বাজিয়ে গান গেয়ে মাতিয়েছেন যুবক সমাজকে। গানের শব্দ চয়ন, অপূর্ব উপমা হাওরের মাটির স্রোতধারা, ভালবাসা, প্রেম, বিরহের স্বাক্ষর রেখেছেন। খ্যতি অর্জন করা সেই বাদ্যযন্ত্র আর ঝংকার বন্ধ হল এক সময়। তিনি শেষ বয়সের হদয়পর্শী আবেগমাখা বিরহ বিচ্ছেদের গানে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার না করে খালি ভরাট গলায় গান করতেন।

পরবর্তীতে এলাকাবাসীকে বলতে শোনা যায়, উকিল মুন্সী মসজিদে বসে একতারা বাজিয়ে গজল গাইতেন। তখন তাঁকে গ্রামের মানুষ এতটাই শ্রদ্ধা করত যে, অনেকের আপত্তি থাকলেও এ কাজে নিষেধ করার সাহস কারও ছিল না। নাম না জানা এক লোক এ বিষয়ে থানায় অভিযোগও করেছিলেন। সে অনুযায়ী পুলিশ উকিলের বাড়িতেও যান। পুলিশের ডাকে উকিল গান ধরে ঘরের বাইরে আসেন যে গানে পুলিশ তাঁর ভেতরে লুকানো কথার জবাব পান। 

প্রথম দিন কিছু না বলে চলে যান, পরে বিভিন্ন মঞ্চে লুকিয়ে লুকিয়ে উকিলের গান শুনেন। এক পর্যায়ে সেই পুলিশ তাঁর মুরিদ হয়ে যান। উকিলের দর্শন- ক্ষোভের বিপরীতে ক্ষোভ নয়, চাই যুক্তি। অস্ত্রের বিপরীতে অস্ত্র নয়, প্রয়োজন মানবিক-মানসিকতা। এটা থেকে কখনোই বিচ্যুত হননি হাওড় অঞ্চলের লাখ মানুষের আরাধ্য পুরুষ উকিল মুন্সী।

তার জেনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ‘সুয়া চান পাখি’, ‘আমার কাংখের কলসী গিয়াছে ভাসি’, ‘রজনী প্রভাত হল ডাকে কোকিলা’, ‘প্রাণ সখিগো…’, ‘ভেবেছিলাম রঙে দিন যাবেরে সুজন নাইয়া’, ‘এসো হে কাঙালের বন্ধু’, ‘সোনা বন্ধুয়া রে এতো দুঃখ দিলে তুই আমারে’, 'কাহার নামে বসবেন খোদা’, ‘নবীজির খাশ মহলে’, ‘দীন দুনিয়ার বাদশা তুমি’।

এক সময় উকিল মুন্সি কুলিয়াটি ছেড়ে মোহনগঞ্জের পালগাঁও গ্রামে চলে যান। সেখানেও মসজিদে ইমামতি, মক্তবে ছেলেমেয়েদের পাঠদান ও গান নিয়ে মত্ত থাকাই তার দুনিয়াবি। এছাড়া তিনি চানগাঁও ও নুরপুর বোয়ালী গ্রামেও মসজিদে ইমামতি করেছেন। উকিল মুন্সি মাঝে-মধ্যে জালালপুরে পরিবারের কাছে গেলে সেখানেও গ্রামের লোকজনের অনুরোধে তাকে মসজিদে ইমামতি করতে হতো। জানাজায়ও তাকে ইমামতি করতে হতো। 

এলাকার লোকজন তাকে মসজিদ ও জানাজায় ইমাম হিসেবে চাইতেন। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পর্যন্ত তাদের পরিবারের সদস্যদের আগে থেকেই বলে রাখতেন মৃত্যুর পর যেন তাদের জানাজায় উকিল মুন্সি ইমামতি করেন। উকিল মুন্সিকে বাউলগানের আসরে বিরতি দিয়েও জানাজার নামাজে ইমামতি করতে হয়েছে। একজন বাউল মসজিদের ইমাম। এ এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে উকিলের ব্যক্তিত্ব, কর্ম ও দর্শনের কারণে। বক্তব্য ও অর্থে প্রেমের পথ বেয়ে স্রষ্টার প্রতি অন্তর্লীন প্রার্থনাময় তার গান, তার তুলনাহীন সুরেলা গলা, তার বিখ্যাত মোনাজাত, পাণ্ডিত্য তাকে ঈর্ষনীয় মর্যাদা দিয়েছে।

এদের সাধন-ভজন, মেধা ও শিল্পশক্তির মধ্য দিয়ে দেহতত্ত্ব, ঈশ্বরতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, লোকতত্ত্ব, গুরুতত্ত্বসহ বিভিন্ন তত্ত্বের বিশ্লেষণ, সুফিবাদের আলোকে মানবপ্রেম সমাজজীবনের অন্তঃপ্রবাহে সেই সময়ে ঢেউ তুলেছিল। পীর-সংস্কৃতির নেত্রকোনা অঞ্চলে এরা গানে গানে অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার কথা বলে শ্রেণী-জাত-পাতের তুলোধুনো করে কট্টর আলেম সমাজ ও গোঁড়া ব্রাহ্মণ্যবাদের ভক্তদের কাছে শত্রু হয়ে উঠেছিলেন। 

সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রশিদউদ্দিন, উকিল মুন্সি, জালাল খাঁদের দমাতে মাঠে পর্যন্ত নেমেছিল। এ প্রসঙ্গে ‘নেত্রকোণার বাউল গীতি’ গ্রন্থে গোলাম এরশাদুর রহমান লিখেছেন- ‘এ জাতীয় বাউলগানকে নিষিদ্ধ করার জন্য ১৯৫১ সালের ২৮ জানুয়ারি এ অঞ্চলের শরিয়তপন্থী আলেম সমাজ নেত্রকোনা সদর থানার বালি-অনন্তপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাউলগান বিরোধী প্রচারপত্র বিলি করে এক বিরাট ধর্মসভার আয়োজন করে।

পাকিস্তান সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে শরিয়তপন্থী আলেমদের এটাই ছিল মালজোড়া বাউলগান বিরোধী সবচেয়ে বড় সাহসী উদ্যোগ। এ ধর্মসভায় মৌলানা আতাহার আলী, মৌলানা মঞ্জুরুল হক এবং মৌলানা আকবর আলী রেজভী সাহেব বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আলেম সমাজের এ উদ্যোগে বাউলসাধকগণ আদৌ ভীত হননি। বাউলসাধকগণ লেডিরকান্দার আছমত আলী শাহ ফকিরের পৌরহিত্যে ঐ দিন একই সময়ে বালি-অনন্তপুর গ্রামের মিরাজ আলীর বাড়ির সামনে রশিদউদ্দিন, উকিল মুন্সি, উপেন্দ্র সরকার, মিরাজ আলীসহ এ অঞ্চলের খ্যাতনামা বাউলসাধক ও পির-ভক্তদের উপস্থিতিতে জলসার আয়োজন করেন। 

বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম তীর্থস্থান, ১৯৪৫ সালের সারা ভারত কৃষক সমাবেশের অন্যতম সংগঠক ‘রেড’ বালিতে, এ অঞ্চলের জনগণ সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদী চেতনায় সৃষ্ট পাকিস্তান আন্দোলনের চার বছরের মাথায় প্রমাণ করতে সক্ষম হয়- মৌলবাদ অপরাজেয় নয়। বাউলসাধকদের গান ও পির-ভক্তদের জিকিরের জোয়ারে ভেসে গেল আহুত বাউলবিরোধী ধর্মসভা। তড়িঘড়ি ধর্মসভা শেষ করে সসম্মানে বিদায় নিতে বাধ্য হন আলেমগণ। আর সেই স্থানে দিন থেকে শুরু করে রাতঅবধি চলে বাউলগানের জলসা। এ পরাজয়ের পর আর কোনদিন বাউলগানের বিরুদ্ধে কোনও প্রকাশ্য বিদ্রোহ এ অঞ্চলে সৃষ্টি হয়নি।’ প্রকৃতিজ দর্শনের প্রচার করেন বাউলকবিরা। সঙ্গত কারণেই পরিবেশ-প্রতিবেশের জীবন ও সাংস্কৃতিক শক্তি তাদের পক্ষেই যায়।

এক পর্যায়ে উকিল মুন্সি জালালপুর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম জৈনপুরে বেতাই নদীর কূল ঘেঁষে বাড়ি করেন। সাত্তারের পর উকিলের আরও এক ছেলে ও দুই মেয়ে জন্ম নেয়। উকিলের অপর ছেলের নাম পুলিশ মিয়া এবং মেয়েদের নাম সন্তোষের মা ও রাবিয়া খাতুন। দুই মেয়েকে তিনি জৈনপুর গ্রামেই বিয়ে দেন। 

উকিল এক সময় জৈনপুরে থিতু হয়ে এ গ্রামের মসজিদে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ইমামতি করেন। উকিল মুন্সি নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের বহু স্থানে বৈঠকি বাউলগান ও মালজোড়া বাউলগানের আসর মাতিয়েছেন। উকিল গত শতাব্দীর ষাটের দশকের প্রথমদিকে এসে আসরে গান করা ছেড়ে দেন। 

সেই সময়ে উকিলের এন্ট্রাস পাস স্কুলশিক্ষক ছেলে আবদুস সাত্তার গায়ক বাউলকবি হিসেবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন। আবদুস সাত্তার চল্লিশের দশকের শুরু থেকে বাবার সঙ্গে বহু আসরে গান করেছেন। আবদুস সাত্তারও বাবার হাত ধরে পীর সৈয়দ মোজাফফর আহম্মদের (রা.) মুরিদ হয়েছিলেন। বাউল সাত্তার ১৯৭৮ সালের ৬ আগস্ট আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। 

স্ত্রী হামিদা খাতুনের মৃত্যুর কয়েক মাস পর প্রিয় পুত্রের মৃত্যুতে শোকে প্রায় পাগল হয়ে পড়েন উকিল মুন্সি। পুত্রের মৃত্যুর পর চোখের জল আর থামেনি উকিলের। পুত্রশোক ও বার্ধক্যজনিত কারণে অবশেষে ১৯৭৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ৯৩ বছর বয়সে কীর্তিমান এই বাউল সাধকও না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। জৈনপুরে ভিটাবাড়ির উঠানে পুত্র আবদুস সাত্তারের কবরের পাশে বাউল গানের এই নিবেদিত সাধক চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। 

জীবদ্দশায় উকিল মুন্সী মানুষের সাথে থেকে মানুষের মতোই মাটির সাথে মিশে থেকেছেন। তেমনি আজও মানুষের অন্তরে মিশে আছেন গভীর মমতা ও শ্রদ্ধায়। এমনিভাবে সবার মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেন আরও বহুকাল।

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers