মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ , ১১ জিলকদ ১৪৪২

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
আলোকচিত্র

নাইব উদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তিযুদ্ধের ছবি

নিউজ জি ডেস্ক ৬ মার্চ , ২০১৭, ১৫:৪৩:৩৫

  • নাইব উদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তিযুদ্ধের ছবি

নাইব উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের অন্যতম পুরোধা আলোকচিত্র শিল্পী। এ অঞ্চলে শৈল্পিক আলোকচিত্র চর্চার অন্যতম পথিকৃৎ তিনি। বাস্তববাদী ধারার আলোকচিত্রগুলোতে উঠে এসেছে এ জনপদের বর্ণিল রূপ। ১৯২৫ সালে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার পারিল গ্রামে তাঁর জন্ম। 

মানিকগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল থেকে ১৯৪৩ সালে তিনি ‘ম্যাট্রিকুলেশন’ পাস করে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯৪১ সালে আমার এক মামা, কলকাতা থেকে একটি ‘বেবি ব্রাউনি’ ক্যামেরা এনে আমাকে উপহার দেন। পরবর্তী সময়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ এবং পটুয়াশিল্পী কামরুল হাসানসহ আরও অনেক শিল্পী-মনীষীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে কলকাতার অলিগলি-রাজপথ ঘুরে তিনি তেতাল্লিশের মন্বন্তরের ছবি তুলেছেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপটে কলকাতা ছেড়ে নিজ গ্রাম পারিলে চলে আসেন।

নাইব উদ্দিন ১৯৫১ সাল থেকে কয়েক বছর পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্টে আর্টিস্ট হিসেবে চাকরি করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অনেক ছবি তোলেন। দেশের আলোকচিত্রীদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯৫৩ সালে পার্বত্য-চট্টগ্রামে আদিবাসী মুরং, চাকমা, মারমাদের ছবি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬১ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপে গবেষণাধর্মী ছবি তোলেন। নাইব উদ্দিন ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ছবি তুলেছেন।

১৯৬৯ সালে পাকিস্তান দিবসে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ র্শীষক ক্রোড়পত্র প্রণয়ন করেন। এ জন্য তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদারদের অত্যাচারের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন নাইব উদ্দিন আহমেদ।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিদেশী পত্রিকায় তিনি ছবি পাঠান। ওই সময় হানাদারবাহিনী ও তাদের দোসরদের অত্যাচারের যত ছবি দেশের বাইরে পাঠান হয় তার এক বিরাট অংশ তার তোলা। ১৯৭২ সালে কৃষি বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির নিচ তলায় একটি প্রদর্শনী করেন। সেখানে স্থান পায় ‘স্বাধীনতা’ নামে তার অসাধারণ সৃষ্টি। ছবিটির সামনে স্থাপন করেন প্রস্ফুটিত শাপলা ফুল, তারপর ভাঁজে ভাঁজে হাজারো অত্যাচার ও মুক্তিযুদ্ধের ছবি।

২০০৯ সালে তার তোলা আলোকচিত্র নিয়ে অ্যালবাম ‘আমার বাংলা’ ও তাকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘একটি নক্ষত্র জাগে’ নির্মাণ করে ঢাকার সংগঠন প্রজ্ঞা।

১৯৫৫ সালে কলম্বোতে সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে ‘আলোকচিত্র প্রর্দশনী করেন। পরবর্তী সময়ে লন্ডন, মস্কো, করাচি, দিল্লিসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ছবির একক ও যৌথ প্রদর্শনী হয়। ১৯৫৮ সালে বিশ্বব্যাপী আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড ফটো কনটেস্ট’-এ তিনি পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ আলোকচিত্রী হিসেবে পুরস্কৃত হন।

২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর মহান এই আলোকচিত্রশিল্পী ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers