বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ , ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিল্প-সংস্কৃতি

খারাপ দর্শক এবং খারাপ পরিচালকের যৌথ প্রচেষ্টায় খারাপ সিনেমা

নিউজজি ডেস্ক ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১৭:২০:২৯

194
  • খারাপ দর্শক এবং খারাপ পরিচালকের যৌথ প্রচেষ্টায় খারাপ সিনেমা

অডিও-ভিজ্যুয়াল হলেই সেটা সিনেমা হয়ে গেলো না। বিজ্ঞাপনও অডিও-ভিজ্যুয়াল মানে শব্দ আর দৃশ্য দিয়ে তৈরি। টিকটকও তাই। ইউটিউবেও তাই। ইন্সটাগ্রামেও তাই থাকে। কিন্তু পরিচালকরা এখন অনেকেই সিনেমাকেই টিকটক ভাবছেন। একটা কিছু বলে লোক হাসানোর ইচ্ছা এবং চেষ্টা। সফলও হচ্ছেন। সাধারণ দর্শক তাকেই সিনেমা ভাবছেন। দৃশ্য আর শব্দ হলেই সেটা সিনেমা হয়ে গেলো না। সেটা ১০০ কোটি টাকা ব্যবসা করলেও না। কতোটাকা ব্যবসা করলো তার উপর নির্ভর করে না যে সেটা একটা সিনেমা কিনা। ইউটিউব চ্যনেল দিয়ে ১০ কোটি টাকা আয় করলেই সেই চ্যনেলের কনটেন্ট সিনেমা হয়ে যায় না। সিনেপ্লেক্স এ সিনেমা দেখাতে পারলেই সেটা সিনেমা যায় না। আমার যেকোন কনটেন্ট আমি টাকা দিয়ে সিনেপ্লেক্স ভাড়া করে স্টার সিনেপ্লেক্স এ দেখালেই সেটাকে সিনেমা বলে না। সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন মরা মানুষকে দিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে থাকলেই সেটা সিনেমা হয়ে যায় না। সিনেমাতে অদ্ভূত সব চরিত্র এনে ছোট ছোট হাসির দৃশ্য আনলেই সেটা সিনেমা হয়ে যায় না। তাতে দর্শক পপকর্ন খেতে খেতে, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে ভালো সময় কাটাতে পারে কিন্তু ভালো সিনেমা দেখেছে সেটা বলতে পারে না। এখন দর্শক কিভাবে ভালো সিনেমা দেখবে? সত্যি কথা হলো একদল লোক মিলে যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে আমরা টিকটিক আর ইউটিউবের হাসি-তামাশাকে স্টার সিনেপ্লেক্সের পর্দায় দেখিয়ে সেটাকে সবাই মিলে সিনেমা নাম দেয়ার সম্মিলিত প্রয়াস চালাবো, সাথে রাখবো মিডিয়াকে যারা নিজেরাও সিনেমা কি বুঝে না বা ব্যবসার জন্য সবকিছুকেই সিনেমা বলে বা নিজেদের প্রোডাকশন বলে নিজেদের সিনেমাকে সিনেমা , “সেরা সিনেমা” , ঐতিহাসিক সিনেমা বলে নিজেদের পত্রিকাতেই প্রচার করতে থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য আসলেই সিনেমাকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এটা অনেকটা ঢাকার কুমিল্লার রসমালাই খাওয়ার মতো যেখানে কুমিল্লার আসল রসমালাই এর কিছুই নাই তাই ঢাকার লোক সেটাকে কুমিল্লার রসমালাই মনে করেই খেতে থাকে এবং আনন্দের ঢেকুর তোলে। আর আকরাম খানের “ঘাসফুল” বা “নকশীকাঁথার জমিন”, বা এন রাশেদ চৌধুরীর “চন্দ্রাবতী কথা” বা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের “ঊণপঞ্চাশ বাতাস” বা শাহনেওয়াজ কাকলীর “নদীজন” ইত্যাদি সিনেমাকে মানুষ ভুলে যেতে পারে না বা কোনোভাবে মনে রাখেই একবার দেখলেও কারণ এগুলো সিনেমার দিকেই যায়। মিডিয়া এগুলো নিয়ে কথা বলে না কারণ যে মানুষগুলো এই সিনেমা বানান তারা সিনেমা বানানোর দিকেই তাদের সমস্ত শ্রম , মেধা খরচ করেন। দীর্ঘদিনের ভাবনা-চিন্তার পর তারা এমন একটা সিনেমা বানান। মিডিয়ার লোকজনকে অনুরোধ করতে একটু লজ্জা পান। আপনারা অনেকেই জানেন, শাহরুখ খানের সিনেমা যিদি ১০০ কোটি টাকা সিনেমা বানাতে খরচ করেন তাহলে আরো ১০০ কোটি টাকা শুধু বিজ্ঞাপনে খরচ করেন। মানে বিজ্ঞাপনেই প্রায় আরেকটা সিনেমার খরচ লেগে যায়।। একজন ভালো এবং সত্যিকারের নির্মাতা ভাববেন এতো টাকা কেনো লাগবে সিনেমা বানাতে? তাই তিনি ঐ টাকা দিয়ে পারলে আরেকটা সিনেমা বানাবেন। তাও বিজ্ঞাপনে খরচ করবেন না। তাই আপনি  বিজ্ঞাপনে জর্জরিত হয়ে মোহে আক্রান্তের মতো সিনেমা দেখতে যাবেন না। আপনার সিনেমাটা দেখতে যান নাই বলে উনাদের সিনেমা খারাপও হয়ে যায় নি বা সেটা বাজে সিনেমা হয়ে যায় নি। সেই একইভাবে, আপনারা সবাই মিলে কোনো সিনেমা দেখতে গিয়েছেন বলেই কোনো সিনেমা ভালো সিনেমা হয়ে যায় নি। এই যে সিনেমা হলে অনেক দর্শক দেখিয়ে একটা সিনেমাকে ভালো সিনেমা বলার চেষ্টা সেটা একটা মিথ্যা প্রহসন , সেটা একটা আত্মপ্রশংসার মতো ব্যপার এবং সেটা দিন শেষে আত্মঘাতী-ই। এতে মারা যান পরিচালক এবং নিহত হন দর্শক। ভালো সিনেমার দর্শক বছরের পর বছর সিনেমাটা দেখেন। ভালো পরিচালক বছরের পর বছর সিনেমাটা যাতে মানুষ দেখে সেই আশাটাও করেন। ভালো বই এর মত। ভালো লেখকের মতো। সিনেমা বানাতে অনেক অনেক টাকা লাগে তাই যেমন তেমনভাবে সিনেমা বানালেই হলো বা যেভাবেই হোক টাকা বা লগ্নি উঠাতে হবে সেই ধারণাটা ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ঠিক আছে কিন্ত সিনেমার জন্য ঠিক নাই। আর দর্শকের দোহাই দিয়ে যা ইচ্ছা তাই বানানো মানে হলো নিজের দোষ, নিজের অক্ষমতা দর্শকের ঘাড়ে চাপানো। নিয়মিত ভালো সিনেমা হচ্ছে, হবে । ভালো দর্শক আছে, থাকবে। আপনারা খারাপ সিনেমা বানাবেন বলে ভালো দর্শক তৈরি হবে না সেটা ঠিক না। আপনারাই এই পৃথিবীতে একমাত্র পরিচালক না। সারা পৃথিবীর ভালো ভালো সিনেমা দেখার সুযোগ দর্শকদের সবসময় আছে।

 

ফিল্ম সোসাইটিগুলো কি এইসব নিয়ে কথা বলবে?

বিঃদ্রঃ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে মানুষের কর্মসংস্থান হোক , টাকা-পয়সা আসুক, কাজ থাকলে দক্ষ ট্যাকনিকাল লোকজন তৈরি হবে তার মানে এই না যে ব্যবসা করলেই আপনি একটা সিনেমাকে ভালো সিনেমা বলবেন। সেটা অন্যায়। সেটা নোংরামি। সেটা নির্লজ্জ লোকজনের কাজ।

যেকোন সিনেমা প্রথমবার দেখার সময় একটা আগ্রহ থাকেই, নতুন কিছু দেখার আগ্রহ। কারণ আপনি সিনেমাটা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অবাক হওয়া ব্যপার বা চমৎকৃত হওয়ার ব্যপার।  পুরোসিনেমাটা আপনি প্রথমবার অবাক হয়েই দেখেন কারণ আপনি এই সিনেমার কিছুই জানেন না। জানতে জানতেই সিনেমাটা শেষ হয়। তারপর সেই সিনেমা ভালো কি খারাপ সেই আলাপ শুরু হয়। তাও সেটা একবার দেখে সম্ভব না। ভালো সিনেমা হলে হয়তো সিনেমার পরে সেই সিনেমা আবার দেখার ইচ্ছা হবে, সেটা নিয়ে ভাবতে ইচ্ছা হবে, লিখতে ইচ্ছা হবে, কথা বলতে ইচ্ছা হবে। আজকার অনেক দেশেই চেষ্টা করা হয় প্রথম শোতেই কিভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শককে ঢুকানো যায় সিনেমা হলে, তাতে আয়ও বাড়ে। এবং দর্শক সিনেমাটা ভালো কি খারাপ বুঝে উঠার আগেই টাকা উঠানো হয়ে যায়। উঠাক টাকা! তাই বলে সিনেমাটা সেইজন্য ভালো সিনেমা হয়ে যায় না। যথেষ্ট পরিমাণে ভালো সিনেমা না দেখলে আপনি সহজে এমনিতেও ভালো সিনেমা কি বুঝতে পারবেন না। আর ভালো সিনেমা বুঝার জন্য দর্শক হিসাবে আপনারও একটা প্রস্তুতি থাকা চাই। যেমন ভালো গান শুনতে হলে অনেকদিন ধরে ভালো গান শুনার অভ্যাস থাকতে হয়। যিনি অনেক বই পড়েছেন, নিয়মিত বই পড়েন তিনি ভালো বই নিজেই খুঁজে নিতে পারেন। সিনেমার ক্ষেত্রেও তাই। বই এর ক্ষেত্রে আপনি যেমন বাজারি বা হালকা বই বলেন তেমনি সিনেমার ক্ষেত্রেও বাজারি বা হালকা সিনেমা আছে। প্রচুর পরিমানেই আছে। এগুলো প্রচুর পরিমাণেই থাকে!

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers