সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
সঙ্গীত

আলতাফ মাহমুদের অন্তর্ধান দিবস আজ

নিউজজি প্রতিবেদক ৩০ আগস্ট , ২০২০, ১৩:২৪:১৮

  • আলতাফ মাহমুদের অন্তর্ধান দিবস আজ

শহীদ আলতাফ মাহমুদ ছিলেন অনবদ্য সুরের জাদুকর। একুশের গান হিসেবে খ্যাত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানের সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদ। ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় আলতাফ মাহমুদকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে আর ফিরেননি গুণী এ সংগীতজ্ঞ।

তাকে নিয়ে পরবর্তী প্রেক্ষাপট সবার অজানা। সেই হিসেবে শহিদ আলতাফ মাহমুদের ৪৯তম অন্তর্ধান দিবস আজ। একুশের গানের অমর অমর এই সুরকার অনেকের কাছেই ঝিলু নামে পরিচিত। একাধারে ছিলেন কবি, সুরকার এবং গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক, নৃত্য পরিচালক, প্রযোজক। তিনি ছিলেন একজন আপোষহীন গেরিলা অধিনায়কও। 

১৯৩৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার মুলাদি উপজেলার পাতারচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গুণী এই ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৮ সালে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে তিনি মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাশ করে ভর্তি হন বিএম কলেজে। পরে তিনি চিত্রকলা শিখতে ক্যালকাটা আর্টস স্কুলে যান। প্রসিদ্ধ ভায়োলিন বাদক সুরেন রায়ের কাছে প্রথম সঙ্গীতে তালিম নিয়ে তিনি গণসঙ্গীত গাইতে শুরু করেন এবং প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

১৯৫০ সালের দিকে তিনি ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় গণসঙ্গীত গাইতেন। গান গাওয়ার মাধ্যমে মাহমুদ এই আন্দোলনকে সর্বদাই সমর্থন যুগিয়েছেন। ১৯৫৩ সালের প্রভাত ফেরীতে আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ শিরোনামের আলোড়ন সৃষ্টিকারী গানটি প্রথম আলতাফ মাহমুদের সুরে গাওয়া হয়। ধরে নেওয়া হয় ১৯৫২ সালের শেষদিকে তিনি একুশের গানের সুর দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৬৯ সালে জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রের জন্য একুশের গানের শুরুতে হামিং সংযোজন করেন আলতাফ মাহমুদ।

১৯৭১ সালে আলতাফ মাহমুদ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের একজন সক্রিয় যোদ্ধা ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাঁর ঢাকার রাজারবাগের আউটার সার্কুলার রোডের নিজ বাসায় গোপন ক্যাম্প স্থাপন করেন। কিন্তু ক্যাম্পের কথা ফাঁস হয়ে গেলে ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট বাসা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশীয় দোসরদের সহায়তায় তাঁকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আর খোঁজ মিলেনি তাঁর। আজও সবার অজানা কী নির্মমতা ঘটেছিল তাঁর ভাগ্যে।

আলতাফ মাহমুদকে হত্যার অভিযোগে যুদ্ধাপরাধী ও আল বদর নেতা আলী আহসান মুজাহিদের শাস্তি ঘোষিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে। ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগের রায়ে মুজাহিদকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয় আলতাফ মাহমুদসহ অন্যান্যদের নির্যাতন ও হত্যার কারণে। অপর অভিযোগ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, এবং তা ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

আলবদর নেতা ও যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদের বিপক্ষে এ সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সুরকার আলতাফ মাহমুদ, জহিরউদ্দিন জালাল, বদি, রুমি, জুয়েল ও আজাদকে আটক করে ঢাকার নাখালপাড়ায় পুরনো এমপি হোস্টেলে রাখা হয়। 

৩০ অগাস্ট রাত ৮টার দিকে পূর্ব পাকিস্তান ইসলামি ছাত্রসংঘের সেক্রেটারি মুজাহিদ ও সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী সেখানে গিয়ে এক সেনা কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেন, রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আগেই তাদের হত্যা করতে হবে। এ সিদ্ধান্তের পর সহযোগিদের নিয়ে মুজাহিদ আর্মি ক্যাম্পে আটকদের অমানবিক নির্যাতনের পর জালাল ছাড়া বাকিদের হত্যা করেন।

১৯৭৭ সালে বাংলা সংস্কৃতি ক্ষেত্রে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য আলতাফ মাহমুদকে একুশে পদক প্রদান করা হয় এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় শহীদ আলতাফ মাহমুদকে ২০০৪ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers