সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ , ১১ সফর ১৪৪৩

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
আলোকচিত্র

বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় আলোকচিত্রাচার্যকে স্মরণ

নিউজজি প্রতিবেদক ২৭ জুলাই , ২০১৭, ২০:২২:৪৫

  • বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় আলোকচিত্রাচার্যকে স্মরণ

ঢাকা: ২৬শে জুলাই ছিল দেশের আলোকচিত্রের পথিকৃৎ আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ-এর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফির উদ্যোগে এবং বেগার্ট ফোরামের সহযোগিতায় এক স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বেগার্ট ফোরামের সভাপতি হাসান সাইফুদ্দিন চন্দন-এর সভাপতিত্বে আলোচনাপর্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট আলোকচিত্রশিল্পী দেবব্রত চৌধুরী, আব্দুল মালেক বাবুল, মউদুদুল আলম, শহীদুল আলম, আক্কাস মাহমুদ, নাসির মাহমুদ, ইমতিয়াজ আলম বেগ, মুন্জুর মুকশেদ প্রমূখ।

আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর ছাত্র ও প্রবীণ আলোকচিত্রশিল্পী দেবব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে আলোকচিত্রশিল্পে স্যারের অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি শুধু আমাদের শিক্ষকই ছিলেন না একই সাথে ছিলেন অবিভাবকও।’

দৃক আলোকচিত্র গ্রন্থাগার এবং পাঠশালার কর্ণধার প্রখ্যাত আলোকচিত্রশিল্পী ড. শহীদুল আলম বলেন, ‘বেগ সাহেবের কাছে থেকে আমি শিখেছি- কিভাবে সহজ করে ফটোগ্রাফি শেখানো যায়। অনেক জটিল থিউরি দিয়ে অনেক কিছুই করা যায় কিন্তু তিনি যেভাবে যে উপমাগুলো ব্যবহার করতেন তা এখনো আমার কাছে স্মরণীয়।  জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা এবং কৌতূহল এই মানুষটির মধ্যে যতটা দেখেছি তা খুব কম মানুষের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়।’

চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি মউদুদুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফি সোসাইটি সৃষ্টি হয়েছে স্যারের কারণেই। আমি তাঁর কাছে ফটোগ্রাফি শিখেছি বলেই এই সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। স্যারের উদ্যোগেই তখন সারাদেশে ফটোগ্রাফিশিল্প প্রসারিত হয়েছিল।’

লেখক, গবেষক ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী আব্দুল মালেক বাবুল বলেন, ‘প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তকে স্যারের জীবনী ও আদর্শ অন্তর্ভূক্ত করা উচিত। যা থেকে নতুন প্রজন্ম ফটোগ্রাফি শিল্পে উদ্বুদ্ধ হবে। স্যারের আজীবন স্বপ্ন ছিল সরকারি পর্যায়ে আলোকচিত্রের একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার উচিৎ সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষে একত্রিত হয়ে কাজ করা। তাঁর প্রকাশিত বইগুলো পুণমুদ্রণ করাও এখন সময়ের দাবী।

আলোকচিত্রাচার্যের আরেক ছাত্র আলোকচিত্রের শিক্ষক নাসির মাহমুদ দুঃখ করে বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন শুধু ইমতিয়াজ আলম বেগ বা বেগার্ট-এর করার কথা ছিল না। সারের হাতে গড়া ফটোগ্রাফির সকল সংগঠনগুলোর উচিত ছিল নানা আয়োজনে আজকের দিনে তাঁকে স্মরণ করা।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘যতোদিন স্যার বেঁচে ছিলেন ততদিন ছিলেন আমাদের সবার শিক্ষক ও অভিভাবক। আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই। আমাদের সবার উচিৎ তাঁর দেখানো পথ অনুস্মরণ করে আলোকচিত্রের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এক মানদণ্ডে আনার লক্ষে সংগঠিত হওয়া।’

বরেণ্য আলোকচিত্রশিল্পী ও সংগঠক আক্কাস মাহমুদ বলেন,  ‘আলোকচিত্রাচার্যকে নিয়ে আমাদের মিডিয়াগুলো প্রচার-প্রচারণা করলে নতুন প্রজন্ম তাঁর অসামান্য অবদান সম্পর্কে জানতে পারতো।’

আলোকচিত্রী মুন্জুর মুকশেদ বলেন, ‘স্যারের ছবিগুলো নিয়ে আমাদের গবেষণা এবং সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। তাঁর ছবিগুলোর মাঝে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের রসায়ন  খুঁজে পাওয়া যায়।’

আলোকচিত্রাচার্যের পুত্র এবং বেগার্ট ইনস্টিটিউট অফ ফটোগ্রাফির পরিচালক ইমতিয়াজ আলম বেগ বলেন, ‘আলোকচিত্রশিল্পের সঠিক ইতিহাস জানা সবার জন্যই জরুরী।’

সবশেষে নতুন প্রজন্মের কাছে আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ-এর কর্মপরিধি তুলে ধরার লক্ষ্যে খুব দ্রুত সময়ে তাঁর আলোকচিত্র ও শিল্প-সৃজনের একটি প্রদর্শনী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর বেগার্ট ফোরাম-এর বিদায়ী সভাপতি হাসান সাইফুদ্দিন চন্দন নতুন সভাপতি মুন্জুর মুকশেদ-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

 

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers