বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৭ সফর ১৪৪৮

শিল্প-সংস্কৃতি

আমার দেখা অভিশঙ্করের প্রদর্শিত চিত্রাবলী

তানজিমা তাবাচ্ছুম এশা ১১ জুন, ২০২৬, ১০:৩৮:১৪

246
  • সংগৃহীত

হয়তো সময়টা ২০০৭ সালের প্রথম দিকের কোন এক মাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসের জয়নুল গ্যালারিতে একটি গ্রুপ শোয়ের এক দেয়ালজুড়ে বড় ক্যানভাসে জাহাঙ্গীরনগরের অতিথি পাখির উড়ে যাওয়ার দৃশ্য। প্রথম দেখায় মনে হচ্ছিল, এটি কোন পেইন্টিং নয়; যেন সামনে বাস্তব চিত্র। এটাই ছিল শিল্পী অভিশঙ্কর আইনের পেইন্টিংয়ের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা।

এরপরে অভিশঙ্করের প্রচুর কাজের সঙ্গে পরিচয়; সে হোক ওয়াটার কালারে পুরোনো বাড়ির সামনে গাছের ঝোঁপ কী চারুকলার ছোট পন্ড বা ফিগার ড্রইং …

এরপর এলো তার প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী। এ যেন কোনো এক স্বপ্ন স্বপ্ন বাস্তবতা। পেইন্টিংগুলো খুব রিয়েলিস্টিক। কিন্তু উপস্থাপনায় স্বাপ্নিক এক বিষয় লক্ষণীয়। অনেকটা ম্যাজিক্যাল। এরপর এলো দ্বিতীয় চিত্র প্রদর্শনী। এ যেন সুন্দরবন থেকে এক ঝাঁক হরিন গ্যালারিতে চলে এসেছে।

কিন্তু আজ কথা বলবো, অভিশঙ্করের তৃতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী ‘অ্যাটমোসফিয়ার্স অব টাইম’ নিয়ে। যা সম্প্রতি শেষ হয়েছে প্ল্যাটফর্মস গ্যালারিতে। একটা দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত। এখানে আবার অভিশঙ্করের সম্পূর্ণ ভিন্ন উপস্থাপনা। সুপার রিয়েলিস্টিক পেইন্টিংয়ের বদলে বিমূর্ত চিত্রাবলী। বিমূর্ত মুগ্ধতার মাঝে ফুটে উঠেছে পৃথিবীর ঋতু রং; মিষ্টি রোদ; কখনো বৃষ্টি; কখনো কোনো উপত্যকায় নির্জন জোৎস্না পাতায় পাতায় ঝরে পড়া; আবার কখনো বা জল পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নদীতে গিয়ে পড়া; উত্তাল সাগরের উন্মত্ত ঝড়; আবার একই সাথে অশান্ত সাগরের সাথে ঠিক তার নিচে শান্ত গভীরতা। রয়েছে রংয়ের লেয়ারের সঙ্গে সঙ্গে টেস্কচারের খেলা। এ যেন ভিন্ন ভাষায় এই ভূখন্ডের ভৌগলিক রূপ তুলে আনা।

কেউ একজন বলেছিল, ‘নাহ। অভিদার কাজে অ্যাবস্ট্রাক্ট বা ভেঙে চুড়ে ফেলার মজাটা নাই।’ কিন্তু আমি বলি, ‘কিছু ভাঙাচোড়া বা নিয়ম ভাঙা দেখতে পাওয়া যায় না।’

লেখক: চিত্রশিল্পী এবং চারু ও কারু প্রশিক্ষক

নিউজজি/এসডি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers