শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ , ১৩ শাবান ১৪৪৫

দেশ
  >
জনপদ

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝি হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

কক্সবাজার প্রতিনিধি ২৮ নভেম্বর , ২০২৩, ১৭:২০:১৭

85
  • ছবি : নিউজজি

কক্সবাজার: উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সাবেক হেড মাঝি আতাউল্লাকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম আসামী আহসান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫। সোমবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কক্সবাজার সদরের দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আহসান উল্লাহ ১৯নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এ/৮ এর কাদের হোসেনের ছেলে। নিহত সাবেক হেড মাঝি আতাউল্লাহ একই ক্যাম্পের এ/১ ব্লকের বাসিন্দা এবং ওই ব্লকের সাব মাঝি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আবু সালাম চৌধুরী এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ২৫ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে পালংখালীর ঘোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯ এ আতাউল্লাহ নামে একজনকে আরসার সদস্যরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে এবং নির্মম এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরবর্তীতে নিহত আতাউল্লাহর ছেলে বাদী হয়ে এজাহানামীয় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

বিষয়টি সর্ম্পকে অবগত হওয়ার পরপরই র‌্যাব-১৫ এর চৌকস আভিযানিক দল ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। তারই ধারাবাহিকতায় মামলা দায়েরের ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় অন্যতম আসামি আহসান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আহসান উল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বছর খানেক আগে আতাউল্লাহকে সরিয়ে দিয়ে সোনা মিয়া নামক এক রোহিঙ্গাকে ক্যাম্প-১৯ এর এ ব্লকের হেড মাঝি এবং আতাউল্লাহকে ব্লক-এ/১ এর সাব মাঝি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তী হেড মাঝি সোনা মিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি গোলাগুলির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বর্তমানে কারাবরণ করছে। হেড মাঝি সোনা মিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর ক্যাম্প-১৯, ব্লক-এ এর হেড মাঝি হওয়ার জন্য আতাউল্লাহ’সহ আরো অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা শুরু করে। এনিয়ে আতাউল্লাহ’র সাথে কয়েকজনের শত্রুতা তৈরি হয়, যারা আরসার সাথে একটি সু-সম্পর্ক রক্ষা করে চলছে। তাছাড়া গত দুই মাসে এপিবিএন পুলিশ কর্তৃক আরসার ২ জন অন্যতম সন্ত্রাসী হাতকাটা ফয়সাল এবং খাইরুল আমিন গ্রেপ্তার হওয়ায় আরসা সদস্যরা সন্দেহ পোষণ করছিল যে, আতাউল্লাহ এপিবিএন পুলিশকে আরসা সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে এই ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সুবাদে আতাউল্লাহ’র প্রতিদ্বন্দ্বীরা আরসার সাথে যোগসাজশে তাকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রেপ্তারকৃত আসামি রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯ এর এ/৮ ব্লকের ভলান্টিয়ার মাঝি আহসান উল্লাহ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আতাউল্লাহ’কে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গা সদস্যের সাথে আলোচনা করার জন্য ক্যাম্প-১৯ এর এ/৯ ব্লকের মোহাম্মদ ইয়াছিনের পান-সিগারেটের দোকানের সামনে আসার জন্য বলে। আতাউল্লাহ দোকানের সামনে পৌঁছা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ৮/৯ জন আরসার সদস্য দেশীয় ধারালো রামদা ও ছোরা দিয়ে আতাউল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন