রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯ , ২৮ সফর ১৪৪৪

শিল্প-সংস্কৃতি

সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’র বিরুদ্ধে সহকারী নির্মাতার অভিযোগ

নিউজজি প্রতিবেদক ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৬:৫৪:১৫

65
  • সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’র বিরুদ্ধে সহকারী নির্মাতার অভিযোগ

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনকে দস্যুমুক্ত করার দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর)। এখন চলছে সিনেমাটির শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। মুক্তির আগেই পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সিনেমাটির সহকারী পরিচালক তানিন খান৷ এ নিয়ে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেখানে জানিয়েছেন, শুটিংয়ের বিভিন্ন ঘটনা ও ভুল করায় নির্মাতার চড়ও খেতে হয়েছিল তাকে।

২০১৯ সালে দ্বিতীয় ভাগের শুটিংয়ের সময় সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তানিন। প্রথম ভাগের ৮-৯ দিনের শুটিং হলেও কিছু অংশ ফের রিশুট করতে হয়েছিল। সিনেমাটিতে তিনজন সহকারীর মধ্যে তানিন একজন। সিনেমার জন্য প্রস্ততি নিতে তাদের ২ মাস লেগেছিল। নির্মাতার সঙ্গে রাত-দিন পরিশ্রম করে দ্বিতীয় ভাগের শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। খুলনাতে দ্বিতীয় ভাগে ১৩ দিন শুটিং হয়। এরপর তিন দিনের বিরতি নিয়ে তৃতীয় ভাগের শুটিং হয়। 

এ প্রসঙ্গে এই সহকারী পরিচালক বলেন, অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল আমাদের শুটিং শেষ করতে। সিনেমাটির প্রযোজকের দায়িত্ব পান র‌্যাবের লিগ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাইসুল স্যার। সবকিছুই দেখভাল তার ওপর ছিল। তানিন টিমে যুক্ত হওয়ার পর নিজের পারিশ্রমিকের কথা নির্মাতাকে জানালে তিনি প্রযোজককে কল দিতে বলেন। তাকে বললে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। যেহেতু দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের পারিশ্রমিক পাননি, তাই তানিন জানিয়ে দেন টাকা না পেলে পরবর্তী ভাগের শুটিং করতে পারবেন না। কারণ তার ২৭ দিনের পারিশ্রমিক বকেয়া। মাত্র ২৫ হাজার টাকায় কাজের জন্য রাজি হয়েছিলেন তানিন। নির্মাতার এককথায় কাজটি করতে রাজি হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

তানিন বলেন, করোনার শুরুর দিকে প্রযোজক পারিশ্রমিকের মধ্যে ৫ হাজার টাকা বিকাশে পরিশোধ করেন। বাকি টাকা এখনো পাইনি। যদি দীপনদা র‌্যাবকে পুরো টাকাটা আমায় দিতে বলতো, তাহলে অবশ্যই তারা সেটা পরিশোধ করত। কিন্তু সেটা সে করেনি। টাকাটা আমার কাছে কোনো বিষয় ছিল না। বিষয় হলো- কয়েকদিন আগে আমি দীপনদাকে ফেসবুকে মেসেজ দেই যে, দাদা আমার টাকাটা প্রয়োজন, প্রায় ৩ বছর হতে চলল কাজটা শেষ করার। তো উনি আমায় গত রোববার র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে রাইসুল স্যারের সাথে কথা বলতে যেতে বলেন।

আমি সেটাই করলাম, গেলাম ওখানে। রাইসুল স্যার আমায় লাঞ্চ করতে বললেন, উনি তখন মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। দুপরের খাবার খেলাম ওখানে। এরপর কিছুক্ষণ পর উনি আমায় ডেকে পাঠালেন, বললেন  তুমি দীপনকে এত কল, মেসেজ করে বিরক্ত করো কেন, তার এক্সপ্রেশনে খুব বিরক্তির ছাপ ছিল। আমি রীতিমতো বললাম, স্যার আমি এখনো টাকা পাই। আমার বাকি টাকাটা ক্লিয়ার করে দিন, আমি খুব ফিনানশিয়ালি সমস্যায় আছি। তো উনি আমাকে শুধু বললেন, এরপর থেকে দীপনকে আর কল করবে না, সে খুব চাপে আছে। এখন যাও দীপন আসুক সামনাসামনি কথা হবে। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ‘ভদ্রবেশি থ্রেট’ মনে হয়েছে। তাকে আমি বুঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু সে আমায় আর সময় দিল না। ফাইনালি আমি সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসি। 

আমার কথা হচ্ছে এই সামান্য কথা আমাকে দীপনদা ফোনেই বলতে পারতেন। এত কষ্ট করে সেখানে গিয়ে এগুলো কথা শোনানোর কোনো দরকার ছিল না তার। সে আমাকে বলতে পারত যে, সিনেমা মুক্তির পরে টাকা দিব বা তারও পরে। কিন্তু এভাবে ডেকে এনে অপমান করার দরকার ছিল না দাদা।

দীপনকে শুটিংয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তানিন লেখেন, আপনি আমায় সেটে সবার সামনে চড় মেরেছিলেন, একটু কাজে ভুল হওয়ার জন্য। কিন্তু আমি সেদিন কোনো রিয়েক্ট করি নাই আপনার ওপর। বরং সেটাকে আমার উপদেশ হিসেবে মেনে নিয়েছিলাম। চড় খাওয়ার পরও আমি কিন্ত হাসি মুখে আবারও কাজ করেছি। কাউকে বুঝতে দেই নাই আমার কষ্টটা। সবার সামনে অপমানিত হওয়ার যে কি কষ্ট দাদা- এটা আপনাকে বুঝাতে পারব না। সেদিন শিপে সবাই আমায় নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। আপনার প্রতি সম্মান আমার একটুও কমেনি দাদা। তবে কি জানেন দাদা, বার বার একটা মানুষের সাথে এভাবে করলে তারও ধৈর্যের সীমা থাকে না, সেটা একসময় ভেঙ্গে যায়। দাদা, কথাটা আপনি আমায় বলতেন আমি সত্যি এটা নিয়ে লিখতাম না। কিন্তু রাইসুল স্যারকে দিয়ে কেনো আপনি আমায় অপমানিত করালেন, থ্রেট করালেন?

প্রশ্ন রেখে তিনি লেখেন, আমার র‌্যাবের রাইসুল স্যারের প্রতি কোনো আক্ষেপ নেই এই বিষয়টা নিয়ে। কারণ আপনি না বললে সে হয়তো এগুলো আমায় বলতেন না। তাই আপনার প্রতি আমার অনেকটা আক্ষেপ হচ্ছে। বলতে পারেন আক্ষেপ অভিমান দুটোই রয়েছে। যেগুলো আর ধরে রাখতে পারছিলাম না তাই এখানে বলে দিলাম। কারণ আপনি তো ফোন বা মেসেজ করতে নিষেধ করে দিয়েছেন। তাই এখানে বললাম, হয়ত আপনি আমার এই পোস্ট দেখবেন। কিন্তু আমার সাথে কেন এমনটা করলেন। আমার অপরাধ কী?

তিনি লেখেন, আমাদের এই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে আমার মতো এমন অনেক কলাকুশলীরা তাদের পারিশ্রমিক পাইনি। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর প্রডিউসার, পরিচালকরা সবার টাকা আজ দেবো কাল দেবো করে আর দেয়নি। অনেকেই আমার মতো থ্রেটের শিকারও হয়েছেন। কিছু এসব লোকদের জন্য এই মিডিয়া পাড়া থেকে অনেক স্ট্রাগল করা ফিল্ম মেকার, কলাকুশলীরা মিডিয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কত স্বপ্নবাজরা ঝড়ে গিয়েছেন এসবের জন্য। এভাবে আর কতদিন? এই সিস্টেমটার পরিবর্তন হওয়া জরুরি খুব জরুরি। হয়ত এগুলো লেখার জন্য আমি প্রশাসনিকভাবে হুমকির শিকারও হতে পারি, আমার লাইফ রিক্সটাও রয়েছে অনেক। হোক যা হবার, তারপরও এই সিস্টেমটার পরিবর্তন চাই।

এই সহকারী পরিচালকের স্ট্যাটাসে উঠে আসে অনেক অমানুষিক পরিশ্রমের গল্পও। এ বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব কিংবা সিনেমা কর্তৃপক্ষ থেকে এখনো অফিশিয়াল কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে তানিনের বক্তব্যের সঙ্গে মিডিয়া জগতের অনেকেই একমত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে এমন অনেক কলাকুশলীরা মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পারিশ্রমিক পান না, কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

নিউজজি/রুআ/

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন