রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেশ

শরতের শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল

মো. আমিরুল ইসলাম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:১০:৪৫

191
  • ছবি : সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ: শরতের মৃদু হাওয়ায় দুলছে কাশফুল। অনেকটা জায়গা জুড়ে সাদার মেলা বসিয়েছে কাশফুল, সাথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে চারদিকে। শরৎকালকে ঘিরে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে শাহজাদপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া বালুচর এলাকা। কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিনে এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পূর্ব প্রান্ত জুড়ে এখন যেন সাদা প্রকৃতি যোগ করেছে ভিন্ন এক মাত্রা।

পুরো শরৎকাল কাশফুলের সাদা-ধূসর সাম্রাজ্য সবাইকে মুগ্ধ করে। সাধারণত ভাদ্র মাসের শেষদিকে কাশফুল ফুটতে শুরু করে। এ সময় পুরো এলাকা সাদা হয়ে যায়। কার্তিক মাস পর্যন্ত কাশফুল থাকে। প্রায় ৫ বিঘা জায়গাজুড়ে কাশফুল ফুটেছে। লম্বা-চিরল সবুজ পাতার বুক থেকে বেরিয়ে আসা কাশফুল থোকায় থোকায় দুলছে, আবার কোথাও ঠাস বোনা গুচ্ছ। হঠাৎ মনে হবে, সেখানে সাদা চাদর বিছানো। শুভ্র আকাশে শীতল হওয়ায় ভেসে আসছে কাশের বনে। হাওয়ায় নেচে উঠছে শুভ্র কাশফুল।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে করে সকাল-বিকেল আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সের মানুষ এই কাশবনে বেড়াতে আসছে। স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধুবী কেউ বাদ যাচ্ছেনা কাশফুলের রাজ্যে আসা।

বিকেল হলেই প্রচুর মানুষের ভীড় জমে। ছবি তোলে, ভিডিও করে। কেউ আবার দু-চারটি কাশফুল ছিঁড়ে তোড়ার মতো তৈরি করছেন। আশপাশের শিশুরা কাশবনে খেলায় মেতে উঠেছে। এ যেন কাশফুলের নরম ছোঁয়ায় মনে প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমীরা। বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের। এসব কাশবনের সৌন্দর্যে মাতোয়ারা হচ্ছে মানুষ।

প্রতিদিন ঢল নামছে, ছোট বড় সবাই দেখার জন্য ছুটে আসছে। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে মুক্ত আনন্দ পেতে প্রতিনিয়ত মানুষ ছুটে আসছে এ কাশবনে। বিশেষ করে শেষ বিকেলে কাশবনের সৌন্দর্য আরও অনেকগুণ বেড়ে যায়। গ্রামীণ পরিবেশ ও সূর্যাস্তের সময় বেশি মানুষ ঘুরতে আসে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা জানান, একসাথে এত কাশফুল দেখতে বেশ ভালোই লাগে। আমরা এ শহরেই লেখাপড়া করি তাই বন্ধুদের নিয়ে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। খুব ভাল লাগছে।

কান্দাপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হাকিম বলেন, কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষ এখানে আসেন। এদের মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। তবে এ ফুল বেশিদিন থাকে না। ১/২ মাসের মধ্যেই ফুল বাতাসে উড়ে যায়। কয়েকদিন পর এ ফুল আর দেখা যাবে না।

স্কুল শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, পৌর শহরে হওয়ায় কাশফুলের সৌন্দর্যের টানে পরিবার নিয়ে ছুটে এসেছি। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য। পরিবার নিয়ে বেড়ানোর মতো একটি জায়গা।

গৃহবধূ আছমা বেগম বলেন, শহরের মধ্যে কাঁশ ফুলের বাগান, তাই ছোট বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে একটু ঘুরতে এসেছি। এই ফুলের সৌন্দর্য ভালভাবে উপভোগ করছি। 

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুলের মধ্যে কাশফুল অন্যতম। এই ফুল শুধু শাহজাদপুরের কান্দাপাড়া নয়, যুমনা নদীর কৈজুরী, ভাটপাড়া, জগতলা এমনকি হুরাসাগর নদীর অবাহিকায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। কাশবন শুধু প্রকৃতিপ্রেমীদের মনের তৃপ্তি মেটায় না। এ কাশবন দিয়ে এক সময় মানুষ বসবাসের ঘর তৈরি করতেন। এখন পানের বজ্র্যে ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই সাথে রান্নার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। শাহজাদপুর পৌরসভার কান্দাপাড়ার জায়গাটি অনেক সুন্দর। আর কাশফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছে সবাই।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers