মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ , ৪ জিলকদ ১৪৪২

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
সঙ্গীত

শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চার বিদগ্ধ পথিকৃৎ খালিদ হোসেন

ফারুক হোসেন শিহাব ৪ ডিসেম্বর , ২০১৯, ১৬:২১:২৫

  • শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চার বিদগ্ধ পথিকৃৎ খালিদ হোসেন

প্রখ্যাত সঙ্গীতগুরু  খালিদ হোসেন ছিলেন একজন বিদগ্ধ নজরুলগীতি শিল্পী, স্বরলিপিকার এবং নজরুল গবেষক। তিনি ছিলেন নজরুলের ইসলামী গান গাওয়ার জন্য সুপ্রসিদ্ধ। জাতীয় কবির গানের বাণী শুদ্ধ ও মৌলিকত্ব বজায় রেখে পরিবেশনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। 

এদেশের বহু তারকা শিল্পীর উত্থান হয়েছে সঙ্গীতগুরু খালিদ হোসেনের সিদ্ধ হস্তে তালিম নেয়ার মধ্য দিয়ে। আজন্ম তিনি সঙ্গীতের পথে নিজের আত্ম বিসর্জন দিয়েছিলেন। দেশব্যাপী শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চার বিকাশে তার অবদান অসামান্য।

আজ ৪ ডিসেম্বর নজরুল সঙ্গীতের বরেণ্য শিল্পী, গবেষক, স্বরলিপিকার ও সঙ্গীতগুরু খালিদ হোসেনের জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এইদিনে খালিদ হোসেন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। দেশ বিভাগের পর তিনি পরিবারের সাথে কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়ায় চলে আসেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।

খালিদ হোসেন সঙ্গীত প্রশিক্ষক ও নিরীক্ষক হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশে নজরুল সঙ্গীতের শিক্ষক, গবেষক ও শুদ্ধ স্বরলিপি প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া তিনি নজরুল ইন্সটিটিউটে নজরুলগীতির আদি সুরভিত্তিক নজরুল স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের সদস্য। তার সর্বশেষ নজরুলগীতির অ্যালবাম হল ‘শাওনো রাতে যদি’। 

নজরুল ইন্সটিটিউটে নজরুল সঙ্গীতের আদি সুরভিত্তিক নজরুল স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের সদস্য তিনি। এ পর্যন্ত তার ছয়টি নজরুল সঙ্গীতের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। খালিদ হোসেনের একমাত্র আধুনিক গানের অ্যালবাম ‘চম্পা নদীর তীরে’। এ ছাড়া তার ১২টি ইসলামী গানের অ্যালবামও রয়েছে।

খালিদ হোসেন নজরুল সঙ্গীতের শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত আছেন দীর্ঘদিন ধরে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডে সঙ্গীত নিয়ে প্রশিক্ষক ও নিরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। 

সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিসরূপ ২০০০ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও, তিনি নজরুল একাডেমি পদক, শিল্পকলা একাডেমি পদক, কলকাতা থেকে চুরুলিয়া পদকসহ বহু সম্মাননা লাভ করেছেন।

পথিকৃৎ এই সঙ্গীতজন দীর্ঘদিন যাবত হৃদরোগে ভোগার পর রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে গত ২২ মে মৃত্যুবরণ করেন। পৈত্রিক বা‌ড়ি কু‌ষ্টিয়ার কোটপাড়ায় তা‌কে দাফন করা হয়।

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers