সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ , ১১ সফর ১৪৪৩

শিল্প-সংস্কৃতি

আজ ববিতাকে শুভেচ্ছা জানানোর দিন

নিউজজি প্রতিবেদক ৩০ জুলাই, ২০২১, ১২:১২:৩১

  • আজ ববিতাকে শুভেচ্ছা জানানোর দিন

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত এক অভিনেত্রী নাম ববিতা। ৭০ ও ৮০ দশকে অদম্য নায়িকা হয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের সাদাকালো পর্দায় আলো ছড়ানো এই অভিনেত্রী এখনো দর্শক-হৃদয়ে অমলিন। 

কালের বিবর্তনে তিনি নায়িকা থেকে সিনিয়র চরিত্রে এসেছেন। কিন্তু অভিনয়ের গুণে এখনো তিনি অনন্য, অতুলনীয়। আজ (৩০ জুলাই) খ্যাতিমান এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। তাকে শুভেচ্ছা-শুভকামনা জানানোর দিন। 

জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন লাস্যময়ী এই অভিনেত্রী।

১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন যশোরে (বর্তমান বাগেরহাট) জন্মগ্রহণ করেন ববিতা। তার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। কিন্তু চলচ্চিত্রে আসার পর পরিচিতি পেয়েছেন ববিতা নামে। পৈতৃক বাড়ি যশোরে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে বাগেরহাটে থাকতেন তারা। বলা যায়, পারিবারিকভাবেই তারা অভিনয়শিল্পী গোষ্ঠী। কারণ তার বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পা বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এছাড়া জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানি তার ভাগ্নে এবং সেই সুত্রে মৌসুমী তার ভাগ্নের বউ। আবার চিত্রনায়ক রিয়াজ তার চাচাত ভাই এবং নির্মাতা জহির রায়হান তার ভগ্নিপতি।

ববিতার শিক্ষাজীবন শুরু হয় যশোর দাউদ পাবলিক বিদ্যালয়ে। সেখানে পড়াকালীন বড় বোন সুচন্দা চলচ্চিত্রে অভিষেকের সুবাদে পরিবারসহ ঢাকায় চলে আসেন ববিতা। গেন্ডারিয়ায় গড়েন আবাস। উল্লেখযোগ্য কোনো শিক্ষাগত সার্টিফিকেট না থাকলেও ববিতা একজন অভিনেত্রী হিসেবে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের ভাষা শিখেও নিজেকে করেছেন স্বশিক্ষিত।

চলচ্চিত্রে আসার পেছনে ববিতার জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার বড় বোন সুচন্দ। কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের ‘সংসার’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৬৮ সালে অভিষেক হয় ববিতার। এই চলচ্চিত্রে তিনি রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। ববিতার নাম ফরিদা আক্তার পপি থেকে ‘ববিতা’ হয় জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। নায়িকা হিসেবে ববিতার প্রথম ছবি ‘শেষ পর্যন্ত। এটি মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট, যেদিন ববিতার মা মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এরপর থেকে অভিনয়ে নায়িকা হিসেবে শাসন করেন ৭০ দশক। অর্জন করেন তুমুল জনপ্রিয়তা। বাণিজ্যিক ছবির অন্যতম সফল নায়িকা হিসেবে গণ্য করা হয় ববিতাকে। কেননা গ্রামীণ মেয়ের চরিত্রে কিংবা শহরের মডার্ণ তরুণী, সব চরিত্রেই তিনি সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন।

জহির রায়হান পরিচালিত ‘টাকা আনা পাই’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ববিতার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরলেও তার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র বলা হয় ‘অশনি সংকেত’কে। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় এই ছবিতে অভিনয় করে ববিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দারুণ প্রশংসা অর্জন করেন। 

ক্যারিয়ারে প্রায় ২৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন ববিতা। এর মধ্যে ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ডুমুরের ফুল’, ‘বসুন্ধরা’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘নয়নমনি’, ‘লাঠিয়াল’, ‘মা’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দহন’, ‘দিপু নাম্বার টু’, ‘অশনি সংকেত’, ‘রামের সুমতি’, ‘নাগ-নাগিনী’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘মিস লংকা’, জীবন সংসার’, ‘লাইলি মজনু’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’ ছবিগুলো উল্লেখযোগ্য।

অভিনয়ের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্যারিয়ারে অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন ববিতা। একটানা তিন বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি থেকে সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কার পান তিনি। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ববিতা। তিনিই বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সবচেয়ে বেশিবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন।

নিউজজি/ওএফবি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers