রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ , ৯ জিলকদ ১৪৪২

শিল্প-সংস্কৃতি
  >
শিল্প সমালোচনা

সার্ক সাংস্কৃতিক উৎসব সম্প্রীতির অনন্য মিলনক্ষেত্র

ফারুক হোসেন শিহাব ৫ ডিসেম্বর , ২০১৭, ১৬:১৮:০০

  • সার্ক সাংস্কৃতিক উৎসব সম্প্রীতির অনন্য মিলনক্ষেত্র

সার্কের আটটি দেশ নানা দিক থেকেই আলাদা। কিন্তু সংস্কৃতি ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতর মিল রয়েছে। সার্কের আট দেশের সংস্কৃতির সেতুবন্ধ রচিত হল আরও একবার শিল্পকলার নন্দন মঞ্চে। এ অঞ্চলের শিল্পীদের গানে নাচের ছন্দে মানুষে-মানুষে দেশে-দেশে ভালোবাসার সুর ফুটে উঠল প্রাণের জোয়ারে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর অংশগ্রহণে চার দিনব্যাপী সার্ক হস্তশিল্প প্রদর্শনী, কর্মশালা ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য উৎসব শেষ হয়েছে ৩ নভেম্বর।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সার্ক কালচারাল সেন্টারের পৃষ্ঠপোষকতায় গত ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছিল এই উৎসব। শিল্পকলা একাডেমিতে চার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এ সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সার্ক কালচারাল সেন্টারের পরিচালক ওয়াসানথে কতুওয়েল্লা এবং সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আসরে খোলা আকাশের নিচে শিল্পকলার নন্দন মঞ্চে হাজার হাজার দর্শকের মাঝে  নানা দেশের শিল্পীদের পরিবেশনা ছড়িয়েছে মুগ্ধতা।

অতিথিরা বেলুন ও ফানুস উড়িয়ে উদ্বোধন করেন উৎসবের। অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘বন্ধন’ শিরোনামে আটটি দেশের গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর শামীম আরা নীপার পরিচালনায় সমবেত নৃত্য ‘জন্মভূমি’ পরিবেশনায় অংশ নেন শিবলী মোহাম্মদ, শামীম আরা নীপা ও অন্য শিল্পীরা। পরে শামীম আরা নীপার পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় ‘নাও ছাড়িয়ে দে...’ শীর্ষক নৃত্যানুষ্ঠান।

অন্তর দেওয়ানের পরিচালনায় চাকমা, রাখাইন ও বম সম্প্রদায়ের নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এরপরই ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন শ্রীলঙ্কার শিল্পীরা। সুইটি দাস চৌধুরীর পরিচালনায় ‘লাইহারাওবা’ শিরোনামে মনিপুরী নৃত্য পরিবেশন শেষে ভারতের শিল্পীদের অনবদ্য ‘বিহু নৃত্য’ পরিবেশিত হয়। এরপরই ছিল ভুটানের শিল্পীদের পরিবেশনা। এর আগে শিল্পকলার মাঠে লাঠিখেলা দেখানো হয়। এবারের উৎসবে ভারত, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের শিল্পীরা অংশ নিয়েছে।

১ ও ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে দেশগুলোর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য দলের পরিবেশনায় সার্ক ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশিত হয় এবং একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় সার্ক হস্তশিল্পের প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে প্রাণবন্ত আনুষ্ঠানিকতা।

সার্ক হস্তশিল্পের প্রদর্শনীতে ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ কররে। সার্ক হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও কর্মশালা এবং সার্ক ঐতিহ্যবাহী নৃত্য উৎসবের অংশ হিসেবে পৃথকভাবে দু’টি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ দুদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সার্ক হস্তশিল্প কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় চিত্রশালায়। এটি পরিচালনা করেন শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীন এবং সার্ক ঐতিহ্যবাহী নৃত্য কর্মশালার মুখ্য সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান।

৩ নভেম্বর রোববার একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে উক্ত আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং সার্ক কালচারাল সেন্টারের পরিচালক ওয়াসানথে কতুওয়েল্লা এবং সমাপনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

প্রতিদিনের ধারাবাহিকতায় বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উম্মুক্ত প্রাঙ্গণে অরুণ তালুকদারের পরিচালনায় সুনামগঞ্জের শাহ আব্দুল করিমের ঐতিহ্যবাহী গান ও ধামাইল নৃত্য পরিবেশিত হয়। এছাড়াও সমাপনী মঞ্চে নানা আয়োজনে মুখরিত হন উৎসুক হাজারও সংস্কৃতিপ্রেমী।

পুরো উৎসবটি সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হিসেবে আলো ফেলেছে। যার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আসরের বহুমাত্রীক আয়োজন উপভোগী দর্শক-দর্শনার্থীরা।

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers