সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ , ১১ সফর ১৪৪৩

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
আলোকচিত্র

বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস ও বাংলাদেশে আলোকচিত্র

লুৎফর হাসান ১৯ আগস্ট , ২০১৭, ১২:৪৩:০৩

  • বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস ও বাংলাদেশে আলোকচিত্র

“সবাই ছবি তোলে কিন্তু সবাই ফটোগ্রাফার হয় না”। ডিজিটাল যুগে প্রতি সেকেন্ডে লাখো মানুষ কোটি কোটি ছবি তোলে। আধুনিক যুগে ১৬ বছরের কিশোরী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যে ছবি তোলে সেটিও ছবি আবার পাভেল রহমানের নূর হোসেনের ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ শিরোনামের সেই কালজয়ী ছবিটিও ছবি। আজ সমাজ এমন এক সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, যে ডিএসএলার থাকলেই নিজেকে ফটোগ্রাফার ভেবে দিব্যি ফেসবুকে পেজ খুলে ফেলছে যে কেউ। কিন্তু ফটোগ্রাফির মাধ্যমে যারা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন, এনে দিয়েছেন বিরল সব  সম্মান তাঁদের সম্পর্কে  সাধারণ মানুষের কোনো ধারণাই নেই। তাই ফটোগ্রাফি শুরু করার আগে বাংলাদেশে ফটোগ্রাফির গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিত। ধারণা রাখা উচিত তাঁদের ব্যাপারে যাদের জন্য ফটোগ্রাফি আজ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি শিল্প। মহান মুক্তিযুদ্ধের  সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফটো সাংবাদিক ও অন্যান্য আলোকচিত্রশিল্পীরা যুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র ধারণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া আলোকচিত্রকরদের মধ্যে রয়েছেন- রশীদ তালুকদার, নাইব উদ্দিন আহমেদ, মঞ্জুর আলম বেগ, মোহাম্মদ আলম, হামিদ রায়হান, সফিকুল ইসলাম স্বপন, গোলাম মাওলা, আনোয়ার হোসেন, পাভেল রহমানসহ আরও অনেকে।

পৃথিবীর সভ্যতার উৎকর্ষে যে কয়টি মাধ্যম অন্যতম, তার মধ্যে ফটোগ্রাফি স্বতন্ত্র অবস্থানে। ফটোগ্রাফির ইতিহাসে ফরাসি উদ্ভাবক 'জোসেফ নিসেফোর নিপে'  এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত। কারণ তাকেই বলা হয় ফটোগ্রাফির জনক। প্রথম ছবিটি তিনি তোলেন ১৮২৭ সালে। তিনি ছিলেন ফ্রান্সের একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। যদিও জীবদ্দশায় তিনি ফটোগ্রাফি শিল্পের প্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পারেননি। তবে যুগ যুগ ধরে তাঁকেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে পৃথিবী।

পরবর্তী সময়ে অনেক ফটোগ্রাফার তাঁদের নিজেদের তোলা ছবি দিয়ে বিশ্বে আলোচনার জায়গা করে নেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য –হেনরী কার্টিয়ার ব্রেসো, রবার্ট কাপা, সেবাস্তিও সালগাদো, রঘু রায়, কেভিন কার্টার, ম্যালকম ব্রাউনি, নিক আট, আলবার্ট করদা ও অনেকেই।

১৮৩৯ সাল থেকে আগস্ট মাসের উনিশ তারিখকে আলোকচিত্রের দিন হিসেবে উদযাপন করে আসছে পুরো পৃথিবী। ড্যাগুইররিয়ো টাইপ ফটোগ্রাফি মুক্তি লাভের সেই দিনটিকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছরের এই দিন বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে থাকে। এছাড়াও শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ফটোগ্রাফির অগ্রযাত্রায় যে সকল মানুষ নিরলস কাজ করে গেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই দিনটি পালন করা হয়।

বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস উপলক্ষে ১৯ আগস্ট বাংলাদেশের বিভিন্ন ফটোগ্রাফার কমিউনিটি এর উদ্যোগে শোভাযাত্রা, আলোচনা অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। ফটোগ্রাফারদের প্রযোজনায় আলোকচিত্রের বিবর্তন ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে তথ্যচিত্র ও প্রদর্শিত হয়।

ছবি: আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ

বাংলাদেশে আজকের যে ফটোগ্রাফি আন্দোলন, তার উৎকর্ষ হয়েছে আসলে দুরকম পথে। ব্যক্তিগতভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে।

আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ-  লেখক, সংগঠক এবং গবেষক আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগকে বাংলাদেশের আলোকচিত্র শিল্পের জনক বলা হয়। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৬০ সালে ফটোগ্রাফি শিক্ষাকেন্দ্র বেগার্ট ইন্সটিটিউট অব ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফটোগ্রাফির আন্দোলন শুরু হয়। ফটোগ্রাফির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ মূলত বেগার্টের হাত ধরেই বাংলাদেশে আসে। আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ নিজ উদ্যোগে ১৯৭৫ সালে বেগার্টের ১৫তম জন্মদিনে ‘বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি’ (BPS) প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বিপিএস ফটোগ্রাফিবিষয়ক আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংগঠন ‘ফিয়াপ’ (The International Federation of Photographic Art)-এর সদস্যপদ লাভ করেন। এছাড়াও, বাংলাদেশে ফটোগ্রাফি চর্চার ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ জার্মানিতে  ফিয়াপের সর্বোচ্চ সম্মাননা ইএসফিয়াপ (Excellence for Services rendered FIAP) লাভ করেন। তাঁর লেখা বই ‘আধুনিক ফটোগ্রাফি’ দুই বাংলাতে ব্যাপক সমাদৃত এবং জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই আলোকচিত্রীকে ২০০৭ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

গোলাম কাশেম (ড্যাডি)- ১৯৬২ সালে প্রথম ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাব নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন গোলাম কাশেম (ড্যাডি)। আজীবন তিনি ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাব-এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেসময়ে তাঁর উদ্যোগে ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাবে বসন্তকালীন উৎসব পালিত হতো। ড্যাডি উপাধিতে তাঁকে  ভূষিত করেন মঞ্জুর আলম বেগ। গুণী আলোকচিত্রী গোলাম কাশেম ফটোগ্রাফির উপর রচনা করেন বেশ কিছু বই।

আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ এবং গোলাম কাশেম (ড্যাডি) ছাড়াও স্বতন্ত্র ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ফটোগ্রাফিতে যারা অবদান রেখেছেন তাঁরা সবাই যেনো এক একটি অধ্যয়। কালজয়ী সেসব আলোকচিত্রীদের বর্ণাঢ্য জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

ছবি:নাইব উদ্দিন আহমেদ

আমানুল হক - মুক্তিযুদ্ধের ছবি ছাড়াও তিনি যে কাজের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালীন ছবি।

নাইব উদ্দিন আহমেদ- নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের ছবির জন্য সবার কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে কলকাতার অলিগলি-রাজপথ ঘুরে তেতাল্লিশের মন্বন্তরের ছবি তুলেছেন তিনি।

ড. নওয়াজেশ আহমেদ - গ্রামীণ জীবনের ছবি তুলে খ্যাতিমান হয়েছেন। ময়মনসিংহ আলোকচিত্রী সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। ফটোগ্রাফির উপর তাঁর লেখা বেশকিছু বই প্রকাশিত হয়েছে।

মৃণাল সরকার- চট্টগ্রামের ফটোগ্রাফি আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন মৃণাল সরকার। মানুষের মধ্যকার মানবিক গুণাবলীর দিকটি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে তুলে ধরে বেশ প্রশংসনীয় হয়েছিলেন তিনি। ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফিক কাউন্সিলের(আইআইপিসি) বাংলাদেশি প্রতিনিধিও ছিলেন মৃণাল সরকার।

সাঈদা খানম –  তাঁকে বলা হয় এদেশের প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নারী ফটোগ্রাফার। সাপ্তাহিক বেগমের প্রেস ফটোগ্রাফারও ছিলেন তিনি।

বিজন সরকার- এক্সপেরিমেন্টাল এবং ফ্ল্যাশ ফটোগ্রাফিতে তাঁর অসাধারণ কিছু কাজ রয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন কর্পোরশনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

রশিদ তালুকদার– তিনি  ছিলেন বাংলাদেশের প্রেস সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ। কর্মজীবনে দৈনিক সংবাদ এবং দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত যত ছবি তাঁর বেশিরভাগই তুলেছিলেন তিনিই।

আনোয়ার হোসেন– বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফটোগ্রাফার। আলোকচিত্রের উপর দেশে বিদেশে তাঁর প্রচুর বই প্রকাশ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত এই আলোকচিত্রীর ছবি প্রদর্শিত হয়েছে দেশ ও দেশের বাইরেও।

ড. শহীদুল আলম– দৃক আলোকচিত্র গ্রন্থাগার এবং পাঠশালা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আলোকচিত্র আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং প্রতিবছর ছবিমেলার প্রধান উদ্যোক্তাও তিনি। গুণী এই আলোকচিত্রী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও জনপ্রিয়।

মোহাম্মদ আলী সেলিম- তিনি হলেন ‘ফিয়াপ’-এর (The International Federation of Photographic Art) সম্মাননা মাস্টার্স অব ফটোগ্রাফি ‘এমফিয়াপ’ প্রাপ্ত বাংলাদেশি আলোকচিত্রী। মূলত পিকটোরিয়াল ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফির জন্য তিনি বিখ্যাত। মোহাম্মদ আলী সেলিম সম্প্রতি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অফ আমেরিকা থেকে ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’(জিএমপি) উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও, বিশ্বের বিভিন্ন ফটোগ্রাফি ক্লাবের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান  এ আলোকচিত্রী।

এছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ফটোগ্রাফিকে জনপ্রিয় করার জন্য নওয়াব আলী (ময়মনসিংহ),  মর্তুজা তৌফিকুল ইসলাম (চট্টগ্রাম), মওদুদুল আলম (চট্টগ্রাম), রঞ্জিত দাস (চট্টগ্রাম), তৌহিদুন নবী (বগুড়া), ফরিদ আক্তার পরাগ (রাজশাহী), কামাল আহমেদ (নারায়ণগঞ্জ), তাপস রায় (নারায়ণগঞ্জ), নীতিশ রায় (শেরপুর), ফকরুল ইসলাম (সিলেট), ওবায়েদুল আল মামুনেরা (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।

ছবি: ‘বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি’ (১৯৭৫)

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ ফটোগ্রাফি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ফটোগ্রাফির বিভিন্ন শাখাতে বাংলাদেশি ফটোগ্রাফাররা তাঁদের বলিষ্ঠ অবদান রেখেছেন এবং রেখে চলছেন।

ফাইন আর্ট ফটোগ্রাফি– শিল্প ও নান্দনিকতার অপূর্ব সমন্বয়ে বাংলাদেশে যারা ফটোগ্রাফিতে রেখেছেন জোরালো ভূমিকা তাঁদের মধ্যে অন্যতম আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ, গোলাম কাশেম ড্যাডি, নাইব উদ্দিন আহমেদ, ডা. আনসার উদ্দীন আহমেদ, নওয়াজেশ আহমেদ, বিজন সরকার, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আলী সেলিম, দেবব্রত চৌধুরী, আব্দুল মালেক বাবুল, আহসান নেওয়াজ বাবু, সেলিম নেওয়াজ ভূঁইয়া, স্বপন সাহা, খালেদ মাহমুদ মিঠু, ডক্টর রশীদুন নবী শুভ্র,  হাসান সাইফুদ্দীন চন্দন, সোয়েব ফারুকী প্রমুখ।

প্রেস ও ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি– বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রামাণ্যচিত্রকে ফটোগ্রাফির অনন্য জায়গায় নিয়ে এসেছেন অনেকেই। তাঁদের কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য– শিশুশ্রম, এসিড দগ্ধ, পতিতালয়, তৃতীয় লিঙ্গ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট,  পরিবেশ এবং অন্যান্য। এ ক্ষেত্রে যাদের নাম আসে শুরুতেই তারা হচ্ছেন রশীদ তালুকদার, মোহাম্মদ আলম, আব্দুল মতিন,  জামিল আহমেদ, আলহাজ জহিরুল হক,  পাভেল রহমান, মুফতি মুনির, ড. শহীদুল আলম, আজিজুর রহিম পিউ, শফিকুল আলম কিরণ, জিএমবি আকাশ, আবীর আবদুল্লাহ, আল ইমরুন গর্জন, জিয়া ইসলাম,  মুনেম ওয়াসিফ, দীন মোহাম্মদ শিবলী, রাহুল তালুকদার, সরকার প্রতীকসহ আরও অনেকেই।

পোট্রেট ফটোগ্রাফি–  নাসির আলী মামুন বিশ্ব নন্দিত নানা মাধ্যমের বরেণ্য ব্যক্তিদের পোট্রেট ফটোগ্রাফি করার জন্য বিখ্যাত। শুধু তাই নয়; বাংলাদেশের পোট্রেট ফটোগ্রাফিতে অসামান্য ভূমিকা রাখার জন্য অনেক পোট্রেট ফটোগ্রাফারদের আইকন হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার।

ফ্যাশন ফটোগ্রাফি- এ দেশের মডেল ফটোগ্রাফিকে অনন্য ও জনপ্রিয় ধারায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – খুরশীদ আলম, চঞ্চল মাহমুদ, আক্কাস মাহমুদ,  পল ডেভিড বারিকদার, খাদেমুল ইনসান, ইকবাল আহমেদ, আশীস সেনগুপ্ত, অপূর্ব আব্দুল লতিফ, তুহিন হোসেনসহ অনেকেই।

ব্যান্ড ফটোগ্রাফি– তারুণ্যের বিনোদনের সবচেয়ে মুখর অংশ ব্যান্ড সঙ্গীত। দেশসেরা বিভিন্ন ব্যান্ডের ফটোগ্রাফি পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তাও। ব্যান্ডের বিভিন্ন অ্যালবামের প্রচ্ছদ হয়ে আছে ইতিহাসেরও অংশ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জ্বলজ্বলে নাম ইমতিয়াজ আলম বেগ।

ওয়েডিং ফটোগ্রাফি – অভিজিৎ নন্দী, প্রীত রেজা, কৌশিক ইকবাল, নাশিতা হোসেন জেরিন এবং আরও অনেকেই ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। 

স্পোর্টস ফটোগ্রাফিতে  শামসুল হক টেংকুসহ আরো অনেকেরই প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। অার্কিয়োলজি ফটোগ্রাফিতে তৌহিদুন নবী এক অনন্য দৃষ্টান্ত।  এছাড়াও বার্ড ফটোগ্রাফিতে ইনাম আল হক, শিহাব উদ্দীনসহ অনেকেই খ্যাতি কুড়িয়েছেন। বাংলাদেশে স্কুবা ডাইভিং এবং আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফির কথা উঠলেই সবার আগে নাম চলে আসে আব্দুল হামিদ।

ফটোগ্রাফির অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে এই সময়ে চলে আসে স্ট্রিট ফটোগ্রাফিও। এ ক্ষেত্রে যাদের নাম শুরুতেই আসে তাঁরা হলেন – মোহাম্মদ ইমাম হাসান, মোহাম্মদ এনামুল কবির অন্যতম।

এছাড়াও পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ফটোগ্রাফিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশে নারী ফটোগ্রাফারদের মধ্যে প্রথমে আসে সাঈদা খানমের নাম। সেই পথ ধরে খ্যাতিমান হয়েছেন অনেকেই। মনিরা মোর্শেদ মুন্নী, ফারজানা খান গোধূলি, সামিরা হক, স্নিগ্ধা জামান, কাকলী প্রধানসহ  অনেকেই।

ব্যক্তিগতভাবে ফটোগ্রাফার হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেগার্টের পর এ দেশে গড়ে উঠেছে ফটোগ্রাফি প্রশিক্ষণের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। উল্লেখযোগ্য– পাঠশালা, প্রিজম, কাউন্টার ফটো এবং আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠান।

ফটোগ্রাফি মূলত আন্তর্জাতিক ভাষা। সীমাহীন আকাশ কিংবা গভীর সমুদ্র, গভীর অরণ্য অথবা ব্যস্ত আধুনিক জীবন, চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতায় মানুষের আর্তনাদ থেকে শুরু করে সদ্য জন্ম নেয়া নবজাতকের হাসি-প্রায় সবজায়গাতে রয়েছে ফটোগ্রাফারদের বিচরণ।

প্রতিটি ফটোগ্রাফ এক একটি গল্প; যার মধ্যে কিছু হয়ে যায় ইতিহাস। সভ্যতা বিকাশে এবং পরিবর্তনে ফটোগ্রাফির অবদান অতুলনীয়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ধারণকৃত আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রসহ বিভিন্ন দূর্লব তথ্যচিত্র যার জ্বলন্ত নিদর্শন। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ফটোগ্রাফি শিল্পটি বর্তমান অবস্থায় যতখানি এগিয়েছে, সে তুলনায় আমাদের দেশে আলোকচিত্রীদের মূল্যায়নের জায়গাটি তৈরি হয়নি। একইসাথে সময় ও সমকালকে ধারণের অনন্য এই শিল্পের যথার্থ ইতিহাস এবং এর পথনির্দেশকদের নিরন্তর কর্মযজ্ঞ ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উল্লেখযোগ্য প্রয়াস এখনো সেভাবে চোখে পড়েনি। অথচ, আলোকচিত্রশিল্পকে শূন্য থেকে পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হতে যেসব আলোকবর্তিকা পথ দেখিয়েছেন তাঁদের বৃত্তান্ত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হতে পারে প্রেরণার অনবদ্য উৎস। যেই চেতন, মনন ও শিক্ষা আমাদের আলোকচিত্রশিল্প ও শিল্পীদের আরো বেশী অগ্রসর হতে সহায়ক হতে পারে। সমকালকে মহাকালের পথে প্রায় জীবন্ত তুলে ধরার শক্তিশালী এ শিল্পটিকে পরম্পরার চর্চা ও শ্রদ্ধাশীলতা আরো মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে পারে। 

বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস হয়ে উঠুক প্রতিটি আলোচিত্রীর জন্য নতুন নতুন ভাবনা-বৈচিত্র্যের আলোকশিখা। অনবদ্য এই শিল্পটি জয় করুক গভীর থেকে অসীমতা।  



নিউজজি/এসএফ/এক্স

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers