শুক্রবার, ৬ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ , ২৬ জিলহজ ১৪৪২

দেশ

ভাসানচরে ডায়রিয়ায় ৩ শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি ১৬ জুন, ২০২১, ১৪:৩৯:৪২

  • ছবি : ইন্টারনেট।

নোয়াখালী: দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ১৫ দিনে ১ হাজার ৬০০ নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় মারা গেছে তিন শিশু।

মৃত শিশুরা হলো- ক্যাম্পের ১০ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা মো. সিরাজের মেয়ে জয়নব (১), ৫৬ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা জানে আলমের ছেলে জিসান (২) এবং ৫৫ নম্বর ক্লাস্টারের আবদুর রহিমের মেয়ে উম্মে হাবিবা (৩ মাস)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ ছাড়া সঠিক পদ্ধতিতে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে না পারা, খাওয়ার আগে ও মল ত্যাগের পরে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার না করা এবং তীব্র গরমের কারণে ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই অপুষ্টিতে ভুগছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টায় ভাসানচর ২০ শয্যার হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানভীর আনোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০ শয্যার হাসপাতালে সব সময় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। শয্যার অভাবে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় রোগীদের রেখে চিকিৎসা চলছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী ডায়রিয়া নিয়ে আসছেন। গত ১৫ দিনে ১৬০০ রোগীকে হাসপাতাল ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুষ্টিহীনতা ও ডায়রিয়ায় তিন শিশুর মৃত্য হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে অন্য রোগী ভর্তি না করে শুধু ডায়রিয়া রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও এখন নেই। পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে ও জেলা থেকে আরও পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ করে ভাসানচরে ডায়রিয়ায় প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ভাসানচরের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীরা। তবে পর্যাপ্ত কলেরা স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ১৮ হাজার ৩৪৭ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর ক্যাম্পে রয়েছে। তাদের চিকিৎসাসেবায় রয়েছে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল। পাশাপাশি ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এতে আন্তঃ ও বহির্বিভাগের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চিকিৎসাসেবা দিতে দুইজন মেডিকেল অফিসার, দুইজন উপসহকারী কমিউনিটি অফিসার, দুইজন স্টাফ নার্স, একজন মিডওয়াইফ, দুইজন ওয়ার্ডবয় ও দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, তীব্র গরমের পর বৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশঙ্কাজনকহারে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন কাজ করছেন।

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers